
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শাসনভার যাচ্ছে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপির হাতে। ভূমিধস জয়ের পথে হাঁটছে দলটি। এর মধ্য দিয়ে রাজ্য ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনের পতন হচ্ছে। গতকাল সোমবার রাত ৯টার দিকে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আনন্দবাজারের খবর, বিজেপি জিততে যাচ্ছে ২০৮ আসন। আর তৃণমূলের ঘরে যাচ্ছে ৭৯। ভোটের ফলাফলের এই খবর যখন আসছে, তখন বিজেপির কর্মীদের তোপের মুখে পড়লেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজয় নিশ্চিতের ইঙ্গিত দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বঙ্গে এবার বদল আসবে।
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভার আসন ২৯৪টি। সরকার গঠনের জন্য অন্তত ১৪৮টি আসনে জয় প্রয়োজন। সেই বিবেচনায় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পথে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। এই রাজ্য ছাড়াও গতকাল তামিলনাড়ু, আসাম, কেরালা ও পদুচেরির ফল ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে তামিলনাড়ুতে জিততে যাচ্ছেন জনপ্রিয় অভিনেতা জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর ওরফে থালাপতি বিজয়ের দল তামিলগা ভেট্টি কাজাগাম (টিভিকে)। আর আসামে বিজেপি, কেরালায় কংগ্রেস, আর পদুচেরিতে জিততে যাচ্ছে অল ইন্ডিয়া এনআর কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন জোট।
গত ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় ধাপের ভোট গ্রহণ হয়। এরপর গতকাল হলো ফল ঘোষণা। এর আগে থেকেই পশ্চিমবঙ্গে উত্তেজনা চলছিল। বিজেপি ও তৃণমূল—দুই দলই নিজেদের আগাম জয় দাবি করেছিল। তবে বুথফেরত জরিপে বলা হয়েছিল, এবার রাজ্য যাবে গেরুয়া রঙের দখলে। সেই চিত্রই গতকালের ফলাফলে উঠে এল। ভোটের ফলে ভালো করার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন জেলায় রংখেলাও শুরু করেছেন বিজেপির কর্মীরা। কলকাতার গণমাধ্যমগুলো বলছে, বাংলায় গেরুয়া ঝড়ে ঝরে পড়ল ঘাসফুল। কাকদ্বীপ থেকে কালিম্পং, গেরুয়া শিবির ইতিমধ্যেই উদ্যাপনে মেতে উঠেছে। কোথাও বাইক মিছিল, কোথাও বা গেরুয়া আবির খেলা, কোথাও আবার বিজেপির অফিসের সামনেই মিষ্টিমুখ। জেলায় জেলায় বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের তুমুল উচ্ছ্বাস চোখে পড়ার মতো।

রাজ্যে বিজেপির জয় হবে, সেটা আগে থেকেই বলে আসছিলেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। গতকাল সকালেই তিনি বলেন, এই রাজ্যে তাঁর দল সরকার গঠন করবে।
এদিকে জয়ের বার্তা পেয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, বিহার, ওডিশার মতো পশ্চিমবঙ্গের মানুষও এনডিএর ওপর ভরসা রেখেছে।
রাজ্যে অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ‘বাংলায় রাজনৈতিক হিংসায় অনেক জীবন নষ্ট হয়েছে, এবার বদলা নয়, বদল।’
আর পশ্চিমবঙ্গে জয়ের জন্য দলের কর্মী-সমর্থকদের ধন্যবাদ জানালেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন।
এদিকে ভোট চুরির অভিযোগ এনেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট গণনা দেখতে গতকাল নিজের আসন ভবানীপুরে যান তিনি। শুভেন্দু অধিকারী ওই কেন্দ্রে বিজেপির টিকিটে ভোটে দাঁড়িয়েছেন। আনন্দবাজার বলছে, এই আসনে হেরে যেতে পারেন তিনি। তবে এই আসনসহ ভোটে কারচুপির অভিযোগ এনেছেন মমতা। ভবানীপুরের ওই গণনাকেন্দ্র থেকে বেরোনোর সময় মমতা বলেন, শতাধিক আসনে গণনা লুটে নিয়েছে বিজেপি।
অপদস্থ মমতা, সংঘর্ষ
গতকাল চূড়ান্ত ফল আসার আগেই রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে জয় উদ্যাপন শুরু করেন বিজেপির কর্মীরা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনের বাইরে একদল বিজেপি কর্মী ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দেন। এ ছাড়া সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের গণনাকেন্দ্রে মুখ্যমন্ত্রীর যাওয়াকে ঘিরে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়। মমতার গাড়ি কেন্দ্রে পৌঁছানোমাত্র বিজেপির একদল কর্মী তাঁর উদ্দেশে ‘চোর’ বলতে থাকেন। ঘটনার আকস্মিকতায় পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তৃণমূল কর্মী-সমর্থকেরা এর প্রতিবাদ করলে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় বিপুলসংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
এদিকে তৃণমূল কর্মীদের পুলিশ এলাকা ছাড়তে বললে তার কিছু পরেই বিশাল মিছিল নিয়ে হাজির হন বিজেপি সমর্থকেরা। এরপরই পুলিশের উপস্থিতিতেই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় চেয়ার ভাঙচুর এবং একে অপরকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আরেক কেন্দ্র জগদীশচন্দ্র বোস কলেজের সামনেও ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয়। কলেজের ভেতরে ছিলেন তৃণমূল কর্মীরা। আর বাইরে লাঠি হাতে বিজেপি কর্মীদের মহড়া দিতে দেখা যায়।
এ ছাড়া গতকাল পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সচিবালয় নবান্নের সামনে বিজেপির একদল নারী কর্মী পৌঁছে স্লোগান দিতে থাকেন। কোচবিহারের দিনহাটায় বিজেপি ও তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিপেটা করে পুলিশ।
কে হচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে জানা যায়, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারীসহ রাজ্য বিজেপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, রাজ্যে বিজেপিই সরকার গঠন করতে যাচ্ছে।
তবে এবারের নির্বাচনী প্রচারণায় বিজেপি নারীর নিরাপত্তাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিল। সেই ধারা বজায় রাখতে দলটি একজন নারী মুখ্যমন্ত্রী নিয়োগ করতে পারে। সে ক্ষেত্রে অগ্নিমিত্রা পাল কিংবা রুপা গাঙ্গুলীর নাম সামনে আসতে পারে।
নারী মুখ্যমন্ত্রীর বাইরেও দলের অন্দরে বেশ কয়েকজনের নাম জোরালোভাবে শোনা যাচ্ছে। তাঁদের মধ্যে আছেন শুভেন্দু অধিকারী ও সমিক ভট্টাচার্য।
তৃণমূলের সাবেক নেতা এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের সহযোগী শুভেন্দু বর্তমানে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রীর দৌড়ে এগিয়ে আছেন। অন্যদিকে সদ্য নিযুক্ত রাজ্য বিজেপি সভাপতি সমিক ভট্টাচার্য আরএসএস ঘরানার মানুষ। দলের ভেতর তিনি ‘ঐকমত্যের নির্মাতা’ হিসেবে পরিচিত। এ ছাড়া আলোচনার টেবিলে রয়েছেন নিশীথ প্রামাণিক এবং দীর্ঘদিনের ‘স্ট্রংম্যান’ দিলীপ ঘোষ।
বিজয়ের জয়
এদিকে অন্যান্য রাজ্যেও ভোটের চিত্রে নাটকীয়তা দেখা যাচ্ছে। তামিলনাড়ুতে ভূমিধস জয়ের পথে এগিয়ে যাচ্ছেন সিনেতারকা থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া থালাপতি বিজয়ের দল তামিলগা ভেট্টি কাজাগাম (টিভিকে)। তারা এগিয়ে আছে ১০৭ আসনে। সরকার গঠনের জন্য তাঁর প্রয়োজন ১১৮টি।
আসামে ৯২টি আসনে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। এই রাজ্য সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬৪টি। সেখানে কংগ্রেস এগিয়ে ২৩টি আসনে। কেরালায় কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট ৮৯টি আসনে এগিয়ে। এই রাজ্যে সরকারে দরকার ৭১টি। পদুচেরিতে অল ইন্ডিয়া এনআর কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন জোট ১৮টি আসনে এগিয়ে। সরকার গঠনে প্রয়োজন ১৬। সেখানে কংগ্রেস এগিয়ে ৮টি আসনে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ-এর একটি শিল্পাঞ্চলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তিন ভারতীয় নাগরিক আহত হয়েছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরান-সংশ্লিষ্ট একটি ড্রোন হামলার পর ফুজাইরাহ পেট্রোলিয়াম ইন্ডাস্ট্রিজ জোনে আগুনের সূত্রপাত হয়।
৭ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি মার্কিন জাহাজে হামলা চালায়, তবে দেশটিকে ‘পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে ফেলা হবে’। সোমবার (৪ মে) ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন।
৮ ঘণ্টা আগে
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২৯৪ সদস্যের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সংখ্যাগরিষ্ঠতার জাদুকরী সংখ্যা অনায়াসে অতিক্রম করেছে। দলটি এখন পর্যন্ত ১৯৯টি আসনে জয়ী হয়েছে।
৯ ঘণ্টা আগে
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি জায়ান্ট স্যামসাং-এর নিয়ন্ত্রণকারী পরিবারটি ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ উত্তরাধিকার কর পরিশোধ সম্পন্ন করেছে। প্রায় ১২ ট্রিলিয়ন ওন (প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার) পরিমাণ এই কর পরিশোধ দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় উত্তরাধিকার কর নিষ্পত্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
১০ ঘণ্টা আগে