Ajker Patrika

ধামইরহাটে ধান কাটার শ্রমিকের সংকট, দুশ্চিন্তায় কৃষক

ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধি 
ধামইরহাটে ধান কাটার শ্রমিকের সংকট, দুশ্চিন্তায় কৃষক
মাঠভর্তি পাকা ধান। ধামইরহাট পৌরসভার মঙ্গলকোঠা এলাকায়। ছবি: আজকের পত্রিকা

নওগাঁর ধামইরহাটে বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে পাকা ধান বাতাসে দুলছে। সামান্য শিলাবৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ায় এই ধান নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। কিন্তু ধান কাটতে শ্রমিক পাচ্ছেন না কৃষকেরা। তাই নিজেরা চেষ্টা করছেন ধান কেটে ঘরে তোলার। কৃষকেরা বলছেন, শ্রমিকের খুবই সংকট। যদিওবা কাউকে পান, তাঁরা মজুরি অনেক বেশি দাবি করেন। কৃষকেরা বলছেন, দ্রুত ধান কাটতে না পারলে মাঠের ধান মাঠেই ঝরে পড়বে। এ ছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে।

আজ মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে ধামইরহাট পৌরসভাসহ উপজেলার আট ইউনিয়ন ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, এসব এলাকার প্রায় ৯০ শতাংশ খেতের ধান পেকে গেছে। বাকি ১০ শতাংশ হালকা কাঁচাপাকা রয়েছে, যা এক সপ্তাহের মধ্যে কাটার উপযোগী হবে। এগুলোর মধ্য থেকে স্থানীয় শ্রমিকদের সহযোগিতায় কিছু ধান কাটা হচ্ছে। তবে শ্রমিকের সংখ্যা খুবই কম।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি রবি মৌসুমে ১৮ হাজার ৭৯৫ টন ধানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ১৮ হাজার ৮৫৫ টন ধান পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কৃষকেরা জানান, প্রতিবছর মৌসুমের শুরুর দিকে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ধানকাটা শ্রমিকেরা এসে ভিড় জমাতেন। মূলত তাঁরাই এই এলাকার ধান কেটে দিতেন; অথচ এ বছর তীব্র শ্রমিক সংকটের কারণে মাঠের ধান মাঠেই পেকে ঝরে পড়ছে। অন্যদিকে অতিবৃষ্টি ও ঝড় হওয়ার কারণে কিছু ধানখেত পানিতে ডুবে যাওয়ায় ফলন হয়েছে কম।

আড়ানগর ইউনিয়নের কৃষক লুৎফর রহমান বলেন, ‘গত এক সপ্তাহের মধ্যে যে পরিমাণ ধান কেটে মাড়াই করে ঘরে তোলার কথা ছিল, রিপার হারভেস্টার ও কম্বাইন মেশিনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকা এবং তীব্র শ্রমিক সংকটের কারণে তা সম্ভব হয়নি। বৈশাখের শেষে ধান কেটে স্বস্তি নিয়ে ঘরে ফেরার কথা কৃষকের। অথচ ধান তুলতে না পারার কারণে এখন ঋণের চাপ এবং দেনা পরিশোধের দুশ্চিন্তায় তাদের দিন কাটছে।’

পৌর এলাকার বর্গাচাষি রফিকুল বলেন, বিঘাপ্রতি ২৪ মণ ধান দিতে হবে, এমন চুক্তিতে বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে দুই বিঘা জমি বর্গা নেন। এক সপ্তাহ আগে মাঠের ধান পেকে কাটার উপযোগী হয়েছে। ফলনও হয়েছে ভালো। কিন্তু ১ হাজার ২০০ টাকা দিয়েও সে ধান কাটার জন্য শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। এমন অবস্থায় ধারদেনা করা ঋণ কীভাবে পরিশোধ করবেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘কিছুদিন লাগাতার বৃষ্টির কারণে সময়মতো কৃষকেরা ধান কাটতে পারেননি। ঝড়বৃষ্টির কারণেই হয়তো বাইরের শ্রমিকেরা আসতে দেরি করছেন। তবে মাঠে হারভেষ্টার ও কম্বাইন মেশিনের সাহায্যে স্থানীয় শ্রমিকদের দিয়ে ধান কাটা শুরু হয়েছে। বাইরের শ্রমিকেরা এলে এই সমস্যা আর থাকবে না।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত