Ajker Patrika

বিয়ের আসরে হাজির প্রেমিকা, বিয়ে পণ্ড হওয়ায় লজ্জায় বরের বাবার আত্মহত্যা

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
বিয়ের আসরে হাজির প্রেমিকা, বিয়ে পণ্ড হওয়ায় লজ্জায় বরের বাবার আত্মহত্যা
পূর্বধলা থানা। ছবি: সংগৃহীত

নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় ছেলের বিয়ে বাড়িতে প্রেমিকা উপস্থিত হওয়ার পর বিয়ে পণ্ড হওয়ায় লজ্জা ও ক্ষোভে সুরুজ মিয়া নামের এক ব্যক্তি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের পানিশানা (পূর্বপাড়া) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সুরুজ মিয়া (৫০) ওই গ্রামের বাসিন্দা এবং বর হেলাল মিয়ার বাবা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার সুরুজ মিয়ার বড় ছেলে হেলাল মিয়ার (২২) সঙ্গে পার্শ্ববর্তী হিরণ্যপট্টি গ্রামের এক তরুণীর বিয়ের দিন ধার্য ছিল। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী দুপুরে বরযাত্রীসহ কনের বাড়িতে উপস্থিত হন হেলাল। সেখানে খাওয়া-দাওয়া ও আনন্দ-উল্লাসের মধ্য দিয়ে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা চলছিল।

তবে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে হঠাৎ করেই বিয়ে বাড়িতে এসে উপস্থিত হন কুড়িগ্রাম জেলার কচাকাটা থানার কবিরাজপাড়া এলাকার মোছা. জান্নাতী খাতুন (২৮) নামের এক তরুণী ও তাঁর মামাতো বোন মোসাম্মৎ শাহিনুর বেগম (২৮)।

সেখানে জান্নাতী খাতুন দাবি করেন, হেলাল মিয়ার সঙ্গে তাঁর গত ১০-১১ মাস ধরে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে এবং তাঁরা একসঙ্গেও ছিলেন। ২৮ জুলাই তাঁদের বিয়ের কথা থাকলেও হেলাল মোবাইল ফোন বন্ধ করে পালিয়ে বাড়িতে চলে আসেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। জান্নাতী আরও জানান, তিনি আগে বিবাহিত ছিলেন এবং তাঁর পূর্বের সংসারে একটি সন্তান রয়েছে। পরবর্তী সময়ে তাঁর তালাক হয়েছে।

বিয়ে বাড়িতে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি মুহূর্তেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে বিয়ে পণ্ড হয়ে যায়। কনেপক্ষের কাছে চরম অপদস্থ ও ক্ষুব্ধ হয়ে বরপক্ষ ক্ষতিপূরণ বাবদ কনে পক্ষকে ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করে। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বর ও তাঁর লোকজন বাড়িতে ফিরে আসেন।

স্থানীয়দের ধারণা, ছেলের এমন কর্মকাণ্ড ও বিয়ে ভেঙে যাওয়ার অপমান মেনে নিতে পারেননি সুরুজ মিয়া। তীব্র মানসিক আঘাত ও লজ্জায় গতকাল বুধবার রাত ১১টার দিকে বাড়ির পাশে আম গাছের সঙ্গে প্লাস্টিকের রশি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি।

পরে নিহতের স্ত্রী হেলেনা বেগম স্বামীকে গাছের সঙ্গে ঝুলতে দেখে চিৎকার শুরু করেন। তাঁর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন এবং পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পূর্বধলা থানা-পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরুজ মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য মজিবুর রহমান বলেন, ‘হেলালের বিয়ের আসরে দুই তরুণী এসে হাজির হয় এবং তাঁদের একজনের সঙ্গে হেলালের প্রেমের সম্পর্কের কথা জানায়। এতে বিয়ে ভেঙে যায় এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে বরপক্ষ ফিরে আসে। এই অপমান ও লজ্জায় বরের বাবা আত্মহত্যা করেছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।’

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এ ছাড়া ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিয়ে বাড়িতে উপস্থিত হওয়া জান্নাতী খাতুন ও শাহিনুর বেগমকে পুলিশ হেফাজতে থানায় আনা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত