Ajker Patrika

ভিজিএফের ১০ কেজি চালের বদলে ৩০০ টাকা, উপকারভোগীদের ক্ষোভ ও কান্না

মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি 
ভিজিএফের ১০ কেজি চালের বদলে ৩০০ টাকা, উপকারভোগীদের ক্ষোভ ও কান্না
মহম্মদপুরে ভিজিএফের চালের পরিবর্তে টাকা দিচ্ছেন চেয়ারম্যান। ছবি: আজকের পত্রিকা

ঈদুল আজহা উপলক্ষে দুস্থদের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বাবুখালী ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) বরাদ্দ করা ১০ কেজি চালের পরিবর্তে ১৬০ জন উপকারভোগীকে মাত্র ৩০০ টাকা করে দেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে বাবুখালী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে।

দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এসে চালের বদলে সামান্য টাকা পেয়ে চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন কার্ডধারীরা। এমনকি অনেক অসহায় মানুষকে বাড়ি ফেরার পথে কান্নায় ভেঙে পড়তেও দেখা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে বাবুখালী ইউনিয়নের অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে ১০ কেজি করে চাল বিতরণের কথা ছিল। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদে চাল নিতে আসা উপকারভোগীদের হাতে চালের পরিবর্তে মাত্র ৩০০ টাকা করে ধরিয়ে দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগীরা জানান, বর্তমান বাজারে ৩০০ টাকা দিয়ে পাঁচ-ছয় কেজি চালও কেনা সম্ভব নয়, যেখানে তাঁদের সরকারিভাবে ১০ কেজি চাল পাওয়ার কথা ছিল।

কার্ডধারী নুরজান বেগম বলেন, ‘বাড়ি থেকে তিন কিলোমিটার রাস্তা হাঁইটা ও ৬০ টাকা ভ্যানভাড়া দিয়া মোট ১২০ টাকা খরচ কইরা চাল নিতে আসছিলাম। চালের বদলে আমারে ৩০০ টাকা দেওয়া হইলো। এই সামান্য টাকা দিয়া ঈদের দিনে আমরা কী করব? চালটা পাইলে অন্তত পরিবার নিয়া ঠিকমতো ভাতটা খাইতে পারতাম।’

অনেকে অভিযোগ করেন, চাল না পেয়ে চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের কাছে কাকুতি-মিনতি করেও কোনো লাভ হয়নি। যাওয়ার সময় অনেক বয়োবৃদ্ধ নারী-পুরুষ ক্ষোভে, দুঃখে কেঁদে ফেলেন।

বাবুখালী ইউপি চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘চাল কম পড়ায় আমি নিজের থেকে টাকা দিয়ে দিয়েছি, যাতে কেউ খালি হাতে ফিরে না যায়।’ তবে সরকারি বরাদ্দের চাল কেন ও কীভাবে কম পড়ল কিংবা সরকারি চালের বদলে নিজের তহবিল থেকে নগদ টাকা বিতরণের নিয়ম আছে কি না—এসব প্রশ্নের কোনো সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি।

এদিকে সরকারি ভিজিএফের চাল বিতরণে এমন অনিয়মের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, সরকারি গোডাউন থেকে যদি পুরো চাল ছাড় করা হয়ে থাকে, তবে ইউনিয়ন পরিষদে এসে চাল কম পড়ল কেন। কারা এর পেছনে রয়েছে, তাদের খুঁজে বের করে শাস্তি দেওয়ার দাবিও উঠেছে।

এ বিষয়ে মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বেদবতী মিস্ত্রি বলেন, ‘এমনটা হওয়ার কথা নয়, খোঁজখবর নিয়ে বিষয়টি আমি দেখছি।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত