
মধ্যপ্রাচ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে এবার আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইরান-সংশ্লিষ্ট তেল ট্যাংকার ও বাণিজ্যিক জাহাজ জব্দের প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। আজ শনিবার (১৮ এপ্রিল) মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই আন্তর্জাতিক জলসীমায় এসব জাহাজে তল্লাশি চালানো এবং সেগুলোকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অভিযান শুরু হতে পারে।
ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে ‘ইকোনমিক ফিউরি’ নামক একটি বিশেষ অভিযানে নেমেছে। মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ডসহ অন্যান্য বিভাগ এই অভিযানে অংশ নেবে।
এর আওতায় ইরানের পতাকাবাহী জাহাজ বা তেহরানকে সহায়তা দেওয়া যেকোনো জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। বিশেষ করে ‘ডার্ক ফ্লিট’ বা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলা অবৈধ জাহাজগুলো, যারা পরিচয় গোপন করে তেল বা অস্ত্র বহন করছে, তাদের তাড়া করবে যুক্তরাষ্ট্র।
গত চব্বিশ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে ইরান। কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো ওয়াল স্ট্রিটকে জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে পেন্টাগন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওয়াশিংটন চাইছে, এই অর্থনৈতিক ও নৌ-অবরোধের মাধ্যমে তারা ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচিতে নমনীয় হতে এবং হরমুজ প্রণালি স্থায়ীভাবে খুলে দিতে বাধ্য করবে। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ইরানি বন্দর ত্যাগের চেষ্টাকালে ২৩টি জাহাজকে মার্কিন নৌবাহিনী ফিরিয়ে দিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুক্রবার দাবি করেছিলেন, ইরান তাদের উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিতে রাজি হয়েছে। তবে তেহরান এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। এ ছাড়া ইরান কত দিন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখবে এবং তাদের জব্দ করা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ফেরত পাবে কি না—তা নিয়েও বর্তমানে দর-কষাকষি চলছে।
ইরানের অপরিশোধিত তেলের প্রধান ক্রেতা চীন। জেনারেল কেইনের এই বক্তব্য মূলত বেইজিংয়ের জন্য একটি পরোক্ষ সতর্কবার্তা বলে মনে করছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। এ ছাড়া মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ নিষেধাজ্ঞার তালিকা আরও বড় করেছে। এর মধ্যে ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা উপদেষ্টা প্রয়াত আলী শামখানির ছেলে মোহাম্মদ হোসেন শামখানির নিয়ন্ত্রিত কোম্পানি ও জাহাজগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আগামী ২২ এপ্রিল দুই পক্ষের মধ্যকার অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। পাকিস্তানে গত সপ্তাহের আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় উভয় পক্ষই নতুন করে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইরান তাদের ভূগর্ভস্থ গুদাম থেকে ক্ষেপণাস্ত্র বের করে আনছে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে সামরিক অভিযান শুরু করতে তারা পুরোপুরি প্রস্তুত। তবে ট্রাম্প প্রশাসন এখনই স্থল সেনা পাঠাতে আগ্রহী নয়; বরং অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমেই সমাধান খুঁজছে।
ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এবং ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়ার মার্কিন অ্যাটর্নি জেনিন পিরো জানিয়েছেন, তারা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইরানি তেল কেনাবেচাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেবেন। এর আগে ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রেও একই ধরনের কৌশল ব্যবহার করে আটলান্টিক ও ভারত মহাসাগরে জাহাজ জব্দ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এবার আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবরোধ, ডার্ক ফ্লিট জব্দ এবং ক্ষেপণাস্ত্রের যন্ত্রাংশ চোরাচালান রোধ—এই তিন ফ্রন্টে আঘাত করে ইরানকেও আলোচনার টেবিলে নতি স্বীকারে বাধ্য করতে চাইছে ওয়াশিংটন।

চলমান সংকট নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া নতুন প্রস্তাবগুলো মূল্যায়ন করতে শুরু করেছে ইরান। তবে কূটনৈতিক আলোচনার এই আবহের মধ্যেও নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকার এবং কোনো ধরনের ছাড় না দেওয়ার কঠোর বার্তা দিয়েছে তেহরান।
৩ ঘণ্টা আগে
হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের ঘন ঘন অবস্থান পরিবর্তনে চটেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, হরমুজ বন্ধের ভয় দেখিয়ে ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ব্ল্যাকমেল’ করতে চাইছে। তবে তারা এটা করতে পারবে না।
৪ ঘণ্টা আগে
হামলার শিকার জাহাজ দুটির নাম ‘জগ অর্ণব’ ও ‘সানমার হেরাল্ড’। দুটি জাহাজেই সরাসরি গুলি করা হয়েছে। নয়াদিল্লি জাহাজ দুটিতে আইআরজিসির গুলির বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।
৫ ঘণ্টা আগে
হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় অপরিশোধিত তেলবাহী একটি ভারতীয় জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। আজ শনিবার ভারত সরকারের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এই ঘটনার পরপরই ভারতে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে নয়াদিল্লি।
৫ ঘণ্টা আগে