
অর্ক ভাদুড়ী পশ্চিমবঙ্গের বিশিষ্ট সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। ‘দ্য ইন্টারন্যাশনাল’ পত্রিকার এক্সিকিউটিভ এডিটর। নিয়মিত কলাম লেখেন ব্রিটিশ দৈনিক ‘মর্নিং স্টারে’। স্বাধীন সাংবাদিক হিসেবে দক্ষিণ এশিয়া ও ইউরোপের পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। বাংলাদেশ নিয়ে ২০১৮ সাল থেকে তদন্তমূলক সাংবাদিকতাও করছেন। পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ী হওয়ার পর সেখানকার ভবিষ্যৎ রাজনীতির গতিপথ, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশে তার রাজনৈতিক প্রভাবসহ নানা বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন আজকের পত্রিকার মাসুদ রানা।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি যেভাবে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রথম একটি উগ্রবাদী ধর্মীয় গোষ্ঠীর সরকার গঠন করল, এটা কি শুধুই তৃণমূলের বিরুদ্ধে একটি তাৎক্ষণিক ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ, নাকি এর পেছনে গভীর কোনো সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট কাজ করেছে?
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বিপুল জয়কে অনেকভাবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব। প্রথমত, তৃণমূলের ব্যাপক দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিরাট অংশের মানুষের বিপুল ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। আর জি করের তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ এবং হত্যার ঘটনাও মানুষের মনে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছিল। তৃণমূল দলটি বেশ কয়েক বছর ধরে ‘আইপ্যাক’ নামের একটি বেসরকারি সংস্থা দ্বারা পরিচালিত হয়ে আসছিল। এই সংস্থা দলের পুরোনো এবং অভিজ্ঞ নেতাদের পরিবর্তে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামীদের পক্ষে কাজ করছিল। তৃণমূলের অন্দরে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ নেতারা ক্রমেই ব্রাত্য হয়ে যাচ্ছিলেন। এই নির্বাচনেও তৃণমূল ৭৪ জন বিধায়ককে প্রার্থী করেনি। ফলে তৃণমূলের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব ছিল।
২০২১ সালে তৃণমূল জিতেছিল মূলত নারী ও মুসলিম ভোটের ওপর ভিত্তি করে। আর জি করের ঘটনার পরে নারীদের বেশ কিছুটা সমর্থন হারিয়েছে দলটি।
বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, অন্নপূর্ণা ভান্ডারের মাধ্যমে নারীদের ৩ হাজার টাকা মাসিক ভাতা দেওয়া হবে। তাতেও অনেকে প্রভাবিত হয়েছেন। একই সঙ্গে মুসলিম ভোটের একাংশও তৃণমূলের থেকে সরে গেছে। ২০২১ সালের নির্বাচনে জেতার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির মতোই মন্দিরের রাজনীতি শুরু করেন। অযোধ্যার রামমন্দিরের মতো দীঘায় বড় মন্দির তৈরি করেন। এ ছাড়া নিউটাউনে দুর্গাঙ্গন তৈরি করেন। মুসলিমদের নিয়ে তাঁর বেশ কিছু মন্তব্য, মুসলিমদের নেতৃত্বে সংগঠিত হওয়া মালদহের এসআইআরবিরোধী আন্দোলনের তীব্র বিরোধিতা মুসলিমরা ভালো চোখে দেখেনি। ফলে মমতার মুসলিম ভোটে ফাটল ধরেছিল।
এবারের নির্বাচনে হিন্দু ভোটের অভূতপূর্ব কনসলিডেশন ঘটেছে। এটা বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে নজিরবিহীন ও অত্যন্ত বিপজ্জনক প্রবণতা। সাম্প্রদায়িক বিভাজনের রাজনীতি বিপুল সাফল্য পেয়েছে। কিন্তু এটা কি হঠাৎ করে হয়েছে? আমার কাছে তা মনে হয় না। হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির জন্ম কিন্তু বাংলায়। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ছিলেন কলকাতার সন্তান। আমাদের সমাজে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির বীজ সুপ্ত অবস্থায় ছিলই। উপযুক্ত জল-হাওয়া পেয়ে তা বটগাছে পরিণত হয়েছে। এর নেপথ্যে অনেক হিস্ট্রিক্যাল ফল্টলাইন আছে। ১৭৯৩ সালের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত যেমন একটি ফল্টলাইন। এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা জরুরি।
দীর্ঘ ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর তৃণমূল কংগ্রেসের এই নজিরবিহীন ভরাডুবির প্রধান কারণগুলো কী? বিশেষ করে নারী ভোটারদের সমর্থন হারানো বা তৃণমূলের নিজস্ব দুর্ভেদ্য দুর্গ বলে পরিচিত এলাকাগুলোতে ধস নামার পেছনে কোন বিষয়গুলো অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে?
নারী ভোটারদের সমর্থন হারানোর দুটি কারণ আমি আগেই বললাম। আর জি করের ঘটনা এবং বিজেপির অন্নপূর্ণা ভান্ডারের প্রতিশ্রুতি। তৃণমূলের নিজস্ব দুর্গে ধস নামার কারণ মূলত তিনটি—দুর্নীতির বিরুদ্ধে গণরোষ, অন্তর্দ্বন্দ্ব এবং হিন্দু ভোটের বিপুল, অভূতপূর্ব কনসলিডেশন। একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ১ কোটির মতো মানুষের নাম বাদ পড়েছে। ভোট এবং গণনা নিয়েও বিস্তর কারচুপির অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল।
নির্বাচনের পরে তৃণমূল কংগ্রেসকে একধরনের ভাঙনের মুখে পড়তে দেখা যাচ্ছে, যেখানে দলের শীর্ষ ও মাঝারি স্তরের বহু নেতা দল বদল করেছেন। এই সুনির্দিষ্ট ভাঙনের প্রক্রিয়া কি স্বতঃস্ফূর্ত ছিল, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো ব্যাপার কাজ করেছে?
এটি একই সঙ্গে স্বতঃস্ফূর্ত এবং পরিকল্পিত। তৃণমূল দলটির কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শ কখনো ছিল না। ১৯৯৮ সালে কংগ্রেস ভেঙে দলটি গড়ে উঠেছিল একটিমাত্র লক্ষ্য সামনে রেখে—বামফ্রন্ট সরকারের পতন ঘটানো। সেই লক্ষ্যে মমতা কখনো বিজেপির সঙ্গে জোট করেছেন, আবার কখনো কংগ্রেস বা এসইউসিআইয়ের সঙ্গে। ২০১১ সালে বামফ্রন্ট সরকারের পতনের পরে তৃণমূল তৈরির আশু লক্ষ্য অর্জিত হয়ে গেল। এর পর থেকে ধীরে ধীরে তৃণমূল পরিণত হলো একটি মাফিয়া সিন্ডিকেটে। লুটপাট বাদে তাদের আর তেমন কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। এর ফলে দলটি ক্ষমতা থেকে সরে যেতেই একের পর এক নেতা দল ছেড়েছেন। যদি একটি দলের কোনো নির্দিষ্ট রাজনীতি না থাকে, তাহলে এটা হওয়াই তো স্বাভাবিক। আমি এই দলত্যাগের জোয়ারকে স্বতঃস্ফূর্ত ঘটনা হিসেবেই দেখি।
একই সঙ্গে এ কথাও সত্য, বিজেপি বিষয়টিকে ব্যবহার করেছে। বিজেপি চায় তৃণমূল কংগ্রেসকে টুকরো টুকরো করে দিতে। ফলে তারা বাংলায় এবং দিল্লিতে দুটি গৃহপালিত তৃণমূল তৈরি করেছে। শেখ হাসিনার যেমন এরশাদ ছিলেন গৃহপালিত বিরোধী দল, বাংলায় তেমনই গৃহপালিত বিরোধী দল এখন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আসল তৃণমূল’। এই বিদ্রোহীরা খোদ মমতাকে তাঁদের ‘তৃণমূল’ থেকে বাদ দিয়ে দিয়েছেন। দিল্লির ছবিটা আবার ভিন্ন। সেখানে বিজেপির প্রয়োজন তৃণমূলের সাংসদদের সমর্থন। ফলে সেখানে তৃণমূলের ২০ জন সাংসদ এনসিপিআই নামে একটি কাগুজে দলে যোগ দিয়ে এনডিএ জোটকে সমর্থনের কথা বলেছেন। এ রকম রাজনৈতিক সার্কাস শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসেই বিরল।
একসময়ের টানা ৩৪ বছর শাসন করা বামফ্রন্টের এই নির্বাচনে খুব খারাপ ফল করার কারণ কী? তারা কেন তৃণমূলবিরোধী জনগণের অসন্তোষকে নিজেদের পক্ষে টানতে পারল না? পুরো ভোটটাই বিজেপির দিকে চলে গেল কেন?
বামফ্রন্ট বিগত বিধানসভা নির্বাচনেও কোনো আসন জেতেনি। এবারে একজন বিধায়ক জয়ী হয়েছেন। শূন্যের চেয়ে এক নিঃসন্দেহে ভালো ফল। দেখুন, ২০১১ সালে ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার পর বামদের সংসদীয় বিপর্যয় ঘটে চলছেই। ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূল বিপুল সন্ত্রাস করে বামপন্থীদের ওপর। তার পর থেকে বামদের জনভিত্তির অনেকটা বিজেপি গ্রাস করে। এই নির্বাচনে সংসদীয় পরিসরে বামদের দারুণ ফল করা অসম্ভব ছিল।
নতুন সরকার গঠনের পরপরই রাজ্যের সংখ্যালঘু মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর নানা ধরনের অদৃশ্য ও দৃশ্যমান বিধিনিষেধ কিংবা সামাজিক-রাজনৈতিক চাপ তৈরি হতে দেখা যাচ্ছে। একজন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক হিসেবে এই নীতিকে আপনি কীভাবে দেখেন এবং এটি বাংলার চিরায়ত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে কতটা ঝুঁকিতে ফেলবে?
ভয়ংকর বিপজ্জনক প্রবণতা। বাংলাদেশে জামায়াত বা ইসলামিস্টরা যেমন হিন্দুদের ‘আদারাইজেশন’ ঘটান, পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতেও একই কাজ করে আরএসএস, বিজেপি। ফারাক বলতে এখানে ভিকটিমরা মুসলিম। দুই পারের মৌলবাদ একে অন্যকে পুষ্ট করে। এদের কার্যপদ্ধতিও একই রকম। পশ্চিমবঙ্গে সংখ্যালঘুরা ঠিক ততটাই বিপন্নতার মধ্যে আছেন, যতখানি বিপন্নতার মধ্যে থাকেন আপনাদের দেশের সংখ্যালঘুরা। বাংলাদেশে শুনতে হয় ‘ভারতের দালাল’ বা ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’, পশ্চিম বাংলায় শুনতে হয় ‘তোরা বাংলাদেশি, বাংলাদেশে চলে যা’। ভীষণ ভীষণ উদ্বেগজনক পরিস্থিতি।
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় বুলডোজার চালিয়ে ক্ষুদ্র ও হকার ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে। এই ধরনের চরম প্রশাসনিক পদক্ষেপের পেছনে শুধুই কি অবৈধ দখলদারত্ব মুক্ত করার তাগিদ, নাকি এর আড়ালে নির্দিষ্ট কোনো অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মেরুকরণের অভিসন্ধি রয়েছে?
বিজেপি দাবি করে, তারা হিন্দুদের দল। কিন্তু আসল সত্যিটা হলো, তারা বড়লোকদের দল। হকার উচ্ছেদের মাধ্যমে বিজেপি কলকাতা তথা পশ্চিমবঙ্গের সস্তার বাস্তুতন্ত্রটাই ধ্বংস করতে চাইছে। হকার উচ্ছেদের পর এই জায়গা যদি করপোরেটদের দখলে যায়, তাহলে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। ট্রেনে হকারদের ওঠা নিষিদ্ধ হচ্ছে। স্টেশনে হকার থাকবে না। তাহলে যাত্রীরা চা, খাবার খাবেন কোথায়? দরকারি টুকিটাকি জিনিস কিনবেন কোথায়? তার জন্য আছে করপোরেট।
কয়েক বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গের মতো একটি ঐতিহাসিকভাবে ধর্মনিরপেক্ষ ও বাম প্রগতিশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে হিন্দুত্ববাদের এই তীব্র উত্থান এবং জনপ্রিয়তা পাওয়ার মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক কারণগুলো কী? বাঙালি সংস্কৃতির সমীকরণ কি তবে চিরতরে বদলে যাচ্ছে?
এটি জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই সংক্ষিপ্ত পরিসরে এর উত্তর দেওয়া কঠিন। আমি আগেই বললাম, আমাদের রাজ্যে বিজেপির উত্থান কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। আমাদের কিছু ঐতিহাসিক ফল্টলাইন আছে। আজ আমরা যা কিছু দেখছি, তার সবকিছুই আমাদের যৌথ ইতিহাসের ভেতরে সুপ্ত অবস্থায় ছিল। এমনকি প্রগতিশীল পরিসরেও ছিল। নির্মোহ ইতিহাসচর্চা এই ঐতিহাসিক ফল্টলাইনগুলো চিহ্নিত করতে পারে।
তৃণমূলের এই বিপর্যয় এবং বিজেপির উগ্র ডানপন্থী উত্থানের পর, পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ রাজনীতি কোন দিকে মোড় নিতে পারে?
পশ্চিমবঙ্গে এই মুহূর্তে বামপন্থীরা ছাড়া কোনো বিরোধী শক্তি নেই। মমতা ভোটে হেরে ঘরে ঢুকে গেছেন। তৃণমূল টুকরা টুকরা হয়ে গেছে। কংগ্রেসের অবস্থা তথৈবচ। একমাত্র বামেরা সীমিত শক্তিতে পথে আছেন। মনে রাখা দরকার, এই নির্বাচনেও ৫৫ শতাংশ মানুষ সব মিলিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন। যাঁরা সাহসের সঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে দাঁড়াবেন, জেল-জুলুমের ভয় পাবেন না, তাঁরাই আগামীর নায়ক।
এখানে কি কোনো নতুন বিকল্প শক্তির উত্থানের সম্ভাবনা রয়েছে, নাকি তীব্র মেরুকরণের এই ধারা দীর্ঘস্থায়ী হবে?
এই প্রশ্নের উত্তর আমার পক্ষে এখনই দেওয়া সম্ভব নয়।
পশ্চিমবঙ্গে এই অভাবনীয় রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, নতুন সরকারের নীতি এবং হিন্দুত্ববাদের বিকাশ প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের রাজনীতিকে কতটা ও কীভাবে প্রভাবিত করতে পারে?
অবশ্যই প্রভাবিত করবে। দুই দেশের মৌলবাদ একে অপরকে পুষ্টি জোগায়। ২০২৪ সালের আগস্টে গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটে। কিন্তু তার পর থেকে বাংলাদেশে যে উগ্র ডানপন্থী শক্তির উত্থান ঘটেছিল, তা বিজেপির রাজনীতিকে বিপুল সাহায্য করে। বহু ধরনের অপতথ্য ছড়িয়েছে ঠিকই, আবার অসংখ্য খারাপ ঘটনাও ৫ আগস্ট-পরবর্তী বাংলাদেশে ঘটেছে। বিজেপি তার সুযোগ নিয়েছে। বাংলাদেশে যখনই মাজার ভাঙা হয়েছে, সংখ্যালঘুরা আক্রান্ত হয়েছেন, পত্রিকার দপ্তরে আগুন লাগানো হয়েছে, তখনই এখানে ‘পশ্চিমবঙ্গকে বাংলাদেশ হতে দেব না’র রাজনীতি শক্তিশালী হয়েছে। আজ যদি পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুত্ববাদী শক্তির অগ্রগমন অব্যাহত থাকে, তা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশে ইসলামিস্ট শক্তিকে সাহায্য করবে।
বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো; যেমন তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা কিংবা অভিবাসন প্রশ্নসহ নানা বিষয়ের সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা আছে কি?
আমি এর আশু সম্ভাবনা দেখি না।
পশ্চিমবঙ্গের জনগণ একটা দল বা জোটকে দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় রাখার পর তাদের প্রতি মোহমুক্ত হয়ে অপর কোনো শক্তিকে ভোট দিয়ে জয়ী করে। এই মনস্তত্ত্বের ব্যাখ্যা কী?
আমার কাছে বিরোধী পক্ষের সাংগঠনিক দুর্বলতা বাদে অন্য কোনো ব্যাখ্যা নেই ৷ ১৯৪৭-৬৭ কংগ্রেস ক্ষমতায় ছিল। তারপর বামপন্থীসহ কংগ্রেসবিরোধী শক্তির যুক্তফ্রন্ট ক্ষমতায় আসে। সেই সরকারগুলো ছিল ক্ষণস্থায়ী। ১৯৭২ সালে বিতর্কিত নির্বাচনে কংগ্রেস জয়ী হয়। তার পরের নির্বাচনে বামফ্রন্ট। তারা ৩৪ বছর শাসন করে। এই পর্যায়ে কংগ্রেস ছিল অন্তর্দ্বন্দ্বে জেরবার ও দুর্বল। ২০১১ সালে তৃণমূল ক্ষমতায় আসে মূলত জমি অধিগ্রহণবিরোধী আন্দোলনের জোয়ারে। ২০১১ সালের পরেও বিরোধী শক্তির সাংগঠনিক দুর্বলতা ছিল। প্রথমে প্রধান বিরোধী শক্তি ছিল বাম, পরে বিজেপির উত্থান হয়। ফলে এর মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যায় আমি যেতে আগ্রহী নই।
সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
আজকের পত্রিকাকেও ধন্যবাদ।

বাংলাদেশের সরকারি চাকরি ব্যবস্থায় সম্প্রতি যে ঘটনা বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে, তা হলো শিক্ষা ক্যাডারের ৩৫৫ জন কর্মকর্তার একযোগে প্রশাসন ক্যাডারে উপসচিব পদে পদোন্নতির জন্য আবেদন। সরকারি কলেজের শিক্ষক, শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রকল্প পর্যায়ে কর্মরত অনেক অভিজ্ঞ কর
২ ঘণ্টা আগে
রাজধানীর তিনটি সরকারি হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে ১২ জন দালালকে আটক করার জন্য র্যাবকে সাধুবাদ জানাচ্ছি। অবশ্যই এটা একটা বলার মতো কাজ হয়েছে। দালালদের দোর্দণ্ডপ্রতাপে সরকারি হাসপাতালগুলোর যে নাজেহাল অবস্থা, সেটা কোনো নতুন খবর নয়। যাঁরাই সরকারি হাসপাতালের দ্বারস্থ হয়েছেন, তাঁরাই জানেন কী ধরনের পরিবেশ।
২ ঘণ্টা আগে
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ইতিমধ্যে চার মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনও প্রায় সমাপ্তির পথে। কিন্তু এরপরও খানিকটা হতাশা নিয়েই লক্ষ করতে হচ্ছে যে মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত ৫০টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটির অধিকাংশই এখন পর্যন্ত গঠিত হয়নি।
১ দিন আগে
বাংলাদেশের উর্বর পলিমাটি, নদ-নদীর পলল ও অনুকূল আবহাওয়া যুগ যুগ ধরে কৃষককে নানাবিধ ফসল ফলাতে সাহায্য করছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কৃষির আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে এবং প্রতিটি অঞ্চলের রয়েছে নিজস্ব কিছু ঐতিহ্যবাহী ফল-ফসল।
১ দিন আগে