Ajker Patrika

বিদ্যালয়ের পাশে ভাগাড়, ভোগান্তিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

রাতুল মণ্ডল, শ্রীপুর (গাজীপুর)  
বিদ্যালয়ের পাশে ভাগাড়, ভোগান্তিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা
বিদ্যালয়ের অন্তত ১৩টি শ্রেণিকক্ষের জানালার পাশেই জমে উঠেছে ময়লার স্তূপ। ছবি: আজকের পত্রিকা

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার বঙ্গতাজ তাজউদ্দীন আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের পাশেই গড়ে উঠেছে অনিয়ন্ত্রিত ময়লার ভাগাড়। বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী শহীদ তাজউদ্দীন আহমদের নামে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টির শ্রেণিকক্ষের জানালা ঘেঁষে জমে থাকা ময়লার স্তূপ থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান কার্যক্রম। দ্রুত ময়লা অপসারণ ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

সম্প্রতি সরেজমিন দেখা যায়, কাপাসিয়া-শ্রীপুর আঞ্চলিক সড়কের পাশে অবস্থিত বিদ্যালয়টির দক্ষিণ পাশ ঘেঁষে বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। বিদ্যালয়ের অন্তত ১৩টি শ্রেণিকক্ষের জানালার পাশেই জমে উঠেছে ময়লার স্তূপ। বিদ্যালয়ের খেলার মাঠের সন্নিকটে থাকা ওই স্থানে স্থানীয় বাজারের পচা শাকসবজি, হোটেলের বাসি খাবার, মুরগির নাড়িভুঁড়িসহ বিভিন্ন গৃহস্থালি বর্জ্য ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

শিক্ষার্থীরা জানায়, তীব্র দুর্গন্ধের কারণে শ্রেণিকক্ষে বসে পাঠ গ্রহণ করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। গরমের সময় পরিস্থিতি আরও অসহনীয় হয়ে ওঠে। অনেকের বমি বমি ভাব হয় এবং পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

অভিভাবক মনির হোসেন বলেন, ‘এভাবে চলতে থাকলে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়বে। দ্রুত এই ময়লার ভাগাড় সরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।’

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান মিয়া বলেন, ‘এই সড়ক দিয়ে চলাচল করাও কষ্টকর হয়ে গেছে। বিদ্যালয় ও সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার পাশে কীভাবে এমন ময়লার ভাগাড় গড়ে উঠল, তা বোধগম্য নয়। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত দেখা উচিত।’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘হঠাৎ একদিন বিদ্যালয়ে এসে দেখি পাশে ময়লার ভাগাড় তৈরি করা হয়েছে। রাতের অন্ধকারে কে বা কারা এসব বর্জ্য ফেলছে, তা এখনো শনাক্ত করা যায়নি। দুর্গন্ধের কারণে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এবং পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।’

কাপাসিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল আরিফ সরকার বলেন, ‘বিষয়টি আমাকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। খোঁজ নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তামান্না তাসনীম বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত ময়লা অপসারণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত