Ajker Patrika

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলা, তেলের দাম ফের বাড়ল ৪ শতাংশের বেশি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২৬, ১১: ৫২
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলা, তেলের দাম ফের বাড়ল ৪ শতাংশের বেশি
জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান নতুন করে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলা শুরু করার হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন আবারও হুমকির মুখে পড়েছে। এতে আজ সোমবার তেলের দাম ৪ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

গ্রিনিচ মান সময় ভোররাত ৩টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের (বা যেসব অপরিশোধিত ব্রেন্ট ভবিষ্যতের কোনো একসময়ে সরবরাহ করা হবে) দাম ৩ দশমিক ১০ ডলার বা ৪ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৭৯ দশমিক ১১ ডলারে পৌঁছায়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুড ২ দশমিক ৯৫ ডলার বা ৪ দশমিক ১১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৭৪ দশমিক ৩৬ ডলারে দাঁড়ায়।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনী রোববার ইরানের বিরুদ্ধে আরও এক দফা হামলা সম্পন্ন করেছে এবং সুনির্দিষ্ট অস্ত্র দিয়ে একাধিক স্থানে কয়েক ডজন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস সোমবার জানিয়েছে, তারা কুয়েত, জর্ডান ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার বলেছেন, হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে, যদিও ইরান এর আগে ঘোষণা করেছিল যে একটি জাহাজ অনুমোদনহীন রুটে চলার পর সেটির ওপর আঘাত হেনে তারা প্রণালিটি বন্ধ করে দিয়েছে।

ফেব্রুয়ারির শেষে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। জ্বালানি ও জাহাজ পরিবহনের তথ্য রাখা প্রতিষ্ঠান কেপলারের জাহাজ ট্র্যাকিং উপাত্ত অনুসারে, রোববার মাত্র ছয়টি জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করেছে, যা গত পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন সংখ্যা।

এই ক্রমবর্ধমান হামলা গত মাসে স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির ভবিষ্যৎকে আরও সংশয়ের মুখে ফেলে দিয়েছে, যার লক্ষ্য ছিল প্রণালিটি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং আরও ৬০ দিনের আলোচনার পর যুদ্ধের অবসান ঘটানো।

চুক্তির পর জুনে বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহ প্রতিদিন ৪১ লাখ ব্যারেল বৃদ্ধি পেলেও তা যুদ্ধপূর্ব অবস্থার চেয়ে প্রতিদিন ৯৪ লাখ ব্যারেল কম ছিল বলে শুক্রবার আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা তাদের মাসিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।

বাজার বিশ্লেষণী প্রতিষ্ঠান এএনজের বিশ্লেষকেরা এক নোটে বলেছেন, ‘সপ্তাহান্তে (গত রোববার পর্যন্ত) উত্তেজনা বৃদ্ধির পর সাম্প্রতিক এই সংঘাতের তুলনামূলক দ্রুত সমাধানের আশা এখন সংশয়ের মুখে পড়তে পারে।’ আরেক বাজার বিশ্লেষণী প্রতিষ্ঠান আইজির বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, তেলের দামের এই তুলনামূলক মৃদু বৃদ্ধি ইঙ্গিত করে যে বাজার এটিকে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি হিসেবে দেখছে এবং এটিকে যুদ্ধবিরতির সম্পূর্ণ ভেঙে পড়া বলে মনে করছে না। এক নোটে তিনি বলেন, ‘এই দৃষ্টিভঙ্গি কতটা সঠিক তা দেখার বিষয়।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত