
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় এবারের আলুর মৌসুম যেন কৃষকের জন্য লোকসানের বছর হয়ে দাঁড়িয়েছে। খরচের তুলনায় বাজারে দাম কমের কারণে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে আলু রাস্তার ধারে ফেলে দিচ্ছেন।
আজ রোববার গঙ্গাচড়ার সদর ইউনিয়নের চেংমারী ও কুরিয়ার মোড় এলাকা ঘুরে দেখা যায়, শত শত বস্তাভর্তি পচা আলু রাস্তার ধারে ফেলে রাখা হয়েছে। কোথাও কোথাও স্তূপ করা আলু থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।
কৃষক ও ব্যবসায়ীদের দাবি, দাম পড়ে যাওয়ায় বিক্রি করতে না পারায় ও সংরক্ষণের অভাবে এসব আলু পচে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তাঁরা বাধ্য হয়ে ফেলে দিচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর গঙ্গাচড়ায় ৫ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৫৪ হাজার ২০৭ টন আলু, যা স্থানীয় চাহিদার তুলনায় বেশি। অতিরিক্ত উৎপাদন ও বাজার ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্য না থাকায় আলুর দাম কমে গেছে।
বর্তমানে পাইকারি বাজারে আলুর দর ছয় থেকে সাত টাকা কেজি, তবে মাঠপর্যায়ে কৃষকের কাছ থেকে কেনা হচ্ছে চার থেকে পাঁচ টাকা কেজিতে। অথচ প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে কৃষকের খরচ দাঁড়িয়েছে ১৮ থেকে ১৯ টাকা।
গত বছরও একই ধরনের পরিস্থিতিতে কৃষকেরা ১৮–১৯ টাকা খরচ করে আলু উৎপাদন করলেও ৮–১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছিলেন। এবার সেই পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে বলে অভিযোগ কৃষকদের, ফলে প্রতি কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে তাঁদের।
উপজেলার একমাত্র হিমাগারের ধারণক্ষমতা প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার বস্তা, যা ইতিমধ্যে প্রায় পূর্ণ। ফলে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে বাড়িতেই আলু সংরক্ষণ করেছেন। কিন্তু টানা বৃষ্টি ও আর্দ্রতার কারণে এসব আলু দ্রুত পচে যাচ্ছে।
কৃষি অফিস জানায়, এ বছর প্রায় ৬০ হেক্টর জমির আলু বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার আনুমানিক আর্থিক ক্ষতি ৩ কোটি ৬ লাখ টাকা।
চেংমারী গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান জানান, তিনি প্রায় ৩০০ শতক জমিতে আলু চাষ করেছিলেন। শুরুতে পাইকারেরা তিন–চার টাকা কেজি দর প্রস্তাব করায় তিনি আলু ঘরে তুলে রাখেন। কিন্তু সংরক্ষণের অভাবে আলুতে পচন ধরে। শেষপর্যন্ত প্রায় ৫০ বস্তা আলু ফেলে দিতে বাধ্য হয়েছেন।

মিজানুর রহমান বলেন, ১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে পারলেও কিছু ঋণ শোধ হতো। এখন ৫০ বস্তা পচা আলু রাস্তার ধারে ফেলতে হলো।
একই গ্রামের কৃষক পারভিন আক্তার (৫০) আরও বড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তিনি নিজের জমির পাশাপাশি বর্গা ও লিজ নেওয়া জমিসহ প্রায় ৫০০ শতক জমিতে আলু চাষ করেন। এ জন্য তিনি দেড় লাখ টাকার গরু বিক্রি করেন এবং সার-কীটনাশক দোকান থেকে বাকিতে নেন।
ফলন ভালো হলেও বিক্রির সময় পাইকার না পাওয়ায় কিছু আলু হিমাগারে রাখেন এবং প্রায় ২০০ বস্তা বাড়িতে সংরক্ষণ করেন। কিন্তু টানা বৃষ্টি ও আর্দ্রতায় সেগুলো দ্রুত পচে যেতে শুরু করে।
পারভিন আক্তার বলেন, ‘আমরা যারা বর্গা ও লিজ নিয়ে চাষ করি, তাদের খরচ অনেক বেশি। জমির ভাড়া, শ্রমিক, সার-কীটনাশক—সব মিলিয়ে বড় অঙ্কের টাকা লাগে। এখন বিক্রি না করতে পারলে ঋণ শোধ করব কীভাবে?’
পারভিন আক্তার আরও বলেন, ‘ফসল ফলিয়েও যদি ন্যায্য দাম না পাই, তাহলে কৃষকের বাঁচার পথ কোথায়?’
শুধু মিজানুর রহমান ও পারভিন আক্তারই নন, তাঁদের মতো উপজেলার ৬০০–৭০০ জন কৃষক একই সংকটে পড়েছেন বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। গঙ্গাচড়া এমএনটি হিমাগারের সামনে নবনীদাস এলাকার আলু ব্যবসায়ী মানিক মিয়া বলেন, ‘মাঠে পাঁচ টাকা কেজিতে আলু কিনলেও বস্তা, শ্রমিক, পরিবহন, কোল্ডস্টোরেজসহ এক কেজিতে খরচ পড়ে প্রায় ২০ টাকা। অথচ বাজারে বিক্রি হচ্ছে সাত–আট টাকা দরে। তাহলে ব্যবসা করব কীভাবে?’
মানিক মিয়া আরও বলেন, আগে কেনা আলুই এখন গলার কাঁটা হয়ে গেছে। আলু কিনে রাখলেও ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুবেল হুসেন বলেন, এ বছর গঙ্গাচড়ায় চাহিদার তুলনায় বেশি আলু উৎপাদন হয়েছে। যাঁরা শুরুতে আলু তুলেছেন, তাঁরা ক্ষতির মুখে পড়েননি, কিন্তু দেরিতে তোলা আলু বৃষ্টি ও সংরক্ষণ সমস্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রুবেল হুসেন আরও বলেন, আবহাওয়ার অস্থিরতা ও সংরক্ষণব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাই এই পরিস্থিতির মূল কারণ।

টাঙ্গাইলের গোপালপুরে এক স্কুলছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে পেটানোর ঘটনা ঘটেছে। পরে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ।
৩ মিনিট আগে
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলায় ট্রাক-মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। আজ রোববার নাচোল-আড্ডা সড়কের বেণিপুর মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
১২ মিনিট আগে
খুলনা বিভাগে এবার ১০ লাখ ৭৯ হাজার পশুর চাহিদার বিপরীতে ১৪ লাখ ৪৬ হাজার কোরবানির পশু রয়েছে। সেই হিসাবে আসন্ন ঈদুল আজহায় এবার খুলনা বিভাগে কোরবানির পশুর সংকট নেই। চাহিদার তুলনায় পশু উৎপাদন বেশি থাকায় এবার দামও ক্রেতাদের নাগালে থাকার আশা করা হচ্ছে। তবে চাষিরা বলছেন, এবার গরু পালনে খরচ বেশি হওয়ায় দামও
১৫ মিনিট আগে
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন এ কে এম রেজাউল করিম খন্দকার। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সম্পাদক পদে লড়তে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে ২৮ এপ্রিল পদত্যাগপত্র দিয়েছেন তিনি। রেজাউল করিম পদত্যাগের বিষয়টি রোববার (৩ মে) সাংবাদিকদের জানান।
১৮ মিনিট আগে