Ajker Patrika

ইরানের জাহাজ জব্দ করার ভিডিও ঘিরে নানা প্রশ্ন

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১৯: ৪৪
ইরানের জাহাজ জব্দ করার ভিডিও ঘিরে নানা প্রশ্ন
ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

হরমুজ প্রণালিতে ‘এপামিনোডাস’ ও ‘এমএসসি ফ্রান্সেসকা’ নামক দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ জব্দ করার রোমহর্ষক ভিডিও প্রকাশ করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, ইরানি পতাকা লাগানো বেশ কিছু স্পিডবোট জাহাজ দুটির দিকে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে এবং সশস্ত্র সেনারা কৌশলে জাহাজে আরোহণ করছে।

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম নূর নিউজ জানিয়েছে, সশস্ত্র বাহিনীর সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় প্রথমে এপামিনোডাস জাহাজটি লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। এরপর ইউফোরিয়া ও এমএসসি ফ্রান্সেসকা নামে আরও দুটি জাহাজে গুলি চালানো হলে তারা থামতে বাধ্য হয়। এর মধ্যে এপামিনোডাস ও এমএসসি ফ্রান্সেসকা জাহাজ দুটিকে জব্দ করে ইরানি উপকূলের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। আর ইউফোরিয়া নামের জাহাজটিকে ইরানি উপকূলের ৮ নটিক্যাল মাইল পশ্চিমে গুলি করে থামিয়ে দেওয়া হয়।

ভিডিওতে দেখা যায়, মুখে মাস্ক পরা এবং হাতে রাইফেল থাকা ইরানি সেনারা মই বেয়ে কনটেইনার জাহাজে উঠছে।

উল্লেখ্য, লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী এপামিনোডাস নামক জাহাজটি ভারতের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল।

ভিডিও নিয়ে বিবিসির বিশ্লেষণ: ‘সাজানো নাটক’ কি না প্রশ্ন

আইআরজিসির প্রকাশিত ভিডিওটি বিশ্লেষণ করেছে বিবিসি ভেরিফাই। প্রায় দুই মিনিটের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ছোট নৌকায় করে সশস্ত্র ব্যক্তিরা এমএসসি ফ্রান্সেসকা ও এপামিনোডাসের দিকে এগোচ্ছে। তবে বিবিসির বিশ্লেষণে কিছু অসংগতি ধরা পড়েছে।

সময়ের ব্যবধান: ভিডিওর ছায়া ও জাহাজের গতিপথ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এগুলো স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে ধারণ করা। অথচ জাহাজ দুটির ওপর প্রথম হামলার খবর এসেছিল তারও কয়েক ঘণ্টা আগে।

সন্দেহজনক দৃশ্য: ভিডিওতে দেখা যায়, ইরানি বোট পৌঁছানোর আগেই এমএসসি ফ্রান্সেসকার দরজা (হাচ) খোলা ছিল। এমনকি বোটটি পৌঁছানোর দৃশ্য জাহাজের ভেতর থেকে কেউ একজন ভিডিও করছিলেন, যা ইঙ্গিত দেয় যে কেউ আগে থেকেই সেখানে ক্যামেরা নিয়ে প্রস্তুত ছিলেন।

এপামিনোডাস জাহাজটি গ্রিসের মালিকানাধীন। গ্রিক কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, তাদের জাহাজটি জব্দ করা হয়নি এবং জাহাজের ক্যাপ্টেনের হাতে এখনো এর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তবে জাহাজ ট্র্যাকিং তথ্যে দেখা গেছে, এপামিনোডাস উত্তর-পশ্চিমে ইরানের কেশম দ্বীপের দিকে যাওয়ার সময় এর ট্রান্সপন্ডার (অবস্থান নির্দেশক যন্ত্র) বন্ধ করে দেওয়া হয়। একইভাবে এমএসসি ফ্রান্সেসকাও হামলার স্থানে কয়েক ঘণ্টা অবস্থান করার পর সেটির অবস্থান শনাক্তকারী যন্ত্রটি গতকাল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত