Ajker Patrika

মিঠামইনে নবম শ্রেণির ছাত্রী নিখোঁজ, ভাসমান লাশ নিয়ে রহস্য

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
মিঠামইনে নবম শ্রেণির ছাত্রী নিখোঁজ, ভাসমান লাশ নিয়ে রহস্য
প্রতীকী ছবি

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে নবম শ্রেণির ছাত্রী কোহিনুর আক্তার (১৬) নিখোঁজের পর ঘোড়াউত্রা নদীতে একটি ভাসমান লাশ দেখা যাওয়াকে কেন্দ্র করে রহস্য ঘনীভূত হয়েছে। গতকাল সোমবার রাতে উপজেলা সদরের পার্শ্ববর্তী হামিদপল্লির পেছনে নদীতে লাশটি দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও কোনো লাশ পায়নি। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত লাশটির সন্ধান মেলেনি। এদিকে কোহিনুরের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় হৃদয় নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

লাশের ভিডিও দেখে কোহিনুরের মা নাহার বেগম দাবি করেছেন, সেটি তাঁর মেয়ের লাশ। তবে মরদেহ উদ্ধার না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

নিখোঁজ কোহিনুর মিঠামইন উপজেলা সদরের তমিজা খাতুন সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী। তার বাবার নাম মৃত ফজলু মিয়া। কোহিনুর মিঠামইন হেলিপ্যাডের পাশে মাইনুদ্দিনের কলোনিতে মা ও ভাইয়ের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকত।

কোহিনুরের মা নাহার বেগম, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত শনিবার বিকেল ৪টার দিকে কোহিনুর প্রতিদিনের মতো হিন্দুপাড়ার কমল ম্যাডামের কাছে প্রাইভেট পড়তে বাড়ি থেকে বের হয়। সন্ধ্যার পরও বাড়ি না ফেরায় নাহার বেগম কমল ম্যাডামের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তখন তিনি জানতে পারেন, কোহিনুর প্রাইভেট পড়তে যায়নি। এরপর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।

পরে গতকাল সোমবার রাত ১০টার দিকে ঘোড়াউত্রা নদীর হামিদপল্লির পেছনে নদীতে একটি লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয় এক ব্যক্তি মোবাইলে ভিডিও ধারণ করেন। এলাকাবাসী বিষয়টি পুলিশকে জানালে মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিয়াকত আলীর নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তারা সেখানে লাশটি পায়নি। আজ সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত লাশের সন্ধানে পুলিশ, নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা তৎপরতা চালালেও কোনো সন্ধান মেলেনি।

প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, গত শনিবার বিকেলে রাস্তায় অটোচালক হৃদয়ের সঙ্গে কোহিনুরকে কথা বলতে দেখা গেছে। কোহিনুরের সঙ্গে হৃদয়ের সম্পর্ক ছিল বলেও তাঁরা দাবি করেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার হৃদয়কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পুলিশ।

আটক হৃদয় মিঠামইন বেড়িবাঁধসংলগ্ন কাওসারহাটির মাইনুদ্দিনের ছেলে।

মিঠামইন থানার ওসি লিয়াকত আলী জানান, লাশ উদ্ধারে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে। লাশটি উদ্ধার করার পর এ ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন সহজ হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত