Ajker Patrika

র‍্যাব-প্রশাসনের অভিযানে মিলল নামীদামি ব্র্যান্ডের বস্তায় সরকারি চাল

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
আপডেট : ১৩ মে ২০২৬, ১৮: ১৭
র‍্যাব-প্রশাসনের অভিযানে মিলল নামীদামি ব্র্যান্ডের বস্তায় সরকারি চাল
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জেলা প্রশাসন, র‌্যাব ও খাদ্য বিভাগের যৌথ অভিযানে নামীদামি ব্র্যান্ডের বস্তায় সরকারি চাল জব্দ করা হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সরকারি খাদ্য সহায়তার চাল আত্মসাৎ করে বিভিন্ন নামীদামি ব্র্যান্ডের বস্তায় ভরে বাজারজাত করার অভিযোগে এক গুদামের মালিককে আটক করা হয়েছে। তাঁর গুদাম থেকে ৫৭৮ টন সরকারি চাল জব্দ করেছে প্রশাসন।

জেলা প্রশাসন, র‍্যাব ও খাদ্য বিভাগ আজ বুধবার দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীতাকুণ্ড উপজেলার কদম রসুল এলাকার পরিত্যক্ত সালেহ কার্পেট মিলের একটি গুদামে যৌথ অভিযান চালায়। এ সময় চাল জব্দের পাশাপাশি গুদামের মালিক মো. আব্দুল আজিজকে আটক করা হয়। একই সঙ্গে সরকারি চাল আত্মসাৎ ও বাজারজাতের সঙ্গে জড়িত সংঘবদ্ধ চক্রের সন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে র‍্যাব ও প্রশাসন।

অভিযানে অংশ নেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আলমগীর হোসেন, র‍্যাবের কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার তাওহীদুল ইসলাম, র‍্যাবের এসপি সাইফুর রহমান, উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা রাজিব কুমার দেসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

অভিযানে গুদামের ভেতরে সারবদ্ধভাবে রাখা বিপুল পরিমাণ চালের বস্তা দেখতে পান কর্মকর্তারা। অনেক বস্তায় সরকারি খাদ্য কর্মসূচির সিল পাওয়া যায়। পাশাপাশি বিভিন্ন নামীদামি ব্র্যান্ডের মোড়কে ভরা বিপুল পরিমাণ চালও জব্দ করা হয়।

চট্টগ্রাম জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের কর্মকর্তা (কারিগরি) রাজিব কুমার দে বলেন, গুদাম থেকে প্রায় ৫৫০ টন চাল জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি সিলযুক্ত চাল রয়েছে প্রায় ৫৮ টন ৬০০ কেজি। বাকি চাল বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বস্তায় ভরা ছিল। এই ঘটনায় গুদামের মালিককে আটক করা হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি ও বিভিন্ন সহায়তা প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দ চাল অসাধু ডিলার ও চোরাকারবারিদের মাধ্যমে গোপনে ওই গুদামে মজুত করা হতো। পরে শ্রমিকদের দিয়ে সরকারি বস্তা পরিবর্তন করে ভিন্ন ব্র্যান্ডের মোড়কে বাজারে বিক্রি করা হতো।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আলমগীর হোসেন বলেন, ‘সরকারি খাদ্য সহায়তার চাল সাধারণ মানুষের অধিকার। অথচ একটি চক্র সেই চাল আত্মসাৎ করে ভিন্ন ব্র্যান্ডের নামে বাজারজাত করছে। এটি শুধু অর্থনৈতিক অপরাধ নয়, খাদ্য নিরাপত্তার জন্যও হুমকি।’ তিনি বলেন, গুদামের মালিকের সরকারি চাল সংরক্ষণ বা বাজারজাত করার কোনো বৈধ অনুমোদন পাওয়া যায়নি। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং এই চক্রের সঙ্গে খাদ্যগুদাম, ডিলার ও পরিবহন-সংশ্লিষ্ট কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযান শেষে পুরো গুদাম সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। জব্দ করা চাল সরকারি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই গুদামে ট্রাকে করে চাল আনা-নেওয়া হতো। রাতে শ্রমিকদের দিয়ে সরকারি বস্তা পরিবর্তন করে অন্য কোম্পানির বস্তায় চাল ভরার কাজ চলত।

র‍্যাব কর্মকর্তারা জানান, সরকারি খাদ্যশস্য আত্মসাৎ ও বাজারজাতের সঙ্গে জড়িত একটি বড় চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে আরও একটি গুদামের সন্ধান পাওয়া গেছে, যেখানে একই কায়দায় সরকারি চাল মজুতের তথ্য মিলেছে। শিগগিরই সেখানে অভিযান চালানো হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

শেষ বিদায়ে সহকর্মীদের ব্যতিক্রমী শ্রদ্ধা: অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেনে থমকে গেল জনপদ

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১৬ থেকে ২৩ দিনের টানা ছুটি আসছে

চট্টগ্রাম নগরীর ফ্লাইওভারে ঝুলছিল ছাত্রলীগ নেতার মরদেহ

জাবিতে এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, সিসিটিভি ফুটেজে যা দেখা গেল

বাফুফের সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা কোচের পদত্যাগ, গন্তব্য কি বাংলাদেশ

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত