
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর পানান বিলের বোরো ধান ভারী বর্ষণে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় কয়েক শ কৃষকের স্বপ্নভঙ্গ হয়ে গেছে। পানিনিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে এই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে বলে কৃষকেরা জানিয়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা বলছেন, চৈত্রের শেষ এবং বৈশাখের শুরুতে কয়েক দিনের আগাম বর্ষায় কয়েক শ একর আবাদি বোরো ধান তলিয়ে গেছে। এক ফসলি জমি হওয়ায় কৃষকদের ছয় মাসের কষ্ট, অর্থ ও এক বছরের খোরাক চোখের সামনে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের হাহাকার ছাড়া আর কিছু করার নেই।
এমন পরিস্থিতিতে গত রোববার কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিজাবে রহমত, হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী নাহিদ ইভা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শেখ মোহাম্মদ মহসীন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন।
এ বিষয়ে গত রোববার অন্তত ৫০ জন কৃষকের সঙ্গে কথা হয়। কৃষকেরা এ সময় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পানান বিলের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা খালগুলোতে পানি আসার পথ থাকলেও এ বিলের পানিনিষ্কাশনের পথ বারইখালি খালে বাঁধ নির্মাণ করে ফিশারি দিয়ে প্রভাবশালী মহল এর পানিপ্রবাহের পথ বন্ধ করে দিয়েছে। যে জন্য এই জলাবদ্ধতা কৃষকদের একমাত্র ফসল বোরো ধান তলিয়ে গেছে।
হোসেনপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ মহসীন বলেন, এ বিলে মূলত হোসেনপুর, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার রশিদাবাদ ইউনিয়ন ও ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলার কৃষকদের জমি রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে হোসেনপুর উপজেলার দুই শতাধিক কৃষক রয়েছেন। অন্য আরও কয়েক শ কৃষক নান্দাইল ও কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা রয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের বিভাগ থেকে সাধারণত কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় না। সাধারণত প্রণোদনা দেওয়া হয়ে থাকে। আর আগামী আমন ধান চাষের সময় হয়তো প্রণোদনার আওতায় আসতে পারে; যেহেতু এটা এক ফসলি জমি। সেখানে আমন আবাদের আওতায় পড়ে না। সেই হিসেবে কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্তই রয়ে যাবেন।’
হোসেনপুরের ইউএনও কাজী নাহিদ ইভা বলেন, এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে কী পদক্ষেপ নিতে হয়, পরামর্শ করে সে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ দিকে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় জলাবদ্ধতা নিরসন ও বোরো ফসল রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন কয়েক শ কৃষক। গতকাল সোমবার সকালে উপজেলার মহিনন্দ ভাস্করখিলা বিলপাড়ে এ মানববন্ধন হয়।
কৃষকদের অভিযোগ, বিলে পানিনিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে ফিশারি করায় কয়েক হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। তাঁরা জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হলে তাঁরা বোরো ফসল রক্ষা করতে পারবেন। অনতিবিলম্বে খালটি খনন করে পানি চলাচলের স্থায়ী ব্যবস্থা করার দাবি জানান তাঁরা।
মানববন্ধনে কৃষকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিলে প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র ফিশারি খনন করেছেন। এতে বিলের পানি নামার স্বাভাবিক পথগুলো রুদ্ধ হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই বিলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে রোপিত বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে তাঁদের সারা বছরের কষ্টার্জিত ফসল ঘরে তোলা সম্ভব হবে না।
মানববন্ধনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান মারুফ। পরে জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ইউএনও কামরুল হাসান বলেন, কৃষকের স্বার্থ সবার আগে।

রাজশাহী নগরের পাঁচটি মহল্লায় চার দশক ধরে বসবাস করা অন্তত ৭৫০ পরিবার হঠাৎ উচ্ছেদের মুখে পড়েছে। জমির মালিকানা দাবি করে ওয়ারিশদের উদ্যোগে গত রোববার অভিযান চালিয়ে ২৩টি ঘর ভেঙে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। পরে উচ্ছেদ বন্ধ হলেও এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
১ ঘণ্টা আগে
নওগাঁর রাণীনগরে পাকা সড়ক ঘেঁষে গড়ে তোলা শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। উপজেলার আবাদপুকুর বাজার এলাকার কুতকুতি তোলা মোড় থেকে বাজারের চারমাথা মোড় পর্যন্ত এই অস্থায়ী স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।
২ ঘণ্টা আগে
হবিগঞ্জের সুতাং নদ ভয়াবহ পরিবেশদূষণের কবলে পড়েছে। এই নদ থেকে সংগৃহীত ৩০টি মাছের পরিপাকতন্ত্র বিশ্লেষণ করে মোট ৫১টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিটি মাছে গড়ে প্রায় দুটি প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। সুতাংয়ের পানিতেও পাওয়া গেছে বিপুল ক্ষুদ্র প্লাস্টিক ও ভারী ধাতব কণা।
২ ঘণ্টা আগে
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬০ জন শিক্ষকের পদোন্নতির দাবি নিয়ে জটিল হচ্ছে পরিস্থিতি। পদোন্নতির দাবিতে আজ মঙ্গলবার কর্মবিরতি এবং দাবি মানা না হলে কাল বুধবার থেকে পূর্ণাঙ্গ একাডেমিক শাটডাউনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষকেরা। গতকাল সোমবার এক জরুরি সভা থেকে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শিক্ষকেরা।
৩ ঘণ্টা আগে