Ajker Patrika

যুবদল নেতার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগ, সতর্ক করলেন ইউএনও

ইসলামপুর (জামালপুর) প্রতিনিধি
যুবদল নেতার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগ, সতর্ক করলেন ইউএনও
জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় আব্দুল লতিফ মিয়া নামের এক সরকারি কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগের ঘটনা নিয়ে মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায় আলোচনা হয়েছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় আব্দুল লতিফ মিয়া নামের এক সরকারি কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগের ঘটনা নিয়ে মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায় আলোচনা হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ্ মো. জুবায়ের। এ সময় ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয় সতর্ক করেন তিনি।

ইউএনও শাহ্ মো. জুবায়ের বলেন, ‘গতকাল আমার দপ্তরে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। ইউএনওর দপ্তরে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে চলে যায়। আপনারা হয়তো ভাবতে পারেন, ইউএনও আপনাদের সঙ্গে বসে আছেন। আমি ব্যক্তি ও বয়সে আপনাদের ছোট হতে পারি। আমার চেয়ারটা আমি কিন্তু রাষ্ট্রকে রিপ্রেজেন্ট করি উপজেলা পর্যায়ে।’

উপস্থিত সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের উদ্দেশে ইউএনও বলেন, আপনাদের কাছে এটা সিম্পল ঘটনা মনে হতে পারে। উপজেলা পর্যায়ে যখন যা ঘটে তা সর্বোচ্চ পর্যায়ে চলে যায়।

এ সময় দাঁড়িয়ে কিছু একটা বলার চেষ্টা করলে অভিযুক্ত যুবদল নেতা হামিদুর রহমান মলিনকে থামিয়ে দিয়ে ইউএনও বলেন, ‘ভবিষ্যতে যেন এই ধরনের হীনকাজ না করা হয়।’

ইউএনও শাহ্ মো. জুবায়ের আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমার দপ্তরে ঘটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা সভায় আলোচনা হয়েছে। ভবিষ্যতে কেউ এই ধরনের কাজ করলে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর ভুক্তভোগীর পক্ষে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

আইনশৃঙ্খলা সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রেজোয়ান ইফতেকার, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডাক্তার এ এ এম আবু তাহের, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার মো. আব্দুল আলিম, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নবাব প্রমুখ।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা প্রশাসনিক ভবনের দ্বিতীয় তলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দপ্তরে উপজেলা পরিষদের সাঁট মুদ্রাক্ষরিক ও প্রশাসক গোপনীয় সহকারীর (সিএ-টু) কক্ষে সরকারি কর্মচারীকে মারধরের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী আব্দুল লতিফ মিয়া উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উচ্চমান সহকারী হিসেবে কর্মরত। তিনি উপজেলা সরকারি কর্মচারী কল্যাণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতাধীন চরপুটিমারী ইউনিয়নের বেনুয়ারচর আব্দুল মালেক মণ্ডল এতিমখানার পরিচালনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এ বিরোধের জের ধরেই ঘটনাটি ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে যুবদল নেতা হামিদুর রহমান দাবি করেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে ‘মনগড়া’ অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ওই সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে এতিমখানার পরিচালনা কমিটির অনুমোদনের জন্য ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ করেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত