শিশুকন্যাকে হত্যার পর বাবাকে বিষ পান করিয়ে হত্যা: প্রতিবেশীকে প্রধান আসামি করে মামলা

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে চার বছরের শিশু তওবা ও তার বাবা গোলাপ হোসেনকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় সিরাজদিখান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্যরাতে নিহত গোলাপ হোসেনের বাবা জয়নাল মিয়া বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় আটক প্রতিবেশী সোহরাব ব্যাপারীকে (৬০) প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া কুয়েতপ্রবাসী আমির হোসেন মাতবরসহ (৬২) আরও ১২ থেকে ১৩ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।
প্রধান আসামি সোহরাব উপজেলার লতব্দী ইউনিয়নের দোসরপাড়া গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে।
সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘গতকাল দিবাগত মধ্যরাত ১২টার দিকে মামলাটি থানায় রুজু করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি সোহরাব পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। তাঁকে আদালতে সোপর্দ করার আইনি প্রক্রিয়া চলছে।’
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার রাতে সিরাজদিখান উপজেলার পাথরঘাটা এলাকায় পৌঁছালে বাবা-মেয়ের ওপর একদল মুখোশধারী দুর্বৃত্ত হামলা চালায়।
দুর্বৃত্তরা চার বছরের শিশু তওবাকে গলা কেটে হত্যা করে নির্জন স্থানে ফেলে রাখে। একই সঙ্গে তার বাবা গোলাপ হোসেনকে (৩০) ধারালো অস্ত্র দিয়ে মারাত্মক জখম করার পাশাপাশি জোরপূর্বক বিষ পান করানো হয়।
পরদিন গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার রামকৃষ্ণদী গ্রামের একটি পরিত্যক্ত ইটভাটার ফাঁকা জমি থেকে শিশু তওবার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
অন্যদিকে গুরুতর জখম অবস্থায় উদ্ধার হওয়া গোলাপ হোসেনকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আনা হলে গতকাল বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
পুলিশ জানায়, এই ডাবল মার্ডারের নেপথ্যে কোনো পূর্বশত্রুতা, পারিবারিক বিরোধ নাকি জমিসংক্রান্ত কোন্দল রয়েছে—তা উদ্ঘাটনে গভীর তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।










