Ajker Patrika

তেল রাখার জায়গা ফুরিয়ে আসছে ইরানের, বন্ধ হতে পারে উৎপাদন

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ২২: ৪২
তেল রাখার জায়গা ফুরিয়ে আসছে ইরানের, বন্ধ হতে পারে উৎপাদন
ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপ। ছবি: এএফপি

১৩ এপ্রিল থেকে ইরানের বন্দর ও হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌ অবরোধের ফলে তেহরান এক গভীর সংকটের মুখে পড়েছে। বিশ্লেষকেরা আশঙ্কা করছেন, ইরানের অপরিশোধিত তেল মজুতের সক্ষমতা দ্রুত ফুরিয়ে আসছে, যা দেশটিকে তেল উৎপাদন কমিয়ে দিতে বা পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে বাধ্য করতে পারে।

উপাত্ত ও তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলার জানিয়েছে, এই অবরোধ অব্যাহত থাকলে আগামী ১২ থেকে ২২ দিনের মধ্যে ইরানের তেল মজুতের সব জায়গা শেষ হয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে, মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট দাবি করেছেন, ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপের মজুত সক্ষমতা কয়েক দিনের মধ্যেই পূর্ণ হয়ে যাবে।

হরমুজ প্রণালি একটি সংকীর্ণ জলপথ, যা পারস্য উপসাগরকে উন্মুক্ত সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এর উত্তরে ইরান ও দক্ষিণে ওমানের জলসীমা অবস্থিত। স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এই প্রণালি বন্ধ করে দেয়। বর্তমানে ইরান কোনো বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজকে এই পথ দিয়ে যেতে দিচ্ছে না। ইরানের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ ১৯ এপ্রিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বলেন, সবার জন্য মুক্ত তেলের বাজার না থাকলে হরমুজে কারও জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

এদিকে, মার্কিন নৌবাহিনী গত মাস থেকে সমুদ্রপথে ইরানের তেলের ট্যাংকারগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করেছে এবং ইরানি জাহাজগুলোকে ফিরিয়ে দিচ্ছে। ইরান একে জলদস্যুতা ও অবৈধ হিসেবে আখ্যায়িত করলেও যুক্তরাষ্ট্র এখনো অবরোধ জারি রেখেছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ওপেকের তৃতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ ইরান তাদের ৯০ শতাংশ তেল খারগ দ্বীপের মাধ্যমে রপ্তানি করে। অবরোধের কারণে রপ্তানি বন্ধ থাকায় এই তেল এখন মজুত করতে হচ্ছে।

কলোম্বিয়া সেন্টার অন গ্লোবাল এনার্জি পলিসির তথ্যমতে, ১৩ থেকে ২১ এপ্রিলের মধ্যে ইরানের তেলের মজুত ৬০ লাখ ব্যারেলের বেশি বেড়েছে। ২০ এপ্রিল নাগাদ খারগ দ্বীপের ট্যাংকারগুলো প্রায় ৭৪ শতাংশ পূর্ণ হয়ে গেছে। সাধারণ নিরাপত্তার খাতিরে ৮০ শতাংশের বেশি মজুত এড়িয়ে চলা হলেও ইরান ২০২০ সালে মহামারির সময় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত তেল মজুত করেছিল।

আল জাজিরার তথ্যমতে, স্থলভাগের মজুত ছাড়াও ইরানের প্রায় ১২ কোটি ৭০ লাখ ব্যারেল তেল সাগরে ভাসমান ট্যাংকারে রাখার সক্ষমতা রয়েছে।

কেপলারের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক মউয়ু জু আল জাজিরাকে বলেন, স্থলভাগে এখনো ইরান ২০ দিনের মতো উৎপাদন মজুত করতে পারবে, তবে এরপর তাদের উৎপাদন ধীরে ধীরে কমিয়ে আনতে হবে।

তবে তেল উৎপাদন বন্ধ করা ইরানের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এটি ভূগর্ভস্থ তেলের খনির চাপ কমিয়ে দিতে পারে এবং প্রাকৃতিক গ্যাস বা পানি ঢুকে পড়ার ফলে তেলের স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর ফলে ভবিষ্যতে তেল উত্তোলন অনেক ব্যয়বহুল ও কঠিন হয়ে পড়বে। এ ছাড়া উৎপাদন বন্ধ হলে ইরানের রপ্তানি আয়ও মুখ থুবড়ে পড়বে।

তবে ওয়াশিংটন ডিসির কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের ইরানবিষয়ক বিশ্লেষক কেনেথ কাটজম্যান জানান, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের সাগরে ইরানের ১৬ থেকে ১৭ কোটি ব্যারেল তেল ভাসমান অবস্থায় রয়েছে, যা থেকে আগামী কয়েক মাস তারা আয় সচল রাখতে পারবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত