Ajker Patrika

এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

মো. হুমায়ুন আহমেদ
আপডেট : ২৮ জুন ২০২৬, ১৪: ১৮
এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
ফাইল ছবি

২ জুলাই থেকে সারা দেশে একযোগে শুরু হতে যাচ্ছে উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষা। শিক্ষাজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে এই পরীক্ষাকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই একধরনের উদ্বেগ, চাপ ও প্রত্যাশা কাজ করে। তবে মনে রাখতে হবে, সঠিক প্রস্তুতি ও ইতিবাচক মানসিকতা থাকলে এই পথচলাকে অনেকটা সহজ করা সম্ভব। শিক্ষার্থীদের এইচএসসি পরীক্ষায় ভালো ফল করতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরামর্শ নিয়ে থাকছে আজকের আলোচনা—

১. পরীক্ষার আগে সবচেয়ে বড় করণীয় হলো নিজের প্রস্তুতিকে গুছিয়ে নেওয়া। শেষ মুহূর্তে নতুন কিছু শেখার চেয়ে আগে যা পড়া হয়েছে, সেগুলো বারবার অনুশীলন করা বেশি কার্যকর। অতিরিক্ত পড়ার চাপ মস্তিষ্ককে বিভ্রান্ত করে ফেলে। এতে আত্মবিশ্বাস কমে যায়।

২. পরীক্ষার আগের দিন প্রবেশপত্র দেখে পরীক্ষার কেন্দ্র নিশ্চিত হয়ে নিতে হবে। পরীক্ষা শুরুর কমপক্ষে ৩০ মিনিট আগেই পরীক্ষার কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। তাই কেন্দ্রের অবস্থান ও যাতায়াতের ব্যবস্থা সম্পর্কে আগেই স্পষ্ট ধারণা নিয়ে কীভাবে কেন্দ্রে পৌঁছাবে, তা ঠিক করে রাখা জরুরি।

৩. পরীক্ষার আগের দিন রাতে পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত ও পরিমিত খাবার গ্রহণ এবং মানসিক চাপ কম রাখার চেষ্টা করতে হবে। অসুস্থ হয়ে গেলে পড়া বা পরীক্ষা—কোনোটাই কাজে আসবে না। শরীর ভালো থাকলে মনও ভালো থাকবে, পরীক্ষাও ভালো হবে। এত দিনে অনেক পড়ালেখা হয়েছে, পরীক্ষার দিন সকালের জন্য কোনো পড়া রাখবে না। নিজেকে রিলাক্স রাখবে।

৪. পরীক্ষার আগের দিনে প্রবেশপত্র, রেজিস্ট্রেশন কার্ড, স্কেল, একাধিক কালো অথবা নীল বলপেন, কাঠপেনসিল ও ইরেজার, ক্যালকুলেটর (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বোর্ডের নির্দেশনা মোতাবেক) এবং কাঁটাযুক্ত ঘড়ি গুছিয়ে রাখতে হবে। এতে পরীক্ষার আগে চাপমুক্ত থাকা যাবে।

৫. অযাচিত ঝামেলা এড়াতে পরীক্ষার হলে বোর্ড কর্তৃক অননুমোদিত কোনো কিছু নিয়ে যাওয়া যাবে না; যেমন উত্তরপত্রের নিচে সহায়ক হিসেবে ব্যবহারের জন্য মোটা কাগজ, বোর্ড, বই, ব্যাগ, স্মার্ট ওয়াচ, অন্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস এবং আগের পরীক্ষার প্রশ্ন ইত্যাদি।

৬. নির্ধারিত আসনে বসে বেঞ্চ নড়াচড়া করছে কি না দেখতে হবে। বেঞ্চ নড়াচড়া করলে লেখায় ব্যাঘাত হতে পারে। এই বিষয়ে কক্ষ পর্যবেক্ষককে জানালে তিনি সমস্যা সমাধানের ব্যবস্থা করবেন।

মো. হুমায়ুন আহমেদ। ছবি: লেখক
মো. হুমায়ুন আহমেদ। ছবি: লেখক

৭. পরীক্ষা শুরু হওয়ার পরে এক ঘণ্টা অতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনো পরীক্ষার্থী কক্ষের বাইরে যেতে পারবে না। তাই চাপমুক্ত থাকতে পরীক্ষা শুরুর আগেই প্রাকৃতিক প্রয়োজন শেষ করে নিতে হবে।

৮. উত্তরপত্র হাতে পাওয়ার পর অত্যন্ত সাবধানতার সঙ্গে কোনো কাটাকাটি/ঘষামাজা ছাড়া উত্তরপত্রের কভার পৃষ্ঠার (ওএমআর) নির্ধারিত স্থানে বোর্ডের নাম, পরীক্ষার নাম, রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, বিষয় কোড, সেট কোড সঠিকভাবে কালো কলম দিয়ে লিখবে এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বৃত্ত ভরাট করবে। এরপরও যদি ভুল হয়ে যায়, উদ্বিগ্ন না হয়ে, কক্ষ পর্যবেক্ষককে বিষয়টি জানাতে হবে। উত্তরপত্রের শেষ পৃষ্ঠায় এবং প্রবেশপত্রের পেছনের পৃষ্ঠায় বর্ণিত নিয়মাবলিসহ বোর্ডের নির্দেশনা যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে।

৯. প্রশ্নপত্রে বা প্রবেশপত্রে প্রশ্নের উত্তর অথবা অন্য কিছু লেখা থেকে বিরত থাকতে হবে। উত্তরপত্রের কভার পৃষ্ঠায় (ওএমআর) কোনোক্রমেই ভাঁজ করা যাবে না। এ ছাড়া উত্তরপত্রের কোনো পৃষ্ঠায় অপ্রাসঙ্গিক বা আপত্তিজনক লেখা, কোনো অসংগত মন্তব্য বা অনুরোধ বা উত্তরপত্র চিহ্নিত করে এমন কোনো দাগ/সাংকেতিক চিহ্ন ইত্যাদি লেখা থেকে বিরত থাকতে হবে। অন্যথায় উত্তরপত্রটি বাতিল হয়ে যেতে পারে।

১০. পরীক্ষার হলে সময় ব্যবস্থাপনা একটি গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা। প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়ার পর তা মনোযোগ দিয়ে পড়ে নিতে হবে। যেসব প্রশ্ন ভালোভাবে জানা আছে, সেগুলো আগে উত্তর করা উচিত। এতে আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং পুরো পরীক্ষায় একটি ইতিবাচক ধারা তৈরি হয়। প্রতিটি প্রশ্নের জন্য যত মিনিট সময় পাওয়া যাবে, সেই সময়ের মধ্যেই লেখা শেষ করতে হবে। অন্যথায় পরের প্রশ্নের উত্তর লিখতে সময়ের সংকুলান হবে না। প্রতিটি প্রশ্নে প্রাপ্য সময় = প্রশ্নপত্রে উল্লিখিত মোট সময় ÷ যতটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে—এই নিয়মে। এ ক্ষেত্রে মোট প্রাপ্ত সময় থেকে ১০ মিনিট খাতা রিভিশনের জন্য রেখে উল্লিখিতভাবে প্রতিটি প্রশ্নের সময় বণ্টন করে নেবে।

১১. যেকোনো পরীক্ষায় খাতার উপস্থাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। না জেনে উত্তরে অপ্রাসঙ্গিক তথ্য লেখার চেয়ে, প্রাসঙ্গিক তথ্য কম অথচ সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে পারলে ভালো নম্বর পাওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে ‘লিখব কম, সাজাব বেশি’—ধারণাটি মাথায় রাখা যেতে পারে। হাতের লেখা খারাপ হলে প্রতিটি শব্দ ও লাইনের মাঝে ফাঁকা রেখে লিখতে হবে। খাতায় মার্জিন টেনে লিখলে লেখা সুন্দর দেখায়।

১২. পরীক্ষার আগে বা হলে অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণ করতে সচেষ্ট থাকবে। শান্ত মস্তিষ্কে উত্তর করার চেষ্টা করতে হবে। পরীক্ষার হলে যদি কোনো সময় নিজেকে অস্থির মনে হয়, ওখানেই থেমে যাবে। এরপর চোখ বন্ধ করে জোরে জোরে নিশ্বাস নিয়ে ধীরে ধীরে নিশ্বাস ছাড়বে। এভাবে স্বাভাবিক হওয়ার জন্য দু-এক মিনিট সময় নিয়ে পুনরায় লেখা শুরু করবে। প্রয়োজনে পানি পান করবে।

১৩. নিজেকে অন্যের সঙ্গে তুলনা করবে না। অন্যদের প্রতিযোগী না ভেবে নিজেকে নিজের প্রতিযোগী ভাবতে হবে। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর প্রস্তুতি, সক্ষমতা ও শেখার গতি ভিন্ন। কেউ যদি বলে তার সব পড়া শেষ, সেটি শুনে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করাই শ্রেয়।

পরিশেষে একটি কথা বলতে চাই, পরীক্ষা জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপমাত্র। ভালো ফল অবশ্যই আনন্দের, তবে তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো সততা, পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাস। এই গুণগুলোই একজন মানুষকে জীবনের বড় পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে যাও, সাফল্য তোমাদের হাতের মুঠোয় ধরা দেবে।

লেখক: প্রভাষক ব্যবস্থাপনা, ৪১তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা), মেহেরপুর সরকারি মহিলা কলেজ, মেহেরপুর

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত