Ajker Patrika

১৩ শিক্ষকের মাদ্রাসায় ৩৮ পরীক্ষার্থী, ৩১ জনই অকৃতকার্য

হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
১৩ শিক্ষকের মাদ্রাসায় ৩৮ পরীক্ষার্থী, ৩১ জনই অকৃতকার্য
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে গোরকপুর শহরুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা। ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে গোরকপুর শহরুল উলুম দাখিল মাদ্রাসায় ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে। এ বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৩৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র সাতজন। অকৃতকার্য হয়েছে ৩১ জন। ফলে প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ৪২ শতাংশে।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, পাস করা সাত শিক্ষার্থীর কেউই জিপিএ-৫ পায়নি। তাদের মধ্যে দুজন জিপিএ-৩-এর ঘরে, চারজন জিপিএ-২-এর ঘরে এবং একজন জিপিএ-১-এর ঘরে ফলাফল করেছে।

মাদ্রাসাটিতে বর্তমানে ১৩ জন শিক্ষক রয়েছেন বলে জানা গেছে। শিক্ষকসংখ্যা বিবেচনায় প্রতিষ্ঠানটির এমন ফলাফল নিয়ে স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটির ফলাফলে ওঠানামা থাকলেও শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর ও দৃশ্যমান উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে এ বছর ৩৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩১ জনের অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টিকে উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন তাঁরা।

গত পাঁচ বছরের ফলাফল পর্যালোচনায়ও প্রতিষ্ঠানটির ফলাফলে উল্লেখযোগ্য ওঠানামা দেখা যায়। ২০২৫ সালে ১৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছয়জন পাস করে। ওই বছর পাসের হার ছিল ৩৭ দশমিক ৫০ শতাংশ। ২০২৪ সালে ২৮ জনের মধ্যে ২১ জন পাস করে, পাসের হার ছিল ৭৫ শতাংশ। ২০২৩ সালে ২২ জনের মধ্যে ১৫ জন পাস করে, পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ১৮ শতাংশ। আর ২০২২ সালে ১৭ জনের মধ্যে ১৩ জন পাস করে, পাসের হার ছিল ৭৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে গোরকপুর শহরুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা। ছবি: সংগৃহীত
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে গোরকপুর শহরুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা। ছবি: সংগৃহীত

তবে ২০২৬ সালে এসে পাসের হার এক লাফে নেমে দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ৪২ শতাংশে। ফলে আগের বছরগুলোর তুলনায় এবার প্রতিষ্ঠানটির ফলাফলে উল্লেখযোগ্য অবনতি হয়েছে।

শিক্ষানুরাগী ও স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, শিক্ষার্থীদের ফলাফল উন্নয়নে নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করা, দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়তার ব্যবস্থা, শিক্ষক-অভিভাবকের মধ্যে সমন্বয় এবং প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক কার্যক্রমে কার্যকর নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ চিহ্নিত করে মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মনে করছেন তাঁরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গোরকপুর শহরুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট মাওলানা আইন উদ্দিন বলেন, ‘এ বছর আমাদের ফলাফল খারাপ হয়েছে।’ তবে ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত