
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করে জুলাই সনদ অনুযায়ী সংস্কারের দাবিতে রাজপথে আন্দোলনে নেমেছে বিরোধী দল। প্রথম দফার সাত দিনের কর্মসূচি শেষ করে নতুন করে ১৫ দিনের আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ধাপে ধাপে আন্দোলন জোরদার করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।
বিএনপির সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র দুই মাসের মাথায় এমন কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী দলগুলোর এমন কর্মসূচিকে ‘নিরর্থক’ বলে অভিহিত করলেও পরিস্থিতির ওপর সতর্ক নজর রাখছে সরকার। সরকারি দলের নেতারা বলছেন, কর্মসূচির আড়ালে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে।
প্রথম দফার কর্মসূচি শেষে গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে দ্বিতীয় ধাপের কর্মসূচি ঘোষণা করে ঐক্যজোট। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আজ ১৮ এপ্রিল শনিবার থেকে ২ মে পর্যন্ত ধারাবাহিক কর্মসূচি পালিত হবে। আজ ঢাকায় গণমিছিল, ২৫ এপ্রিল বিভাগীয় শহরগুলোতে (ঢাকা ছাড়া) এবং ২ মে জেলা শহরগুলোতে গণমিছিল অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি পুরো সময়ে বিভাগীয় ও গুরুত্বপূর্ণ জেলা শহরে লিফলেট বিতরণ ও সেমিনারের আয়োজন রাখা হয়েছে।
১১ দলীয় ঐক্যজোটের নেতাদের অভিযোগ, সরকার জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার সংকুচিত করছে। এ প্রেক্ষাপটেই তারা ধারাবাহিক আন্দোলনের পথে হাঁটছেন। অন্যদিকে সরকার বলছে, এসব কর্মসূচি মূলত রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির কৌশল, যা জনদুর্ভোগ বাড়াতে পারে। সহিংসতা বা নাশকতার আশঙ্কা দেখা দিলে তা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।
জুলাই সনদের বাস্তবায়ন নিয়ে বিরোধী দলগুলোর আন্দোলনকে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা বলে মনে করছেন সরকারি দলের নেতারা। তাঁরা বলছেন, এটা খুব বড় কোনো ইস্যু নয়। বিরোধীরা এটাকে কেন্দ্র করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। বিএনপি জুলাই সনদের বাস্তবায়ন চায় না—এমন একটি ধারণাকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাচ্ছে। তাদের ধারণা, এটা করা সম্ভব হলে জনগণের কাছে বিএনপির ভাবমূর্তি কিছুটা হলেও ক্ষুণ্ন করা সম্ভব হবে এবং এতে করে তারা লাভবান হবে। তবে যেকোনো ধরনের সহিংসতা বা নাশকতার চেষ্টা জনগণকে সঙ্গে নিয়েই রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা হবে বলে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন সরকারি দলের নেতারা।
এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও দল থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শাহজাহান গতকাল শুক্রবার আজকের পত্রিকাকে বলেন, দেশে বিরাজমান গণতান্ত্রিক পরিবেশে সবার মতপ্রকাশের অধিকার রয়েছে। তবে দাবি আদায়ের নামে যদি নাশকতা বা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা হয়, সে ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
অন্যদিকে বিরোধী আন্দোলনের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। তিনি বলেন, নির্বাচনে পরাজয়ের পর নেতা-কর্মীদের সক্রিয় রাখতেই বিরোধী দলগুলো এ কর্মসূচি দিচ্ছে। তাঁর ভাষায়, ‘যে ইস্যুতে আন্দোলন করা হচ্ছে, সে বিষয়ে সরকার ইতিমধ্যে অবস্থান পরিষ্কার করেছে। জুলাই সনদ নিয়ে তাদের আন্দোলন অনেকটা শীতকালে ব্যাঙের ডাকের মতো।’
তবে সরকারের ভেতরেও জুলাই সনদ ইস্যুতে আরও সুস্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তার কথা উঠছে। বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক নেতা মনে করছেন, এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যার ঘাটতি থাকায় বিরোধী দলগুলো সুযোগ পাচ্ছে। ফলে সরকারের আন্তরিকতা আরও জোরালোভাবে জনসমক্ষে তুলে ধরা জরুরি।
এদিকে বিরোধীদের কর্মসূচির পাল্টা কৌশল হিসেবে সরকার স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের দিকেও এগোচ্ছে। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনের উপযোগী তথ্য সংগ্রহ করেছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যেই এসব প্রতিষ্ঠানে সাধারণ প্রতীকে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধানের বাসার সামনে ‘মব সৃষ্টি’ ও পঞ্চগড়ে জাগপার জেলা কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
১৪ ঘণ্টা আগে
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শুরু করা কিছু কাজ চালিয়ে নেওয়া দরকার বলে মনে করেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। আজ শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা জানান তিনি।
১৪ ঘণ্টা আগে
সংসদে কথা বলার যোগ্যতা রয়েছে—এমন প্রার্থীদেরই মূল্যায়ন করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। আজ শুক্রবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার শুরুর আগে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ কথা বলেন।
১৪ ঘণ্টা আগে
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১২ মার্চ প্রথম অধিবেশনে উত্থাপিত ১৩৩টি অধ্যাদেশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তির কথা থাকলেও অধিকাংশই আলোচনায় আনা হয়নি। কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে সব অধ্যাদেশ সংসদের টেবিলে আনার বিষয়ে সম্মতি থাকার পরও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি এবং আলোচ্যসূচিতে মাত্র একটি বিষয় রাখা হয়।
১ দিন আগে