
কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে গাইবান্ধার বিভিন্ন এলাকায় বোরো ধানের জমিতে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ জমির ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। অনেক জমির ধান বাতাসে লুটিয়ে পড়েছে। ফলে পাকা-আধা পাকা ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জমিতে পানি জমে থাকায় ধান কাটতে পারছেন না কৃষকেরা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তীব্র শ্রমিকসংকট। মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই শ্রমিকপ্রতি মজুরি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। এতে কৃষকদের দুর্ভোগ যেন আরও বেড়েছে।
অনেক কৃষক পচে যাওয়ার আশঙ্কায় আধা পাকা ধান কাটতে বাধ্য হচ্ছেন। কিন্তু শ্রমিকের অভাবে দ্রুত ধান ঘরে তুলতে না পারায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তাঁরা।
জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ২৯ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে বোরো (ইরি) ধান চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েক দিনের বৃষ্টিতে ২১২ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, সদর উপজেলার বাদিয়াখালি, চকবরুল, হরিণাবাড়ী, বেতকাপা, তুলসীঘাট; গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার পাটোয়ারগঙ্গা, হরিণাবিল, পুরানদহ; পলাশবাড়ী উপজেলার রাইতিনরাইল, নান্দিশহর বিল, মালিয়ানদহ, খামার নান্দিশহর, পকুরিয়া বিল, মাঠেরবাজার, কুমারগাড়ী এবং সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর, হরিপুরসহ বিভিন্ন এলাকার নিম্নাঞ্চলের শত শত হেক্টর জমির আধা পাকা ধান পানির নিচে ডুবে আছে।
পলাশবাড়ী উপজেলার হরিণাবাড়ী গ্রামের সোলাগাড়ি বিলে গিয়ে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিলে প্রায় ৫০০ বিঘা জমিতে ধান রয়েছে। টানা বৃষ্টিতে অধিকাংশ জমিতে পানি জমে গেছে। আগে বিলের পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি নালা ছিল। তবে কয়েক বছর আগে সেখানে একটি ইটভাটা স্থাপন করায় নালাটি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে পানি বের হওয়ার পথ না থাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।
কৃষকেরা জানান, পানি জমে যাওয়ায় বিঘাপ্রতি সাত থেকে আট হাজার টাকা পর্যন্ত মজুরি দিতে হচ্ছে। তবুও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। খেত থেকে কেটে আনা ধানেও পানি জমে থাকছে। এতে ধান থেকে চারা বের হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। রোদ না থাকায় খড়ও পচে যাচ্ছে।
হরিণাবাড়ী গ্রামের কৃষক মিন্টু মিয়া বলেন, ‘এবার ধানের ফলন ভালো হওয়ার আশা ছিল। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে ধান নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। প্রায় ৪০ শতক জমির ধান পানিতে লুটিয়ে পড়েছে। আগে এক বিঘা জমির ধান কাটতে তিন-চার হাজার টাকা লাগত, এখন লাগছে সাত-আট হাজার টাকা। টাকা দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না।’
নান্দিশহর গ্রামের ইজিবাইকচালক জাফিরুল বলেন, ‘ঋণ করে ধান চাষ করেছি। এখন যদি ধান নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে ঋণ শোধ করব কীভাবে—তা নিয়ে চিন্তায় আছি।’
সদর উপজেলার বাদিয়াখালি ইউনিয়নের কৃষক মনজু মিয়া বলেন, ‘আমার পাঁচ বিঘা জমির ধানে হাঁটুসমান পানি জমেছে। এতে ফলন অর্ধেক কমে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।’
একই ইউনিয়নের কৃষক কলিম উদ্দিন শেখ বলেন, ‘প্রতিবছর আলাই নদীর তীরে তিন বিঘা জমিতে ধান চাষ করি। কিন্তু এবারের বৈরী আবহাওয়ায় ধানখেত তলিয়ে যাচ্ছে। ধান কাটার মতো পরিবেশও পাচ্ছি না।’
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সোনাইডাঙ্গা গ্রামের কৃষক ময়েন উদ্দিন আকন্দ বলেন, ‘আবহাওয়া এতটাই খারাপ যে বজ্রপাতের ভয়ে খেতে যেতে পারছি না। জীবনের আগে তো আর ধান না।’
গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘টানা বৃষ্টিতে যেসব জমি পানির নিচে গেছে, সেখান থেকে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে। নতুন করে বৃষ্টি না হলে ক্ষতির পরিমাণ বাড়বে না। তবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’

বিদ্যুৎ, গ্যাস ও ডিজেলের তীব্র সংকটে দেশের প্রধান শিল্পাঞ্চল চট্টগ্রামের শিল্প খাত গভীর চাপের মুখে পড়েছে। ঘন ঘন লোডশেডিং, গ্যাসের নিম্নচাপ, জেনারেটরনির্ভর উৎপাদন এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির ফলে শিল্পকারখানাগুলোর উৎপাদন গড়ে ২৫ শতাংশ কমে গেছে বলে উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য মতে, একই সময়ে পরিচালন
১০ মিনিট আগে
কোনাপাড়া গ্রামের বালকি বিলে গিয়ে দেখা যায়, কষ্টের ফসল রক্ষায় কেউ কেউ হাঁটুসমান পানিতে নেমে, কেউ কেউ ডুবুরির মতো, আবার অনেকেই নৌকায় করে আধা পাকা ধান কাটার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ কোনো উপায় না পেয়ে হতাশ হয়ে তাকিয়ে আছেন ডুবে যাওয়া ফসলের দিকে।
১৭ মিনিট আগে
ভুক্তভোগীদের দাবি, স্থানীয় স্বপন শরীফ. রমজান শরীফসহ কয়েক ব্যক্তি মিলে জনস্বার্থে ব্যবহৃত এই পথটি বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে ৩২টি পরিবারের প্রায় ৩০০ মানুষ কার্যত নিজ বাড়িতেই অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।
১ ঘণ্টা আগে
গাজীপুরের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে গড়ে তোলা হচ্ছে ভাগাড়। বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইন এবং বন বিভাগের বাধা উপেক্ষা করেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছে গাজীপুর সিটি করপোরেশন (গাসিক)। পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো প্রতিবাদ জানালেও ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের ভেতর এমন স্থাপনা গড়ে তোলা হচ্ছে।
৩ ঘণ্টা আগে