Ajker Patrika

পাবনার ভাঙ্গুড়া: পাট ক্রয় কেন্দ্র প্রভাবশালীর দখলে

  • জায়গা দখল করে বাণিজ্যিক ভবন, স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির।
  • লিজ নিয়ে করা হয়েছে বাড়ি। সেই বাড়ি ভাড়া দেওয়া হয়েছে।
  • জায়গা বিক্রির অভিযোগও আছে প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। ঘটছে প্রশাসনের নাকের ডগায়।
­­শাহীন রহমান, পাবনা
আপডেট : ২৬ মে ২০২৬, ১২: ৩৩
পাবনার ভাঙ্গুড়া: পাট ক্রয় কেন্দ্র প্রভাবশালীর দখলে

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার বড়াল ব্রিজ রেলওয়ে স্টেশনের পাশে চৌবাড়িয়া গ্রামে রেলওয়ের খেলার মাঠের পাশে বাংলাদেশ জুট করপোরেশনের পাট ক্রয় কেন্দ্র। এটি এখন বন্ধ। তবে এর সাড়ে তিন একর জায়গা পুরোটা প্রায় বেহাত হয়েছে। লিজের নামে সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে বাড়ি। এ ছাড়া পাট ক্রয় কেন্দ্রের জায়গা দখল করে বাণিজ্যিক ভবন, বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দিরও করা হয়েছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব দখল হলেও তাতে নজর নেই কারও।

একসময় চলনবিল অঞ্চলের পাটচাষিদের আনাগোনায় মুখর থাকত এই পাট ক্রয় কেন্দ্র। এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নব্বইয়ের দশকের শেষ নাগাদ পাট ক্রয় কেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে যায়। এর পর থেকে প্রায় সাড়ে তিন একর জায়গা দখল শুরু হয়। তবে সর্বশেষ ২০২৩ সাল থেকে জুট করপোরেশনের কাছ থেকে এই পাট ক্রয় কেন্দ্রের ২ দশমিক ১৯ একর জমি বৈধ প্রক্রিয়ায় লিজ নেন বি এম গোলজার হোসেন। এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, লিজ নেওয়ার পর তিনি সেখানকার মূল্যবান জিনিসপত্র বিক্রি করেছেন। এ ছাড়া ওই জায়গা তিনি সাব-লিজ দিয়েছেন। এরপর সেখানে গড়ে উঠেছে পাকা ঘর। এমনকি পাট ক্রয় কেন্দ্রের জমি বিক্রির অভিযোগও উঠেছে গোলজার হোসেনের বিরুদ্ধে।

চৌবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা জুয়েল রানা বলেন, পাট ক্রয় কেন্দ্রটি বেদখল হয়ে গেছে। জমি কেনাবেচা হচ্ছে। কিন্তু দেখার কেউ নেই।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বি এম গোলজার হোসেন। তিনি বলেন, ‘বিক্রি করার অভিযোগ সঠিক নয়। তার এখতিয়ারও আমার নেই। তবে দোকানপাট ও ঘর নির্মাণ করে ভাড়া দেওয়ার এখতিয়ার আমার আছে। বাৎসরিক দেড় লাখ টাকায় আমি এখানে আছি।’

তবে জমির শ্রেণি পরিবর্তনের প্রমাণ পাওয়া গেছে ওই এলাকা ঘুরে। লিজের ওই জমিতে তৈরি করা ঘরে ভাড়া থাকেন ষাটোর্ধ্ব বিধবা আছিয়া খাতুন। তিনি বলেন, ‘এখানে দুখু মিস্ত্রির কাছ থেকে জমি কিনেছেন জহুরুল ইসলাম নামের একজন। সে এখানে ঘর করে ভাড়া দিয়েছে। আমাদের থাকার মতো বাড়িঘর নেই। তাই এখানে জহুরুলের কাছ থেকে ঘর ভাড়া নিয়ে চার বছর ধরে বসবাস করছি। প্রতি মাসে ১ হাজার ২০০ টাকা ভাড়া দিই।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, ‘গোলজার হোসেন লিজ নিলেও পাট ক্রয় কেন্দ্রের জায়গা বিক্রি হয়ে কয়েক হাত বদল হয়েছে। কেউ ঘর নির্মাণ করে ভাড়া দিয়ে খাচ্ছেন। বিক্রি না হলে পাকা ঘরবাড়ি, স্কুল কীভাবে হয়। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এটা অবৈধ দখলে চলে যায়।’

ভাঙ্গুড়ার এই পাট ক্রয় কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, সেখানে রয়েছে ভাঙ্গুড়া মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মিফতাহুল ফালাহ প্রি-ক্যাডেট মাদ্রাসা, একটি মসজিদ, একটি মন্দির। এ ছাড়া শওকত আলী ও আফরোজা বেগম নামের দুজনও জায়গা দখল করেছেন।

ভাঙ্গুড়া মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আব্দুল হাই সিদ্দিকী বাচ্চু বলেন, ‘আমরা স্থানীয় ভূমি অফিস থেকে ৮ শতাংশ জায়গা লিজ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি করেছি।’

জমি দখলের কথা স্বীকার করেছেন মিফতাহুল ফালাহ প্রি-ক্যাডেট মাদ্রাসার পরিচালক গোলাম মোস্তফা রবি। তিনি বলেন, ‘অনেকেই জায়গা দখল করেছে। সেটা দেখে আমিও একটি মাদ্রাসা করেছি। আমি কোনো লিজ নিইনি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভাঙ্গুড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমার জানা মতে, এ বছর বা গত বছর ভূমি অফিস থেকে সেখানে কোনো জায়গা লিজ দেওয়া হয়নি। আর জমি লিজ নিলে তো প্রতিবছরই রিনিউ করতে হয়। আমরা সরেজমিন তদন্ত করে দখলকারীদের তালিকা করব।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত