Ajker Patrika

সিলেটে ট্রিপল মার্ডার: নেপথ্যের কারণ জানাল পুলিশ

সিলেট প্রতিনিধি
সিলেটে ট্রিপল মার্ডার: নেপথ্যের কারণ জানাল পুলিশ
ছবি: সংগৃহীত

সিলেট নগরীর রায়নগরে প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা, তাঁর স্ত্রী ও তাঁদের গৃহপরিচারিকা নৃশংসভাবে খুন হয়েছেন। গৃহপরিচারিকার সঙ্গে তর্কের জেরে এই ট্রিপল মার্ডারের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আজ বুধবার বিকেল ৫টার দিকে এ ঘটনায় জড়িত অভিযুক্ত রংমিস্ত্রি বাবুল মিয়াকে (৪০) তাঁর বাসা থেকে আটক করেছে পুলিশ। তিনি ইতিমধ্যে পুলিশের কাছে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন।

আজ বুধবার সন্ধ্যায় বিষয়টি আজকের পত্রিকাকে নিশ্চিত করেছেন সিলেট মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

আর সন্ধ্যায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের বাবুলের স্বীকারোক্তির বিষয়টি জানান সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম।

বাবুল মিয়া নগরীর রায়নগরের রাজবাড়ী এলাকার আক্তার মিয়ার কলোনিতে থাকেন। তিনি মৃত নূর মিয়া ওরফে নূর কবিরাজের ছেলে। তিনি রংমিস্ত্রির কাজ করতেন এবং বিবাহিত ছিলেন।

এর আগে আজ সকালে সিলেট নগরীর রায়নগরের একটি বাসায় বৃদ্ধ স্বামী-স্ত্রী ও গৃহপরিচারিকার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত ব্যক্তিরা হলেন বাড়ির মালিক আব্দুস সাত্তার (৯০), তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) ও তাঁদের গৃহপরিচারিকা তাহমিনা বেগম (২৫)। আব্দুস সাত্তার রায়নগরের নিজের বাসায়ই থাকতেন।

এই দম্পত্তির চার সন্তানের মধ্যে দুজন লন্ডনে ও দুজন যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। নিহত আব্দুস সাত্তার সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের উপদেষ্টা ও সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সাবেক পরিচালক ছিলেন।

পুলিশ জানায়, বাবুল মিয়া কিছুদিন আগে ওই বাসায় রঙের কাজ করেছিলেন। সেই সুবাদে ওই বাসার গৃহপরিচারিকাকে তাঁর পছন্দ হয়। তখন ওই গৃহপরিচারিকার সঙ্গে তাঁর হালকা সম্পর্ক হয়। পরে তিনি তাঁকে বাজে প্রস্তাব দেন। এটা নিয়ে ওই গৃহপরিচারিকা তাঁকে গালিগালাজ করেন। পরে আজকে আবার তিনি ওই বাসায় যান। তখন তিনি তাঁকে গালাগালি করার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে কথা-কাটাকাটি হয়।

এর একপর্যায়ে তিনি ওই গৃহপরিচারিকাকে একটি চাকু দিয়ে অনেকগুলো ছুরিকাঘাত করেন। বুকে, গলায়, ঘাড়ে ও পিঠে অনেকগুলো ছুরিকাঘাত করে তাঁকে মেরে ফেলেন। গৃহপরিচারিকাকে যখন ছুরিকাঘাত করেন, তখন সুরাইয়া বেগম রান্নাঘরে ছিলেন। তিনি চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে দৌড়ে সেখানে যান। গিয়ে তাঁকে বাধা দিলে তাঁকেও মেরে ফেলেন। পরে বৃদ্ধ আব্দুস সাত্তারকে ড্রয়িং রুমে মেরে তারপর তিনি পেছনের বারান্দা দিয়ে দরজার ছিটকিনি আটকে দুই তলা থেকে লাফ দিয়ে চলে যান।

উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে তাকে আইডেন্টিফাই করেছি, পরে ধরেছি। সে আমাদের সামনে হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। তাকে নিয়ে অস্ত্র উদ্ধারে যাচ্ছি। রাতেও আবার তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে হবে। পরে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত