
নরসিংদীর রায়পুরায় একই নাম ও একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শনাক্তকরণ নম্বর (ইআইআইএন) ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হচ্ছে দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এতে প্রশাসনিক জটিলতার পাশাপাশি বিপাকে পড়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। একই পরিচয়ে দুটি প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম, বোর্ডের তথ্য, সরকারি কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের নিবন্ধন ও বিভিন্ন নথিপত্রে বারবার জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের গৌরিপুরে অবস্থিত কোহিনুর জুট মিলস হাই স্কুলের চারতলা ও টিনশেডের ভবনে শতাধিক শিক্ষার্থী নিয়ে নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অন্যদিকে কোহিনুর জুট মিলস হাই স্কুল (ঘাগটিয়া) নামে ভাড়া নিয়ে পরিচালিত অপর প্রতিষ্ঠানটি দুই চালা টিনের তিনটি কক্ষে চলছে।
সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান জানায়, সপ্তম শ্রেণিতে ১০৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। সবাই উপস্থিত হলে ছোট এই রুমে একসঙ্গে শ্রেণি কার্যক্রম করা যায় না।
গৌরীপুর কোহিনূর জুটমিল হাইস্কুলের শিক্ষক মো. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমি ২০১২ সালের আগস্ট মাসে এই বিদ্যালয়ে যোগদান করি। গৌরীপুরের বিদ্যালয়টিই মূল ক্যাম্পাস, আর ঘাগটিয়া শাখাটি অস্থায়ী ক্যাম্পাস। বর্তমানে মূল ক্যাম্পাসে আমি এমপিওভুক্ত শিক্ষক রয়েছি। দীর্ঘদিন ধরে বেতন পাচ্ছি না। সর্বশেষ আরও দুজন শিক্ষক ঘাগটিয়া শাখায় চলে গেছেন। সেখানে বসেই তাঁরা সরকারি বেতন-ভাতা নিচ্ছেন।’
মুস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, ‘মূল ক্যাম্পাসে বর্তমানে প্রায় ৩৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। মাত্র পাঁচজন খণ্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে নিয়মিত পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছি। স্থানীয় কয়েকজন বিত্তবানের সহযোগিতায় ওই শিক্ষকদের বেতন দেওয়া হয়। পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে নিতে নানা সংকটে পড়তে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে মূল ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা উপবৃত্তিসহ বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকেও বঞ্চিত।’
অভিযোগ রয়েছে, ঘাগটিয়া শাখায় কাগজে-কলমে শিক্ষার্থী থাকলেও বাস্তবে নিয়মিত পাঠদান হয় না। ১৪ জুলাই পাঠদান চলাকালে বিদ্যালয়টিতে গিয়ে একটি শ্রেণিকক্ষে মাত্র দুজন শিক্ষার্থীকে পাওয়া যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দুই প্রতিষ্ঠানের জন্য মোট আটজন এমপিওভুক্ত শিক্ষকের তথ্য থাকলেও তাঁদের মধ্যে সাতজনই ঘাগটিয়া শাখায় কর্মরত। অথচ সেখানে নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম না চালিয়েই তাঁরা সরকারি বেতন-ভাতা গ্রহণ করছেন।
অন্যদিকে মূল প্রতিষ্ঠান গৌরিপুরের কোহিনুর জুট মিলস হাই স্কুলে রয়েছেন মাত্র একজন এমপিওভুক্ত শিক্ষক। তিনি প্রায় দেড় বছর ধরে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী উপবৃত্তি থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে। এমপিওভুক্ত শিক্ষক-সংকটের কারণে স্থানীয় বিত্তবানদের সহায়তায় নিয়োগ দেওয়া খণ্ডকালীন শিক্ষকদের দিয়ে পাঠদান চালানো হচ্ছে।
জানা গেছে, ১৯৮১ সালে গৌরিপুর গ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয় কোহিনুর জুট মিলস হাই স্কুল। ১৯৯৫ সালে পাঁচজন শিক্ষকসহ বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হয়। ২০০৫ সালে অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে দুই শিক্ষক মো. আতিকুর রহমান ও আহসান হাবিবকে বহিষ্কার করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে তাঁরা পুনর্বহাল হন। এরপর ২০০৬ সালে মহেশপুর ইউনিয়নের ঘাগটিয়া এলাকায় একই নাম ও একই ইআইআইএন নম্বর ব্যবহার করে কোহিনুর জুট মিলস হাই স্কুল (ঘাগটিয়া) নামে কার্যক্রম শুরু করেন। তখন থেকেই একই পরিচয়ে দুটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চলতে থাকে। এ নিয়ে স্থানীয়রা একাধিকবার মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচিও পালন করেছেন। কিন্তু সমস্যার সমাধান হয়নি।
ঘাগটিয়া শাখার প্রধান শিক্ষক মো. আতিকুর রহমান বলেন, ‘২০০৬ সালের শেষ দিকে তৎকালীন প্রধান শিক্ষক আবু মোহাম্মদের উদ্যোগে বিদ্যালয়টি ঘাগটিয়ায় স্থানান্তর করা হয়। ২০০৭ সাল থেকে তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন এবং পরে আদালতের রায়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর দাবি—আদালতের নির্দেশনা ও কর্তৃপক্ষের অনুমোদন অনুযায়ী বিদ্যালয় পরিচালিত হচ্ছে।’
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সামালগীর আলম বলেন, ‘গৌরিপুরের কোহিনুর জুট মিলস হাই স্কুলই মূল প্রতিষ্ঠান। তবে আদালতের আদেশের ভিত্তিতে ঘাগটিয়ায়ও একই নামে বিদ্যালয় পরিচালিত হচ্ছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদ রানা বলেন, ‘বিষয়টি তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।’
নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিন বকুল বলেন, ‘এটি একটি গুরুতর অনিয়ম। প্রতিষ্ঠানটিকে মূল অবস্থানে ফিরে যেতে হবে। আদালতের রায় থাকলেও সেখানে বাস্তবে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হয় না।’

রাজধানীর পুরান ঢাকার বাংলাবাজারে প্রকাশনা সংস্থা দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) একটি বিক্রয়কেন্দ্রে স্থানীয়দের বিরুদ্ধে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় আমিনুল ইসলাম ও হুমায়ুন কবীর নামে প্রকাশনা সংস্থাটির দুই বিক্রয় কর্মীকে তুলে নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে...
২২ মিনিট আগে
নারায়ণগঞ্জের বক্তাবলীতে অবৈধ মাটি কাটার প্রতিবাদ করায় জেলা এনসিপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক তাওহীদুল ইসলাম তৌহিদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম আজাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হলেও তিনি তা অস্বীকার করেছেন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে।
১ ঘণ্টা আগে
গতকাল বেলা ১টার দিকে পেয়ারা দেওয়ার কথা বলে নিজ বাড়ির সামনে থেকে শিশুটিকে ডেকে নেয় ওই কিশোর। পরে স্থানীয় একটি ভবনের পেছনের ফাঁকা জায়গায় নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। শিশুটি কিছু সময় পর বাড়িতে গেলে গোসলের সময় তার মা বিষয়টি বুঝতে পারেন। পরে সে বিষয়টি তার পরিবারকে জানায়।
২ ঘণ্টা আগে
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) কমিশনার মো. সাজ্জাদুর রহমান বলেছেন, ‘মানুষের মধ্যে অসহিষ্ণুতা সৃষ্টি হয়েছে। এই অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে। পুলিশকে সহযোগিতা করতে হবে। রিকশাওয়ালা পর্যন্ত আইন মানতে চায় না। অসহিষ্ণুতা এক দিনে হয়নি। আগে এমন ছিল না। যারা করছে, তাদের একটা উদ্দেশ্য আছে।
২ ঘণ্টা আগে