Ajker Patrika

চীনা ৫ রিফাইনারির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, তোয়াক্কা করছে না বেইজিং

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৩ মে ২০২৬, ১৬: ২৫
চীনা ৫ রিফাইনারির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, তোয়াক্কা করছে না বেইজিং
চীনের হেংলি তেল শোধনাগার। ছবি: সিনহুয়া

ইরান থেকে তেল কেনার অভিযোগে পাঁচটি চীনা রিফাইনারির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে সেই নিষেধাজ্ঞা পাত্তা না দিয়েছে একটি নিষেধাজ্ঞাবিরোধী এক আদেশ জারি করেছে চীন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

গত মাসের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ তথা অর্থ মন্ত্রণালয় এই নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে। এতে ওই রিফাইনারিগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক লেনদেন ব্যবস্থার বাইরে রাখা হয় এবং তাদের সঙ্গে ব্যবসা করা যেকোনো পক্ষকেও শাস্তির আওতায় আনার চেষ্টা করা হয়।

মার্কিন এই চেষ্টার বিপরীতে শনিবার এক বিবৃতিতে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, এই নিষেধাজ্ঞা ‘অযৌক্তিকভাবে’ চীনা প্রতিষ্ঠান ও তৃতীয় দেশের মধ্যে ব্যবসা সীমিত করছে এবং এটি ‘আন্তর্জাতিক আইন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মৌলিক নীতির লঙ্ঘন।’ মন্ত্রণালয় আরও জানায়, তারা একটি ‘নিষেধাজ্ঞা প্রতিরোধ আদেশ’ জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, এই মার্কিন নিষেধাজ্ঞাগুলো ‘স্বীকৃত, কার্যকর বা অনুসৃত হবে না।’ এই পদক্ষেপকে তারা দেশের ‘সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন স্বার্থ রক্ষার’ উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জাতিসংঘের অনুমোদনহীন এবং আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিহীন একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে চীনা সরকার সব সময়ই অবস্থান নিয়েছে। চীন জানায়, এই আদেশের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপগুলো স্থগিত করা হয়েছে হেংলি পেট্রোকেমিক্যাল (দালিয়ান) রিফাইনারি এবং চারটি তথাকথিত ‘টিপট’ রিফাইনারির বিরুদ্ধে। এগুলো হলো শানডং জিনচেং পেট্রোকেমিক্যাল গ্রুপ, হেবেই সিনহাই কেমিক্যাল গ্রুপ, শৌগুয়াং লুকিং পেট্রোকেমিক্যাল এবং শানডং শেংশিং কেমিক্যাল।

এর আগে, ২৪ এপ্রিল নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার সময় যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ হেংলিকে ‘তেহরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গ্রাহক’ হিসেবে উল্লেখ করে। তাদের দাবি, এই প্রতিষ্ঠানটি অপরিশোধিত তেল কেনার মাধ্যমে ইরানের সামরিক খাতে শত শত মিলিয়ন ডলার রাজস্ব এনে দিয়েছে। চীনা মন্ত্রণালয়ের তালিকায় থাকা বাকি চারটি রিফাইনারির ওপরও ট্রাম্প প্রশাসন গত বছর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।

চীন তাদের মোট তেলের অর্ধেকের বেশি মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে, যার একটি বড় অংশ আসে ইরান থেকে। কমোডিটি ডেটা প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইরান যে তেল রপ্তানি করেছে তার ৮০ শতাংশের বেশি কিনেছে চীন।

চীনের ‘টিপট’ রিফাইনারিগুলো স্বাধীনভাবে পরিচালিত হয় এবং সাধারণত রাষ্ট্রীয় তেল জায়ান্ট যেমন সিনোপেকের তুলনায় আকারে ছোট। এই রিফাইনারিগুলো চীনের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তারা ইরান, রাশিয়া ও ভেনেজুয়েলার মতো নিষেধাজ্ঞাগ্রস্ত দেশ থেকে কম দামে পাওয়া অপরিশোধিত তেল কাজে লাগায়।

চীনের মোট রিফাইনারি সক্ষমতার প্রায় এক-চতুর্থাংশ এই ‘টিপট’ রিফাইনারিগুলোর দখলে। এগুলো খুব কম লাভে, কখনো কখনো লোকসানেও পরিচালিত হয় এবং সাম্প্রতিক সময়ে দুর্বল অভ্যন্তরীণ চাহিদার কারণে চাপের মুখে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা তাদের জন্য নতুন বাধা তৈরি করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সঠিক উৎপত্তি দেশ উল্লেখ করে পরিশোধিত পণ্য বিক্রিতে জটিলতা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

আইন অনুযায়ী নিয়মিত শিক্ষার্থীদের ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভর্সিটিতে যুক্ত করা হবে

মাছ ধরতে গিয়ে এক জেলে যেভাবে খুঁজে পেলেন বৃষ্টির মরদেহ

মধ্যপ্রাচ্যে বিপুল অস্ত্র বিক্রির তোড়জোড় ট্রাম্পের, অন্যদিকে অবরোধ ভেঙে ইরান-ইরাক-সিরিয়া অক্ষের উত্থান

নরসিংদীতে ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই খুন, আটক ২

টিকা বন্ধ করে দিয়েছিল ইউনূস সরকার, এরপরই দেশে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত