Ajker Patrika

সরকারি কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে, পাল্টা অভিযোগ ঘুষ গ্রহণের

ইসলামপুর (জামালপুর) প্রতিনিধি  
সরকারি কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে, পাল্টা অভিযোগ ঘুষ গ্রহণের
ইসলামপুর ইউএনওর দপ্তরে উপজেলা পরিষদের সিএ-টুর কক্ষে মারধরের সময় তোলা। ছবি: সংগৃহীত

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় আব্দুল লতিফ মিয়া নামে এক সরকারি কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুর রহমান মলিনের বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে যুবদল নেতা দাবি করেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে ‘মনগড়া’ অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ওই সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে এতিমখানার পরিচালনা কমিটির অনুমোদনের জন্য ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ করেন।

আব্দুল লতিফ মিয়া উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উচ্চমান সহকারী হিসেবে কর্মরত। তিনি উপজেলা সরকারি কর্মচারী কল্যাণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন।

গতকাল মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে উপজেলা প্রশাসনিক ভবনের দ্বিতীয় তলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দপ্তরে উপজেলা পরিষদের সাঁটমুদ্রাক্ষরিক ও প্রশাসক গোপনীয় সহকারীর (সিএ-টু) কক্ষে এ ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতাধীন চরপুটিমারী ইউনিয়নের বেনুয়ারচর আব্দুল মালেক মণ্ডল এতিমখানার পরিচালনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এ বিরোধের জের ধরেই ঘটনাটি ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ জুন এতিমখানার পরিচালনা কমিটির মেয়াদ শেষ হয়। নতুন কমিটির অনুমোদনের জন্য প্রথমে আগের কমিটির সদস্যরা আবেদন করেন। পরে অপর পক্ষও পৃথকভাবে অনুমোদনের আবেদন করলে জটিলতা সৃষ্টি হয়। পরবর্তী সময়ে উভয় পক্ষের আবেদন নিষ্পত্তির জন্য জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে পাঠানো হয়।

ভুক্তভোগী আব্দুল লতিফ মিয়া বলেন, মঙ্গলবার বিকেলে ফ্যামিলি কার্ড জরিপ প্রকল্পে সুপারভাইজার নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষার দায়িত্বে তিনি ইউএনও কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন। এ সময় একটি অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন পেয়ে তাঁকে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে যেতে বলা হয়। তিনি দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকার কথা জানালে কিছুক্ষণ পর যুবদল নেতা হামিদুর রহমান মলিনের নেতৃত্বে কয়েকজন তাঁর কাছে এসে এতিমখানার কমিটির অনুমোদন না হওয়ার কারণ জানতে চান। তিনি বিষয়টি উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করার পরামর্শ দিলে তাঁকে গালাগাল ও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন। পরে আনসার সদস্য ও অন্য সরকারি কর্মচারীরা এসে তাঁকে উদ্ধার করেন।

উপজেলা পরিষদের প্রশাসক গোপনীয় সহকারী (সিএ-২) মো. সুমন মণ্ডল বলেন, আনসার সদস্য ও অন্য কর্মচারীদের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

ইউএনও কার্যালয়ের উপপ্রশাসনিক কর্মকর্তা এহসানুল হক এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক ইব্রাহিম খলিল বলেন, তাঁরা মারধরের ঘটনা প্রত্যক্ষ করেননি। তবে পাশের কক্ষে অবস্থানকালে হইচই শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

অভিযুক্ত যুবদল নেতা হামিদুর রহমান মলিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এতিমখানার পরিচালনা কমিটি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়েছিল। তিনি বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছেন। তাঁর দাবি, এখন উল্টো তাঁর বিরুদ্ধেই মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগকারী ওই সরকারি কর্মচারী কমিটি অনুমোদনের জন্য ২০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন।

ইসলামপুর উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বলেন, দুই পক্ষের আবেদন জেলা কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। এ নিয়ে এক পক্ষের কাছ থেকে হুমকি-ধমকিও পাওয়া যাচ্ছিল। তিনি জানান, কর্মচারী আব্দুল লতিফের সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে এবং বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা সভায় উপস্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন ইউএনও।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ মো. জুবায়ের বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মারধরের ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে ইউএনও বলেন, ঘটনার সময় তিনি কার্যালয়ের বাইরে ছিলেন। পরে ফিরে এসে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়ে অবগত হন। তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনাটি আমার দপ্তরের পাশেই ঘটেছে। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে। কোনো সরকারি কর্মচারীকে মারধর করা গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা সভায়ও উত্থাপন করা হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত