Ajker Patrika

তামিলনাড়ু নির্বাচন: অভিষেকেই বাজিমাত বিজয়ের, অভিনেতা থেকে মুখ্যমন্ত্রিত্বের দ্বারপ্রান্তে

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৫ মে ২০২৬, ০৯: ৩৮
তামিলনাড়ু নির্বাচন: অভিষেকেই বাজিমাত বিজয়ের, অভিনেতা থেকে মুখ্যমন্ত্রিত্বের দ্বারপ্রান্তে
সমর্থকদের মাঝে থালাপতি বিজয়। ছবি: সংগৃহীত

তামিলনাড়ুর ২৩৪ আসনের বিধানসভায় এককভাবে ১০৭টি আসন নিয়ে শীর্ষ দলে পরিণত হয়েছে সাবেক অভিনেতা থালাপতি বিজয়ের দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে)। বিজয়ের দল এখন একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমা থেকে মাত্র ১১ আসন দূরে। এই অবস্থায় প্রশ্ন উঠছে—সরকার গঠনে এই ম্যাজিক্যাল নম্বর বা গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যাগুলো কোথা থেকে আসবে এবং রাজ্যে কি ঝুলন্ত বিধানসভা দেখা যাবে?

ভারতীয় সংবিধান অনুসারে, একক বৃহত্তম দল হিসেবে টিভিকেকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাতে পারেন রাজ্যপাল বা গভর্নর। এমনকি টিভিকের এক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকার পরও সরকার গঠন সম্ভব। দলের ভেতরের নেতারা বাইরে থেকে সমর্থন পাওয়ার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী। তাঁরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন, বর্তমানে দ্রাবিড় মুন্নেত্রা কাজাগামের (ডিএমকে) সঙ্গে থাকা কয়েকটি দল—যেমন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস (যারা পাঁচটি আসন পেয়েছে), কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া, কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (মার্ক্সবাদী) এবং বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচ্চি (প্রতিটি দল দুটি করে আসন পেয়েছে) এসব দল টিভিকেকে সমর্থন দিতে পারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক টিভিকের এক জ্যেষ্ঠ নেতা ২০০৬ সালের উদাহরণ টেনে বলেন, তখন সংখ্যালঘু সরকার গঠন করেও ডিএমকে বাইরের সমর্থনে টিকে ছিল। এমন পরিস্থিতি ডিএমকে নেতৃত্বাধীন জোটের ভেতরের অংশীদারদের পুনর্বিন্যাসের সূচনা করতে পারে। বিশেষ করে কংগ্রেস আগে নির্বাচনের আগেই টিভিকের সঙ্গে জোট গঠনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখেছিল এবং সেই চাপ ব্যবহার করে ডিএমকের কাছ থেকে বেশি আসন ভাগ আদায় করেছিল—যা জোটের ভেতরের সম্পর্কের টানাপোড়েনের ইঙ্গিত দেয়।

টিভিকের জন্য আরেকটি সম্ভাব্য পথ হলো পাট্টালি মাক্কাল কাচ্চির সমর্থন, যাদের হাতে রয়েছে পাঁচটি আসন। তবে অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড় মুনেত্রা কাজাগামের (এআইডিএমকে) সঙ্গে সরাসরি কোনো সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ, দলটি ভারতীয় জনতা পার্টির সঙ্গে জোটে রয়েছে। বিজেপিকে বিজয় তাঁর আদর্শগত প্রতিপক্ষ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

টিভিকের ৩০ বছর বয়সী রেভান্থ চারণ মাদুরাভয়াল থেকে নির্বাচিত রাজ্যের অন্যতম কনিষ্ঠ বিধায়ক। তিনি সরকার গঠনের ব্যাপারে দলের সম্ভাবনা নিয়ে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘অস্থিতিশীলতার কোনো ভয় নেই। আমরা সরকার গঠন করব।’ তিনি আরও জানান, জোট বা অন্য দলের সমর্থন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে দলের উচ্চ নেতৃত্ব। শিগগিরই সরকার গঠন এবং গুরুত্বপূর্ণ তারিখ নিয়ে স্পষ্ট ঘোষণা আসবে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

এই পুরো রাজনৈতিক মুহূর্তের পটভূমি হলো টিভিকের ঐতিহাসিক অভিষেক। বিজয় নির্বাচনী রাজনীতিতে এক চমকপ্রদ সূচনা করেছেন। তাঁর দল একক বৃহত্তম শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে। তিনি নিজে পেরাম্বুর এবং ত্রিচি ইস্ট—দুই আসন থেকেই জয়ী হয়েছেন। পাশাপাশি, চেন্নাই শহরে ডিএমকের শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত এলাকায় টিভিকে বড় ধরনের অগ্রগতি দেখিয়ে ১৬ টির মধ্যে ১৪টি আসন জিতেছে।

পুরো প্রচারণাজুড়ে বিজয় এই লড়াইকে সরাসরি ডিএমকের বিরুদ্ধে হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। কোনো দল ক্ষমতা ভাগাভাগিতে রাজি না হওয়ায় তিনি এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ফলাফল দেখাচ্ছে, সেই ঝুঁকি সফল হয়েছে—তবে সরকার গঠন নির্ভর করবে নির্বাচনের পরের জোট-সমীকরণ কতটা দক্ষতার সঙ্গে সামলাতে পারেন তার ওপর। সূত্রগুলো বলছে, আগামী ৭ মেই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে পারে। এদিকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের লক্ষ্যে পেছনে জোরালো দর–কষাকষি চলছেই।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত