Ajker Patrika

পরিবারের স্বপ্ন পূরণ করা হলো না দক্ষিণ কোরিয়ায় নিহত হাসিবুরের

জয়পুরহাট প্রতিনিধি
পরিবারের স্বপ্ন পূরণ করা হলো না দক্ষিণ কোরিয়ায় নিহত হাসিবুরের
হাসিবুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

‘ছেলেটা বলেছিল, ‘‘আব্বা, একটু কষ্ট করেন। পড়াশোনা শেষ করে ভালো চাকরি করব, সংসারের সব দায় আমি নেব।’’ সেই ছেলেটাই এখন লাশ হয়ে ফিরবে...’—কথাগুলো বলতে বলতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার মহেশপুর গ্রামের নিজাবুল ইসলাম হিরো।

দক্ষিণ কোরিয়ায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন তাঁর ছেলে হাসিবুর রহমান (২৩)। গতকাল শনিবার স্থানীয় সময় গভীর রাতে ইলেকট্রিক স্কুটার চালিয়ে বাসায় ফেরার পথে দ্রুতগতির একটি গাড়ি তাঁকে ধাক্কা দেয়।

দুর্ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় হাসিবুরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ায় তাঁকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। আজ রোববার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। প্রবাসী বাংলাদেশিরা হাসিবুরের মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠাতে আইনি প্রক্রিয়ায় সহায়তা করছেন।

পরিবার ও প্রবাসী বাংলাদেশি সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ কোরিয়ার জেওনবুক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতেন হাসিবুর। উচ্চশিক্ষা ও পরিবারের স্বপ্ন পূরণের আশায় ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে স্টুডেন্ট ভিসায় দক্ষিণ কোরিয়ায় যান তিনি। বিদেশে যাওয়ার মাত্র চার মাস আগে বিয়ে করেছিলেন। নতুন সংসার, বৃদ্ধ বাবা-মায়ের স্বপ্ন আর নিজের ভবিষ্যৎ—সবকিছু নিয়েই ছিল তাঁর পথচলা। কিন্তু সেই পথ থেমে গেল এক মুহূর্তে।

নিহত হাসিবুরের বন্ধু মাহমুদুল হাসান জানান, প্রতিদিনের মতো কাজ শেষে রাতে বাসায় ফিরছিলেন হাসিবুর। ইলেকট্রিক স্কুটার চালিয়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি দ্রুতগতির গাড়ি তাঁকে ধাক্কা দেয়। পরে জানা যায়, গাড়িচালক মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন।

মহেশপুর গ্রামে এখন শুধু কান্না আর শোকের মাতম। বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড়ে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন হাসিবুরের মা। হাসিবুরের স্ত্রী নির্বাক হয়ে বসে আছেন ঘরের এক কোণে। কয়েক মাস আগেও যে সংসারে নতুন জীবনের স্বপ্ন ছিল, সেখানে এখন শুধুই শোকের নীরবতা।

প্রতিবেশীরা জানান, হাসিবুর ছোটবেলা থেকেই ভদ্র ও মেধাবী ছিলেন। পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরাতে বিদেশে গিয়েছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করতেন, যাতে পরিবারের ওপর চাপ কমে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আসাদুল হক রুবেল বলেন, হাসিবুর অনেক স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে গিয়েছিলেন। বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফোটাতে চেয়েছিলেন। ভাগ্য তাঁকে এত দ্রুত কেড়ে নেবে, কেউ ভাবেনি।

এলাকার শাহজাহান আলী বলেন, দুই ভাইয়ের মধ্যে হাসিবুর রহমান বড়। তাঁর ছোট ভাই বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজে একাদশ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

আইন অনুযায়ী নিয়মিত শিক্ষার্থীদের ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভর্সিটিতে যুক্ত করা হবে

মধ্যপ্রাচ্যে বিপুল অস্ত্র বিক্রির তোড়জোড় ট্রাম্পের, অন্যদিকে অবরোধ ভেঙে ইরান-ইরাক-সিরিয়া অক্ষের উত্থান

বুড়ো বয়সে আমাকে দেখার আশায় সন্তানকে বড় করিনি: অঞ্জন দত্ত

ইরান যুদ্ধে কারা হারল, জিত কাদের

সিলেটে ট্রাক-পিকআপ মুখোমুখি সংঘর্ষে ৮ শ্রমিক নিহত

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত