Ajker Patrika

সিটি কলেজে সংঘর্ষে পুলিশের নীরবতা নিয়ে অভিযোগ, কমিশনারকে স্মারকলিপি দিল শিবির

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১৬: ৪৩
সিটি কলেজে সংঘর্ষে পুলিশের নীরবতা নিয়ে অভিযোগ, কমিশনারকে স্মারকলিপি দিল শিবির
আজ সকালে চট্টগ্রামে পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীর হাতে ৬ দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি তুলে দেন সাদিক কায়েম। ছবি: আজকের পত্রিকা

চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের সময় দায়িত্বে থাকা পুলিশের ‘নীরব ভূমিকা’ নিয়ে অভিযোগ করেছেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম।

বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে চট্টগ্রাম নগরের লালদীঘিতে অবস্থিত পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ মন্তব্য করেন। এর আগে সংঘর্ষের ঘটনায় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে ছয় দফা দাবিসংবলিত একটি স্মারকলিপি পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীর হাতে তুলে দেন সাদিক কায়েম। এ সময় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

পরে পুলিশ কমিশনার কার্যালয় থেকে বেরিয়ে সাদিক কায়েম সাংবাদিকদের বলেন, ‘পুলিশের সামনেই ছাত্রদলের বহিরাগত সন্ত্রাসীরা চাপাতি, কিরিচ ও হকিস্টিক নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শিবিরের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। কিন্তু সে সময় পুলিশ কেন নীরব ভূমিকা পালন করেছে—এ বিষয়ে পুলিশের কাছে জানতে চেয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘এ ধরনের আচরণ আমরা আওয়ামী লীগের আমলে দেখেছিলাম। ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা যখন সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করত, তখনো পুলিশ অনেক সময় নীরব থাকত। জুলাই বিপ্লবের পর আবার কীভাবে এ ধরনের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নীরব থাকে—সেটি আমাদের প্রশ্ন।’

সাদিক কায়েম বলেন, এ ধরনের ঘটনায় যেসব পুলিশ সদস্য দায়িত্বে অবহেলা করেছেন, তাঁদের বিচারের আওতায় আনার পাশাপাশি পুরো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। স্মারকলিপিতে উত্থাপিত দাবিগুলো পূরণের বিষয়ে পুলিশ কমিশনার আশ্বাস দিয়েছেন বলেও তিনি জানান।

তিনি বলেন, ‘এখন আমরা দেখতে চাই, কথার সঙ্গে কাজে মিল থাকে কি না। যদি ব্যত্যয় ঘটে, তাহলে আমরা মনে করব—সন্ত্রাসীদের প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে।’

সাদিক কায়েম বলেন, ‘আপনি হামলা করবেন, চাপাতি নিয়ে ঘুরবেন। তারপর আপনি দায়মুক্তি পেয়ে যাবেন। এটা কিন্তু হবে না। ছাত্রলীগ এই ধরনের সন্ত্রাস করেছিল—হেলমেট পরে, চাপাতি দিয়ে তারা হামলা করেছিল, তারা কিন্তু রেহাই পায়নি। ১৭ জুলাই তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পালিয়েছে। সুতরাং, এই ধরনের রাজনীতি আপনারা করতে চাইলে আপনারা নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারতেছেন। আপনাদের অনুরোধ করব আপনারা জালেম হওয়ার চেষ্টা করবেন না। আমরা চাই—সবাই একসঙ্গে মিলে একটা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নির্মাণ করব, ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করব।’

এক প্রশ্নের জবাবে সাদিক কায়েম বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন, সিটি কলেজে ছাত্রদল বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে এসে কিরিচ, হকিস্টিক ও লাঠিসোঁটা দিয়ে আমাদের নেতা-কর্মীদের ওপর নৃশংসভাবে হামলা করেছে। আমাদের ৩০-এর বেশি নেতা-কর্মী আহত হয়েছে, শিক্ষকেরা আহত হয়েছেন এবং হামলায় শিবিরের ওয়ার্ড সভাপতিকে এখন সংকটাপন্ন অবস্থায় আছেন, চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে তাঁর পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। আমরা তাঁকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের দেওয়া স্মারকলিপিতে বলা হয়, ‘ঘটনার দিন জুলাই বিপ্লবের শহীদদের স্মরণে স্থাপিত ফেস্টুন ও পোস্টার ছেঁড়া নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে কলেজ প্রশাসনের সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে আলোচনা করতে গেলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ছাত্রদল বহিরাগতদের নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।’

স্মারকলিপিতে ছয় দফা দাবি জানানো হয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার, ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা তদন্ত এবং শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতা প্রতিরোধে নিরাপত্তা জোরদার করা।

উল্লেখ্য, গতকাল (২১ এপ্রিল) চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে গ্রাফিতির শব্দ পরিবর্তন এবং তা নিয়ে ফেসবুক লাইভকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

গতকাল দিনভর দফায় দফায় চলা ওই সংঘর্ষে শিবিরের এক ওয়ার্ড সভাপতির পায়ের গোড়ালি প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ ছাড়া সিটি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক সোহেল ছিদ্দিকী রনিসহ দুই পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। বিকেলে নগরের ব্যস্ত নিউমার্কেট মোড় এলাকায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত