
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের ছয়টি ছোট নৌকা ধ্বংস করেছে এবং একাধিক ইরানি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের হামলা প্রতিহত করেছে। এর আগে, মার্কিন যুদ্ধজাহাজেও হামলার দাবি করে ইরান। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। মার্কিন বাহিনীর দাবি, তেহরান তথাকথিত নতুন মার্কিন নৌ অভিযানের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর প্রচেষ্টায় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল সোমবার ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে এই তথাকথিত অভিযান শুরু করেন। এর মাধ্যমে তিনি হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু করার পর ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়।
গত ৮ এপ্রিল শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতি এখনো কার্যকর আছে কি না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান মার্কিন অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। এরই মধ্যে, গতকাল সোমবার সংযুক্ত আরব আমিরাতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। তবে কুপার স্বীকার করেন, ট্রাম্পের অভিযানে বাধা দিতে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সক্রিয়ভাবে চেষ্টা চালাচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘আইআরজিসি আমাদের সুরক্ষায় থাকা জাহাজগুলোর দিকে একাধিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ছোট নৌকা পাঠিয়েছে। আমরা প্রতিটি হুমকি প্রতিরক্ষামূলক গোলাবারুদের অত্যন্ত নিখুঁত ব্যবহারের মাধ্যমে পরাজিত করেছি।’
কুপার জানান, ওয়াশিংটন যখন এই অভিযান শুরু করেছে, তখন তিনি ইরানি বাহিনীকে ‘দৃঢ়ভাবে পরামর্শ’ দিয়েছেন যেন তারা মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছাকাছি না আসে। তিনি বলেন, এই অভিযানে ১৫ হাজার মার্কিন সেনা, মার্কিন নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার, ১০০টির বেশি স্থল ও সমুদ্রভিত্তিক উড়োজাহাজ এবং পানির নিচের সামরিক অস্ত্র নিযুক্ত রয়েছে। তিনি বলেন, ‘মাঠপর্যায়ের মার্কিন কমান্ডারদের কাছে তাদের ইউনিট এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের কর্তৃত্ব রয়েছে।’
সোমবার হরমুজ প্রণালিতে একটি দক্ষিণ কোরীয় জাহাজ বিস্ফোরণের শিকার হয়। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, জাহাজটি মার্কিন অভিযানের অংশ ছিল না এবং সম্ভবত ইরানের কাছাকাছি জাহাজ চলাচল সুরক্ষার মার্কিন প্রচেষ্টায় তাদের যোগ দেওয়া উচিত। ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র সাতটি ইরানি দ্রুতগতির নৌকা ডুবিয়েছে।
হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে মার্কিন অভিযানে একাধিক ধাপ ছিল। প্রথমে ইরানের পাতা মাইন সরিয়ে একটি নিরাপদ পথ তৈরি করা। এরপর সোমবারের শুরুতে সেই পথ নিরাপদ প্রমাণ করতে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ প্রণালি অতিক্রম করানো হয়।
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস দাবি করেছে, গত কয়েক ঘণ্টায় কোনো বাণিজ্যিক জাহাজ প্রণালি পার হয়নি এবং যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের দাবি মিথ্যা। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমও যুক্তরাষ্ট্রের ইরানি নৌযান ডুবিয়ে দেওয়ার খবর অস্বীকার করেছে। কুপার বলেন, এ অভিযান প্রচলিত অর্থে শুধু জাহাজকে নিরাপত্তা দিয়ে এগিয়ে নেওয়ার মিশন নয়। বরং এটি বহুস্তরবিশিষ্ট প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, যেখানে জাহাজ, হেলিকপ্টার, উড়োজাহাজ এমনকি ইলেকট্রনিক যুদ্ধপ্রযুক্তিও ব্যবহার করা হচ্ছে, যাতে ইরানের সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলা করা যায়।
এ অভিযান আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে ইরানের অবরোধজনিত বিঘ্ন বন্ধে ট্রাম্পের সর্বশেষ পদক্ষেপ। যুদ্ধের আগে বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। কুপার বলেন, ইরানের সামরিক শক্তি ব্যবহারের হুমকির কারণে ৮৭টি দেশের জাহাজ উপসাগরে আটকে পড়েছে। এরপরও মার্কিন সামরিক বাহিনী জাহাজগুলোকে এই পথ ব্যবহার করতে উৎসাহিত করছে।
তিনি বলেন, ‘গত ১২ ঘণ্টায় আমরা ডজনখানেক জাহাজ ও শিপিং কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, যাতে তারা প্রণালি দিয়ে চলাচল শুরু করে। এ খবর অত্যন্ত উৎসাহের সঙ্গে গ্রহণ করা হয়েছে এবং আমরা ইতিমধ্যে চলাচলের কিছু অগ্রগতি দেখতে শুরু করেছি।’
তবে ইরানি হুমকির কারণে বহু জাহাজ এখনো উপসাগরে আটকে আছে। মেরিনট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় উপসাগরের ভেতর থেকে ৮০৫টি বাণিজ্যিক জাহাজ অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (এআইএস) সংকেত পাঠিয়েছে। এর মধ্যে জ্বালানি ও রাসায়নিকবাহী ট্যাংকার, কনটেইনার জাহাজ, গাড়িবাহী জাহাজ এবং বাল্ক ক্যারিয়ার রয়েছে। কুপার আরও বলেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ, যার ফলে কোনো জাহাজ ইরানে প্রবেশ করতে বা ইরানি ভূখণ্ড থেকে বের হতে পারছে না, সেটিও এখনো কার্যকর রয়েছে এবং প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সফল হচ্ছে।

একটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে ইরানের যে সময় লাগার কথা, দেশটিতে ব্যাপক হামলার পরও তা খুব এটা বদলায়নি। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সাম্প্রতিক মূল্যায়নে এ বিষয়টি উঠে এসেছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে...
২০ মিনিট আগে
তামিলনাড়ুর ২৩৪ আসনের বিধানসভায় এককভাবে ১০৭টি আসন নিয়ে শীর্ষ দলে পরিণত হয়েছে সাবেক অভিনেতা থালাপতি বিজয়ের দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে)। বিজয়ের দল এখন একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমা থেকে মাত্র ১১ আসন দূরে।
২ ঘণ্টা আগে
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে আক্ষরিক অর্থেই চমক দেখিয়েছে হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দলটি পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪ আসনের বিধানসভায় দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জিতেছে। এমনকি রাজ্যের টানা তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও হেরেছেন।
২ ঘণ্টা আগে
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শাসনভার যাচ্ছে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপির হাতে। ভূমিধস জয়ের পথে হাঁটছে দলটি। এর মধ্য দিয়ে রাজ্য ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনের পতন হচ্ছে। গতকাল সোমবার রাত ৯টার দিকে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আনন্দবাজারের খবর, বিজেপি জিততে যাচ্ছে ২০৮ আসন। আর তৃণমূলের ঘরে যাচ্ছে ৭৯।
৪ ঘণ্টা আগে