
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান গত ৭ থেকে ৯ এপ্রিল ভারত সফর করেছেন। বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি ছিল কোনো মন্ত্রীর প্রথম উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় সফর। এই সফরে পদ্মা পানিবণ্টন চুক্তির নবায়ন প্রসঙ্গটি সামনে আসে। ১৯৯৬ সালে ৩০ বছর মেয়াদি পদ্মা পানিবণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সেই চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের ১২ ডিসেম্বর শেষ হতে যাচ্ছে। তাই এই সফরকালে চুক্তিটির নবায়ন করার বিষয় আলোচনার প্রধান অ্যাজেন্ডাগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই সফর শেষে একটি সাক্ষাৎকারে পদ্মার পানিবণ্টন চুক্তিকে দুই দেশের সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রথম পরীক্ষা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, বাংলাদেশের কৃষি, জীবিকা ও খাদ্যনিরাপত্তা পদ্মার পানির ওপর নির্ভরশীল এবং একটি ন্যায্য ও জলবায়ু-সহনশীল চুক্তি আমাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি। দিল্লির বৈঠকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সঙ্গে পদ্মা পানিবণ্টন চুক্তি ছাড়াও ভিসা সার্ভিস স্বাভাবিক করা, জ্বালানি সহযোগিতা, সীমান্ত নিরাপত্তা ও বাণিজ্য সহজীকরণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বর্তমানে পদ্মার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ ফুরিয়ে আসায় দুই দেশের যৌথ নদী কমিশন কারিগরি আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রবাহ পরিমাপের কাজও শুরু হয়েছে। তবে চুক্তি নবায়নের জন্য আনুষ্ঠানিক চূড়ান্ত রূপরেখা এখনো প্রক্রিয়াধীন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই সফরটিকে দুই দেশের মধ্যে স্থবির হয়ে পড়া সম্পর্ককে নতুন করে সচল করার একটি উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
উল্লেখ্য, পদ্মার পানিবণ্টন চুক্তি ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবগৌড়া এবং বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ফারাক্কা পয়েন্টে গঙ্গা বা পদ্মা নদীর পানির প্রাপ্যতা নিয়ে হয়েছিল।
বস্তুত, ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণ ও পানিবণ্টন চুক্তির ইতিহাস অত্যন্ত দীর্ঘ এবং অমীমাংসিত একটি ইস্যু। কলকাতা বন্দরের নাব্যতা রক্ষা এবং হুগলি নদীতে পলিমাটি জমা কমানোর উদ্দেশ্যে ভারত এই বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। ১৯৫১ সালে ভারত সরকার প্রথম ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা প্রকাশ করে। ১৯৬১-৬২ সালে বাঁধের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ১৯৭০ সালে ১ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে বাঁধটির নির্মাণকাজ শেষ হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৭৪ সালের মে মাসে একটি শীর্ষ সম্মেলনে চুক্তি হয় যে পানির ভাগাভাগি নিয়ে কোনো ঐকমত্যে পৌঁছানোর আগে বাঁধটি চালু করা যাবে না।
তবে ১৯৭৫ সালের ২১ এপ্রিল ভারত পরীক্ষামূলকভাবে ৪১ দিনের জন্য ফারাক্কা বাঁধের ফিডার ক্যানেল চালু করে। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় শেষ হওয়ার পরও ভারত পানি প্রত্যাহার অব্যাহত রাখে, যা দীর্ঘস্থায়ী বিরোধের সূচনা করে। তবে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনকালে প্রথম ১৯৭৭ সালের ৫ নভেম্বর পানিবণ্টন নিয়ে পাঁচ বছর মেয়াদি (১৯৭৮-৮২) একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এতে বাংলাদেশের জন্য একটি ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ ছিল, যার মাধ্যমে কম পানি প্রবাহের সময়েও নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি নিশ্চিত করা হয়েছিল। ১৯৭৭ সালের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ১৯৮২ ও ১৯৮৫ সালে এরশাদ সরকারের সময় আরও দুটি স্বল্পমেয়াদি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। তবে এসব সমঝোতা স্মারকে বাংলাদেশের জন্য রাখা পূর্বের ‘গ্যারান্টি ক্লজ’টি বাতিল করা হয়। এরপর ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ৩০ বছর মেয়াদি একটি বিস্তারিত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। যেখানে জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত প্রতি ১০ দিনের ভিত্তিতে পানিবণ্টন করার কথা বলা হয়। চুক্তি অনুযায়ী, যদি ফারাক্কায় পানির প্রবাহ ৭০ হাজার কিউসেক বা তার কম হয়, তবে উভয় দেশ ৫০ শতাংশ করে পানি পাবে। আর পানির প্রবাহ ৭০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার কিউসেকের মধ্যে হলে বাংলাদেশ ৩৫ হাজার কিউসেক পানি পাবে। আর প্রবাহ ৭৫ হাজার কিউসেকের বেশি হলে ভারত ৪০ হাজার কিউসেক রেখে বাকিটা বাংলাদেশকে দেবে। তবে ১৯৯৬ সালের চুক্তিতে ১৯৭৭ সালের মতো কোনো ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ নেই। অর্থাৎ পানির প্রবাহ খুব কমে গেলে বাংলাদেশ নির্দিষ্ট কী পরিমাণ পানি পাবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকে যায়। এখানে ১৯৯৬ সালের চুক্তি অনুযায়ী, ফারাক্কায় পানির প্রবাহ ৭০ হাজার কিউসেকের নিচে নেমে গেলে ভারত ও বাংলাদেশ উভয় দেশ ৫০ শতাংশ করে পানি ভাগাভাগি করবে। তবে এই ব্যবস্থাটি কোনো ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ নয়। কারণ, এতে বাংলাদেশের জন্য কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণের ন্যূনতম পানির নিশ্চয়তা নেই। ফলে পানির প্রবাহ কমে গেলে বাংলাদেশের প্রাপ্য পানির পরিমাণও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
১৯৭৭ সালের চুক্তিতে বলা হয়েছিল, ফারাক্কা পয়েন্টে গঙ্গার পানির প্রবাহ যদি কোনো কারণে অত্যন্ত কমে যায় (ঐতিহাসিক গড়ের চেয়ে নিচে নামে), তাহলেও বাংলাদেশ সেই সময়ের জন্য নির্ধারিত পানির ভাগের অন্তত ৮০ শতাংশ পাওয়ার গ্যারান্টি পাবে। উদাহরণস্বরূপ যদি ১০ দিনের একটি চক্রে বাংলাদেশের ভাগে ৪০ হাজার কিউসেক পানি পাওয়ার কথা থাকে, কিন্তু নদীতে পানি খুব কম থাকে, তবে গ্যারান্টি ক্লজ অনুযায়ী বাংলাদেশ অন্তত ৩২ হাজার কিউসেক (৮০ শতাংশ) পানি নিশ্চিতভাবে পাবে। বাকি ঘাটতি ভারত বহন করবে।
পানিবণ্টন চুক্তিতে যদি গ্যারান্টি ক্লজ না থাকে, তাহলে নদীতে পানি কমলে ভারত ও বাংলাদেশ উভয় দেশই আনুপাতিক হারে কম পানি পায়। কিন্তু গ্যারান্টি ক্লজ থাকলে, পানির স্তর একটি নির্দিষ্ট সীমার নিচে নামলে ভারত তার নিজের ভাগের পানি কমিয়ে বাংলাদেশকে ন্যূনতম পাওনাটুকু নিশ্চিত করতে বাধ্য থাকে। ১৯৯৬ সালের চুক্তিতে এই ক্লজটি নেই। এর বদলে বলা হয়েছে, যদি প্রবাহ ৭০ হাজার কিউসেকের নিচে নেমে যায়, তবে দুই দেশ জরুরি ভিত্তিতে আলোচনায় বসবে। এতে কোনো ‘গ্যারান্টি’ বা নির্দিষ্ট পরিমাণের নিশ্চয়তা না থাকায় খরা মৌসুমে বাংলাদেশ অনেক সময় ন্যায্য পানির চেয়ে অনেক কম পানি পায়।
গ্যারান্টি ক্লজ হলো চুক্তির এমন একটি সুরক্ষামূলক শর্ত, যা নিশ্চিত করে যে উজানে (ভারতে) নদীর পানির প্রবাহ অস্বাভাবিক কমে গেলেও ভাটির দেশ (বাংলাদেশ) একটি ন্যূনতম নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি অবশ্যই পাবে। এটি মূলত বাংলাদেশের জন্য একটি নিরাপত্তাবেষ্টনী হিসেবে কাজ করবে। এতে ন্যূনতম পানিপ্রাপ্তির নিশ্চয়তা মিলবে। গ্যারান্টি ক্লজ থাকলে বাংলাদেশ আগাম নিশ্চিত হতে পারবে যে চরম সংকটের সময়েও কৃষিকাজ, শিল্প এবং পরিবেশ রক্ষার জন্য ঠিক কতটুকু পানি তার হাতে থাকবে। এটি মূলত অনিশ্চয়তা দূর করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে সাহায্য করে। ২০২৬ সালের নতুন চুক্তিতে গ্যারান্টি ক্লজ অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষে জোরালো দাবি করা হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবারের সফরে স্পষ্ট করেছেন, বাংলাদেশের কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তার জন্য একটি ‘ন্যায্য ও জলবায়ু-সহনশীল’ চুক্তি করা জরুরি। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ‘ন্যায্যতা’ নিশ্চিত করতে হলে চুক্তিতে অবশ্যই একটি সুনির্দিষ্ট ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ থাকতে হবে। তা ছাড়া এই চুক্তি কোনো ফল বয়ে আনবে না।
বাংলাদেশ এবার শুধু আলোচনার আশ্বাস নয়, বরং পানির হিস্যা নিয়ে একটি আইনি নিশ্চয়তা পেতে চায়। এখন চুক্তির শর্তাবলি চূড়ান্ত করার আগে বর্তমানে দুই দেশের কারিগরি বিশেষজ্ঞরা ফারাক্কা এবং হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানির প্রবাহের যৌথ পরিমাপ করছেন। এই তথ্যগুলোর ওপর ভিত্তি করেই নতুন চুক্তিতে গ্যারান্টি ক্লজ যুক্ত হবে কি না, তা নির্ধারণ করা হবে।
এ দিকে পদ্মার পানিবণ্টন চুক্তি নবায়ন প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থান হলো, দেশটি বর্তমানে তাদের নিজস্ব উন্নয়ন চাহিদা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে পানিবণ্টন ব্যবস্থাকে পর্যালোচনার প্রস্তাব দিয়েছে। ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে গ্যারান্টি ক্লজ অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত প্রতিশ্রুতি দেয়নি। তবে তারা একটি টেকসই রোডম্যাপ তৈরির বিষয়ে সম্মত হয়েছে।
২০২৬ সালের সম্ভাব্য নবায়ন চুক্তিতে বাংলাদেশ একটি স্বচ্ছ গ্যারান্টি ক্লজ অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সর্বোচ্চ কূটনৈতিক চেষ্টা চালাচ্ছে, যাতে শুষ্ক মৌসুমে পানির অনিশ্চয়তা দূর করা যায়। তবে এটি শেষ পর্যন্ত চুক্তিতে যুক্ত হবে কি না, তা আগামী কয়েক মাসের উচ্চপর্যায়ের কারিগরি ও রাজনৈতিক আলোচনার ওপর নির্ভর করছে।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে মোট ৫৪টি আন্তর্জাতিক বা অভিন্ন নদী প্রবাহিত হলেও শুধু পদ্মা নদীর জন্য স্থায়ী চুক্তি রয়েছে। তিস্তা নদীর পানিবণ্টন চুক্তি ২০১১ সালে স্বাক্ষরের কথা থাকলেও পশ্চিমবঙ্গের আপত্তির কারণে তা আজও আলোর মুখ দেখেনি। এতে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য, কৃষি ও জনমানুষের জীবন-জীবিকা মারাত্মক সংকটের মধ্যে পড়েছে। এমনিতেই ফারাক্কা বাঁধের মাধ্যমে ভারত বিপুল পরিমাণ পানি প্রত্যাহার করে নেওয়ার কারণে বাংলাদেশের উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পানির স্তর নিচে নেমে গেছে, কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে, লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে, বিশেষ করে সুন্দরবনের ইকোসিস্টেম এবং ইলিশ মাছের প্রজনন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর ওপর আবার তিস্তা নদীর উজানে ভারতীয় গজলডোবা বাঁধের কারণে উত্তর অঞ্চল একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে চলেছে, যা দীর্ঘ মেয়াদে বাংলাদেশকে মরুভূমিতে পরিণত করতে পারে। এ কারণে বাংলাদেশ ভাটির দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিক রীতি অনুযায়ী তার ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতে ভারতের সঙ্গে একটি চুক্তির দিকে ধাবিত হতে চায়।
লেখক: রাজনৈতিক বিশ্লেষক

এবারের জাতীয় সংসদে অভিনব নানা ঘটনা ঘটেছে। গণ-অভ্যুত্থানের পর যে সংসদটি গঠিত হলো, তাকে ‘আমরা আর মামুরা’ ধরনের সংসদ কি না, তা নিয়ে মুখরোচক আলাপ-আলোচনা হচ্ছে এখন। কেউ কেউ বলছেন, মাঝে মাঝে মুক্তিযুদ্ধ প্রশ্নে সংসদকে উত্তপ্ত করার বিষয়টি লোকদেখানো।
২ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশের গ্রামীণ জনপদের সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য সারা দেশে কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। কিন্তু মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ৩৫টি কমিউনিটি ক্লিনিকে দীর্ঘ চার মাস ওষুধের সরবরাহ বন্ধ।
২ ঘণ্টা আগে
পৃথিবীটা বদলে গেছে। আমরা এই পৃথিবীটার পরিবর্তন চেয়েছিলাম। আমরা শুধু নই, সারা বিশ্বের মানুষ, বিশেষ করে নিপীড়িত-নির্যাতিত মানুষ পরিবর্তন চেয়েছিল সমাজের, রাষ্ট্রের এবং মানুষের। কিন্তু পরিবর্তনটা কি হলো?
১ দিন আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শেষ হয়ে গেল। এটি ছিল দীর্ঘ ১৯ বছর পর ক্ষমতায় আসা বিএনপি সরকারের প্রথম সংসদ অধিবেশন। গত ১২ মার্চ এই অধিবেশন শুরু হয়েছিল। মাঝে রোজার ঈদের ছুটি বাদ দিয়ে সংসদ চলল ২৫ দিন।
১ দিন আগে