Ajker Patrika

ওষুধবিহীন কমিউনিটি ক্লিনিক

সম্পাদকীয়
ওষুধবিহীন কমিউনিটি ক্লিনিক

বাংলাদেশের গ্রামীণ জনপদের সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য সারা দেশে কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। কিন্তু মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ৩৫টি কমিউনিটি ক্লিনিকে দীর্ঘ চার মাস ওষুধের সরবরাহ বন্ধ। কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো তৈরির প্রধান উদ্দেশ্য ছিল গ্রামের প্রান্তিক অসচ্ছল মানুষ যেন বিনা টাকায় প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা পান। আর গ্রামের সাধারণ মানুষ যাতে বাড়ির পাশেই বিনা মূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসাসহ অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ, মা ও শিশুস্বাস্থ্যসেবা, পরিবার পরিকল্পনা, টিকাদান এবং মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা পান। এ ছাড়া বড় হাসপাতালের চাপ কমানোও একটা বড় উদ্দেশ্য ছিল। যেমন জ্বর, সর্দি, কাশি এবং ছোটখাটো চিকিৎসার জন্য যাতে মানুষকে জেলা বা উপজেলা সদরে দৌড়াতে না হয়, তা নিশ্চিত করা। এতে করে বড় হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ কমবে এবং রোগীরা তাৎক্ষণিক সেবা পাবেন।

সারা দেশে প্রায় ১৪ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে ২৭ প্রকারের ওষুধ বিনা মূল্যে সরবরাহ করার কথা ছিল। কিন্তু গাংনীর বাস্তবতা আজ সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা বলছে। গাংনী উপজেলার ৩৫টি কমিউনিটি ক্লিনিকে গত চার মাস ওষুধের হাহাকার চলছে। শুধু রোগের কথা শুনে ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছেন। কিন্তু কথা ছিল রোগীদের সম্পূর্ণ ওষুধপত্র বিনা মূল্যে দেওয়া হবে। যাঁরা এসব ক্লিনিকে যান, তাঁরা মূলত নিম্ন আয়ের মানুষ। আলাদাভাবে তাঁদের চিকিৎসা করার সামর্থ্য নেই।

কমিউনিটি ক্লিনিকের মূল ভিত্তি হলো জনগণের আস্থা। দীর্ঘদিন ওষুধ না থাকলে সাধারণ মানুষ সরকারি এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা রাখবে কী করে?

সংবাদ সূত্রে জানা গেছে, ওষুধ সংকটের মূল কারণ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ওষুধ না থাকার কথা লিখিতভাবে জানিয়েছে। কিন্তু তারা এখন পর্যন্ত সেই সংকট সমাধানে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। এই দায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এড়াতে পারে না। এর বাইরে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার ব্যাপার থাকতে পারে। কিন্তু সাধারণ মানুষের জীবনের কাছে কোনো অজুহাতই গ্রহণযোগ্য নয়। মেহেরপুরের মতো একটি কৃষিপ্রধান অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবার এই স্থবিরতা মেনে নেওয়া যায় না।

আমরা জানি, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য খাতকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। কিন্তু মাঠপর্যায়ে তদারকির অভাবে সেই সুফল কেন পৌঁছাচ্ছে না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। গাংনীর এই সংকট প্রমাণ করে যে সরবরাহ চেইনে কোথাও বড় ধরনের সমন্বয়হীনতা রয়েছে।

স্বাস্থ্যসেবা কোনো করুণা নয়, এটি অধিকার। গাংনী উপজেলার ৩৫টি ক্লিনিকে অবিলম্বে ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া কেন দীর্ঘ চার মাস এই সংকট অব্যাহত থাকল, তার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

আমরা আশা করব, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে সমস্যা সমাধানে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করবে। কারণ, গ্রামের নিম্ন আয়ের মানুষদের রোগ নিয়ে তামাশা করা

তো একপ্রকার অন্যায়। সংকটের সমাধান না হলে কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠার মহৎ উদ্দেশ্য বিফলে যাবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত