Ajker Patrika

লক্ষ্মীপুরে হামলায় মা-দুই মেয়ে নিহত: বাঁচানো গেল না মেজ মেয়েকেও

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
আপডেট : ২৫ জুন ২০২৬, ২৩: ৫০
লক্ষ্মীপুরে হামলায় মা-দুই মেয়ে নিহত: বাঁচানো গেল না মেজ মেয়েকেও
মা ও তিন মেয়ে। ছবি: সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ঘরে ঢুকে কোপানো মা ও তিন মেয়েই মারা গেছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে পৌরসভার ধানহাটা ডাকাতিয়া নদীর পাড় এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তিরা হলো শাহীনুর বেগম (৪০), তাঁর বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (১৮), মেজ মেয়ে কলেজশিক্ষার্থী ইকরা আক্তার (১৬) ও ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯)। এ সময় হামলাকারী অন্তর মজুমদার গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত শাহীনুর বেগম কুমিল্লার হোমনা উপজেলার মৃত কামাল হোসেনের স্ত্রী। কয়েক বছর আগে কামাল বিদ্যুতায়িত হয়ে মারা যান। এর পর থেকে তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে শাহীনুর রায়পুর পৌর শহরের ধানহাটা এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। তাঁরা প্লাস্টিকজাত পণ্য ফেরি করে বিক্রি করতেন। ছেলে সিফাত ফল বিক্রি করেন। বাসাটির নিচতলায় থাকতেন হোমনার অন্তর মজুমদার। তিনিও পেশায় ফল বিক্রেতা ছিলেন।

অভিযোগ উঠেছে, আজ সকালে অন্তর ঘরে ঢুকে শাহীনুর বেগম ও তাঁর তিন মেয়েকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করেন। ঘটনাস্থলেই শাহীনুর বেগম ও বড় মেয়ে সায়মা আক্তারের মৃত্যু হয়। পরে আহত ব্যক্তিদের হাসপাতালে নেওয়া হলে ছোট মেয়ে শিফা আক্তারও মারা যায়। গুরুতর আহত ইকরাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তারও মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন অন্তর মজুমদারকে আটক করে গণপিটুনি দেন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে তিনি মারা যান।

এই ঘটনা কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে বিক্ষুব্ধ জনতার ছোড়া ইটপাটকেলে পুলিশের সাত সদস্য আহত হন।

রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বাহারুল আলম বলেন, হাসপাতালে পাঁচজনকে আহত অবস্থায় আনা হয়। তাদের মধ্যে মা ও দুই মেয়ে মারা গেছে। আরেক মেয়েকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আহত ব্যক্তিদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ছাড়া গণপিটুনিতে আহত এক যুবককেও চিকিৎসা দিয়ে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে মারা যান তিনি।

রায়পুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আব্দুর রাশেদ বলেন, ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছে। একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। সন্দেহভাজন এক যুবককে জনতা গণপিটুনি দিয়েছে। ঘটনাস্থল ও আশপাশের পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ ও এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। কী কারণে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, তা নিশ্চিত হওয়ায় যায়নি।

লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক জানান, ঢামেকে নেওয়া ইকরা আক্তারও মারা গেছে। এর ফলে হামলায় মা ও তিন মেয়েই মারা গেছে। এ ছাড়া হামলাকারী অন্তরও মারা গেছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত