Ajker Patrika

নাটোরে চিকিৎসাধীন শিশুর মাকে হাসপাতালে ধর্ষণের অভিযোগ, তিন পরিচ্ছন্নতাকর্মী গ্রেপ্তার

নাটোর প্রতিনিধি 
আপডেট : ০৯ জুন ২০২৬, ১৫: ২৪
নাটোরে চিকিৎসাধীন শিশুর মাকে হাসপাতালে ধর্ষণের অভিযোগ, তিন পরিচ্ছন্নতাকর্মী গ্রেপ্তার
পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার তিনজন। ছবি: আজকের পত্রিকা

নাটোর ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক শিশুর মাকে ধর্ষণের অভিযোগে হাসপাতালের তিন পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন অমিত (২৩), অনিল (২৩) ও প্রাঙ্গণ (২৪)। আজ দুপুরে শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে একই দিন সকালে নাটোর সদর থানায় লিখিত অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করে পুলিশ।

নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুনসুর রহমান বলেন, ‘এই ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর স্বামীর অভিযোগ মামলা হিসেবে রেকর্ডের পর অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ধরতে অভিযান চালায় পুলিশ। দুপুরের মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।’

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারীর দুই বছর বয়সী শিশুকন্যা অসুস্থ হয়ে পড়লে ৫ জুন তাকে নাটোর ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৮ জুন সকাল ১০টায় শিশুটির বাবা হাসপাতালে স্ত্রী-সন্তানের খোঁজ নিতে এসে দেখেন তাঁরা কেউ সেখানে নেই। তিনি খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে জানতে পারেন তাঁর স্ত্রী ও কন্যাকে হাসপাতালে নার্সদের থাকার একটি কক্ষে রাখা হয়েছে। সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন একটি বেডে তাঁর স্ত্রী মেয়েকে নিয়ে শুয়ে আছেন।

এ সময় তাঁর স্ত্রী জানান, ৭ জুন সকাল ১০টায় শিশুর জন্য ওষুধ নিতে হাসপাতালের স্টাফ পরিচয়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মী অমিত তাঁকে ডাকতে আসেন। সন্তানকে রেখে তিনি অমিতের সঙ্গে হাসপাতালের ষষ্ঠ তলায় গেলে সেখানে অনিল ও প্রাঙ্গণ নামে অপর দুই পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সহায়তায় অমিত তাঁকে ধর্ষণ করেন। পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন অনিল ও প্রাঙ্গণ। ধর্ষণের ঘটনা জানালে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন তাঁরা।

এদিকে অসুস্থ শিশুটি কান্না শুরু করলে হাসপাতালের নার্সরা তার মাকে খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। তাঁকে না পেয়ে হাসপাতালের সিসিটিভিতে দেখা যায় ষষ্ঠ তলার ঘটনাটি। তখন হাসপাতালের আনসার সদস্যরা দ্রুত সেখানে উপস্থিত হয়ে ওই নারীকে উদ্ধার করেন। এ সময় ওই তিনজন বিনা বাধায় সেখান থেকে বেরিয়ে যান।

হাসপাতালে দায়িত্বরত আনসার সদস্য মো. সালাউদ্দিন বলেন, ‘নার্স ও ওয়ার্ড বয়দের কাছ থেকে বিষয়টি জানার পর আমরা খোঁজাখুঁজি শুরু করি। পরে ছয়তলার সিঁড়িতে গিয়ে তাঁদের পাই। এরপর তাঁদের হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। প্রথমে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ঘটনাটি স্বীকার করেননি। পরে যখন ভুক্তভোগী নারী চড়াও হন, তখন তাঁরা সব স্বীকার করেন।’

হাসপাতালের আনসার প্লাটুন কমান্ডার মো. মোন্নাফ হোসেন জানান, ঘটনার বিষয়ে ভুক্তভোগী নারী এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী নারী বলেন, ‘অমিত আমাকে ধর্ষণ করেছে। বাকি দুজন ভিডিও করেছে মোবাইলে। অমিতের পর তারাও আমার সঙ্গে এমনটি করতে চেয়েছিল। কিন্তু সে সময় হাসপাতালের লোকজন এসে পড়ায় তারা পালিয়ে যায়।’

এই ঘটনায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত