
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে আগাম ঝড়-বৃষ্টি ও অতিবৃষ্টির কারণে বোরো ধানের বিস্তীর্ণ জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। কৃষকেরা বলছেন, প্রাকৃতিক কারণের পাশাপাশি অপরিকল্পিত পুকুর ও ফিশারি খনন এবং খালে যত্রতত্র বাঁধ দেওয়ায় জলাবদ্ধতা তীব্র হয়েছে।
জানা গেছে, গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণ, খালে যত্রতত্র বাঁধ ও অপরিকল্পিত পুকুর-ফিশারি খননের কারণে উপজেলার সদর ইউনিয়নের কোনাপাড়ার বালকি বিল, শাহবাজপুর, ইছুলিয়া বিল, শালীহর গ্রাম, মাওহা ইউনিয়নের বাউশালী ও কড়েহা বিল, মইলাকান্দা ইউনিয়নের ছাতুল বিল, ডৌহাখলা ইউনিয়নের একাধিক গ্রাম ও সিধলা ইউনিয়নের সিধলং বিল, অচিন্ত্যপুর ইউনিয়নের ডালিয়া বিল, মহিশ্বরণ ও কৃষ্ণপুর গ্রামের প্রায় ২০০ হেক্টর জমির বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পাকা-আধা পাকা এসব ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় হতাশ কৃষকেরা।
গৌরীপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই মৌসুমে বোরো আবাদের জন্য লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২০ হাজার ৪১০ হেক্টর জমি, তবে ৮০ হেক্টর জমি বেশি আবাদ করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৩ হাজার ৭৭০ হেক্টর জমিতে উফশী জাত ও ৬ হাজার ৭২০ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড আবাদ করা হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৮ হাজার ৪৩০ টন ধান।
গতকাল বুধবার দুপুরে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, মাঠের ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের মুখে মুখে হতাশার আলাপ। কৃষকদের অভিযোগ, একদিকে যেমন ধান কাটার জন্য পর্যাপ্ত শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না, অন্যদিকে এই সুযোগে কম্বাইন্ড হারভেস্টরচালকেরা ধান কাটার জন্য অতিরিক্ত টাকা দাবি করছে। ফলে দ্বিগুণ ক্ষতির মুখে পড়েছেন সাধারণ কৃষকেরা। পাশাপাশি বিভিন্ন ইউনিয়নের স্থানীয় নদী, খাল বিলে মাছ ধরার বাঁধ দেওয়ায় পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করেছেন অপরিকল্পিত পুকুর খননের জন্য পানির প্রবাহ বন্ধ রয়েছে।
মইলাকান্দা ইউনিয়নের কালিহর গ্রামের কামরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের ছাতুল বিলের চারপাশে পুকুর খনন করে ফিশারি করা হয়েছে। এখন বৃষ্টির পানিতে আমাদের সব ফসল তলিয়ে গেছে।’
কোনাপাড়া গ্রামের বালকি বিলে গিয়ে দেখা যায়, কষ্টের ফসল রক্ষায় কেউ কেউ হাঁটুসমান পানিতে নেমে, কেউ কেউ ডুবুরির মতো, আবার অনেকেই নৌকায় করে আধা পাকা ধান কাটার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ কোনো উপায় না পেয়ে হতাশ হয়ে তাকিয়ে আছেন ডুবে যাওয়া ফসলের দিকে।

পাছারকান্দা গ্রামের শরীফুল ইসলাম বলেন, বালকি বিলের চারপাশে পাঁচ গ্রামের মানুষ বসবাস করে। সবার জীবন-জীবিকা এই বালকি বিলকে ঘিরে। কয়েক বছর আগ থেকে একটি সুবিধাভোগী চক্র বিলের বিভিন্ন অংশে পাড় বাঁধাই করে মাছ চাষ শুরু করেছে। অপরিকল্পিত এসব ফিশারির কারণে এখন বৃষ্টির পানি জমে ৫০ হেক্টরের বেশি জমির ধান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
সাহাবাজপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রউফ দুদু বলেন, ‘আমাদের এলাকায় বড় বিলের পানি ও লংকা নদীর পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কৃষকদের ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে তাঁরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফার ইয়াসমিন জলি বলেন, ‘সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণে প্রায় ২০০ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে। এর পেছনে অপরিকল্পিত পুকুর ও ফিশারি নির্মাণ এবং খাল-নদীর নাব্যতা কমে যাওয়াও একটি কারণ।’ তিনি আরও বলেন, ‘বৃষ্টি কমলে পানি নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ অবস্থায় কৃষকদের দ্রুত অবশিষ্ট ধান কেটে ঘরে তোলার জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’
গৌরীপুরের সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাফরোজা সুলতানা বলেন, বিল ও জলাশয়ে পুকুর খননের ক্ষেত্রে আইনগত অনুমোদন প্রয়োজন হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা মানা হয় না। কেউ যদি পানির প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে এমন পুকুর বা ফিশারি নির্মাণ করে, তবে অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালবৈশাখী ও টানা চার দিনের ভারী বৃষ্টিতে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বিস্তীর্ণ বোরো ধানের মাঠ এখন পানিতে তলিয়ে গেছে। পাকা ও আধা পাকা ধান খেতেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, কোথাও কাটা ধান পানিতে ভেসে যাচ্ছে। কিছু এলাকায় মাঠে নেমে ধান কাটার সুযোগ নেই, আবার কেটে বাড়িতে তুললেও বৃষ্টির কারণে শুকাতে না পেরে
১৬ মিনিট আগে
বিদ্যুৎ, গ্যাস ও ডিজেলের তীব্র সংকটে দেশের প্রধান শিল্পাঞ্চল চট্টগ্রামের শিল্প খাত গভীর চাপের মুখে পড়েছে। ঘন ঘন লোডশেডিং, গ্যাসের নিম্নচাপ, জেনারেটরনির্ভর উৎপাদন এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির ফলে শিল্পকারখানাগুলোর উৎপাদন গড়ে ২৫ শতাংশ কমে গেছে বলে উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য মতে, একই সময়ে পরিচালন
১ ঘণ্টা আগে
ভুক্তভোগীদের দাবি, স্থানীয় স্বপন শরীফ. রমজান শরীফসহ কয়েক ব্যক্তি মিলে জনস্বার্থে ব্যবহৃত এই পথটি বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে ৩২টি পরিবারের প্রায় ৩০০ মানুষ কার্যত নিজ বাড়িতেই অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।
২ ঘণ্টা আগে
হরিণাবাড়ী গ্রামের কৃষক মিন্টু মিয়া বলেন, ‘এবার ধানের ফলন ভালো হওয়ার আশা ছিল। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে ধান নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। প্রায় ৪০ শতক জমির ধান পানিতে লুটিয়ে পড়েছে। আগে এক বিঘা জমির ধান কাটতে তিন-চার হাজার টাকা লাগত, এখন লাগছে সাত-আট হাজার টাকা। টাকা দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না।
২ ঘণ্টা আগে