Ajker Patrika

সেন্ট মার্টিনে জাহাজ চলবে কবে, জানা গেল যা

কক্সবাজার প্রতিনিধি
আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ২১: ২৭
সেন্ট মার্টিনে জাহাজ চলবে কবে, জানা গেল যা
সেন্ট মার্টিন। ফাইল ছবি

আগামী ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য সেন্ট মার্টিন দ্বীপ উন্মুক্ত করছে সরকার। তবে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমোদন না পাওয়া ও ঘাট নিয়ে জটিলতায় নির্ধারিত দিনে এই রুটে জাহাজ চলাচল শুরু হচ্ছে না।

জাহাজমালিকদের আশা, আগামী ৫ বা ৬ নভেম্বরের মধ্যে প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া যাবে। এরপর জাহাজ চলাচলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অনুমোদনের অপেক্ষায় জাহাজমালিকেরা

জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সেন্ট মার্টিন রুটে জাহাজ চলাচলের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পাশাপাশি নৌপরিবহন অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ছাড়পত্র প্রয়োজন। এ ছাড়া জাহাজের অগ্নিনিরাপত্তা সনদ নিতে হবে। সব ছাড়পত্র পাওয়ার পর জেলা প্রশাসন চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে।

গত রোববার (২৫ অক্টোবর) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে ১ নভেম্বর থেকে সেন্ট মার্টিনে পর্যটক যাতায়াতের বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকেরা দ্বীপে যাতায়াত করতে পারবেন। এ সময় প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটক যাওয়ার সুযোগ পাবেন।

জাহাজমালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইনুল ইসলাম বাহাদুর বলেন, এখন পর্যন্ত শুধু পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র পাওয়া গেছে। নৌপরিবহন অধিদপ্তর ও বিআইডব্লিউটিএর অনুমোদন মেলেনি। এসব অনুমোদন পেতে ৫ থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

নুনিয়ারছড়া ঘাট নিয়ে আপত্তি, বিকল্পের প্রস্তাব

হোসাইনুল ইসলাম বাহাদুর বলেন, গত দুই বছর কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া ঘাট দিয়ে সাতটি জাহাজে প্রতিদিন দুই হাজার পর্যটক সেন্ট মার্টিন যেতেন। এবার পর্যটকসংখ্যা বাড়ায় ১০টি জাহাজের অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। কিন্তু ছোট নুনিয়ারছড়া ঘাটে সব জাহাজ নোঙর করা কঠিন। এতে পর্যটকদের ওঠানামায় সমস্যা ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে ঘাট পরিবর্তনের আবেদন করা হয়েছে। বিকল্প হিসেবে খুরুশকুল আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘাট ও ইনানী জেটিঘাটের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএর চট্টগ্রাম দপ্তরের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) নয়ন শীল বলেন, জাহাজমালিকেরা পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রসহ আবেদন করলে তা দ্রুত বিবেচনা করা হবে। তবে এখনো কোনো আবেদন জমা পড়েনি। খুরুশকুল আশ্রয়ণ প্রকল্পের পাশে নির্মাণাধীন জেটিটির কাজ শেষ হয়নি এবং সেটি বিআইডব্লিউটিএর কাছে হস্তান্তরও করা হয়নি। তাই আপাতত নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকেই জাহাজ চলাচল করবে।

অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করার তাগিদ

টেকনাফ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) কামরুজ্জামান বলেন, জাহাজে অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার, বহনযোগ্য পাম্প, লাইফ জ্যাকেটসহ পর্যাপ্ত উদ্ধার সরঞ্জাম থাকা বাধ্যতামূলক। জাহাজ চলাচলের চূড়ান্ত অনুমতি মিললে অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে তদারকি করা হবে।

এদিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে অস্থিরতার কারণে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে টেকনাফের দমদমিয়া জেটি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। চলতি বছরও এ সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে বলে জানিয়েছেন টেকনাফের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী।

৪ নভেম্বর বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনীম জাহান বলেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ জাহাজ কর্তৃপক্ষের আবেদন পাওয়ার পর যাচাই-বাছাই করে চলাচলের অনুমোদন দেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান জানান, আগামী ৪ নভেম্বর চট্টগ্রামে বিভাগীয় পর্যায়ে বৈঠকে সেন্ট মার্টিন রুটে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পর্যটন ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী বলেন, পর্যটনসংক্রান্ত শর্তগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টরা তৎপর রয়েছেন। ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের দ্বীপ ভ্রমণের নিবন্ধনের জন্য ট্যুরিজম বোর্ডের ওয়েবসাইট খুলে দেওয়া হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত