Ajker Patrika

গাজীপুরে স্ত্রীকে হত্যার পর পালিয়ে যান স্বামী, আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি  
আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২৬, ২১: ৪৭
গাজীপুরে স্ত্রীকে হত্যার পর পালিয়ে যান স্বামী, আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি
প্রতীকী ছবি

গলা ও বুকে ধারালো ছুরির একের পর এক আঘাতে লুটিয়ে পড়েন শান্তা বেগম। খাটের ওপর নিথর হয়ে পড়ে থাকেন তিনি। এরপর তাঁর মোবাইল ফোন ও পরিচয়পত্র নিয়ে কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান স্বামী সাইফুল ইসলাম। গাজীপুর মহানগরের চান্দনা চৌরাস্তার একটি আবাসিক হোটেলের ৩০৭ নম্বর কক্ষে ঘটে যাওয়া এই হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়েছেন খোদ সাইফুলই। গ্রেপ্তারের পর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে গাজীপুর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। হোটেল থেকে রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটন করেছে পিবিআই।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার জানান, নিহত শান্তার স্বামী ও মামলার প্রধান আসামি সাইফুল ইসলামকে ঢাকার দক্ষিণখান থানার ফায়দাবাদ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে নিহত শান্তা বেগমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।

পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার বলেন, আদালতে হাজির করার পর সাইফুল ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সেই জবানবন্দি ও তদন্তে পাওয়া তথ্য-প্রমাণে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাপ্রবাহ স্পষ্ট হয়েছে।

নাটোর সদর উপজেলার চরলক্ষ্মীকোল গ্রামের শহিদুল ইসলামের মেয়ে শান্তা বেগম গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর আহমেদনগর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত দুই সন্তানের এই জননী গত মঙ্গলবার বেলা ১টা ৪৮ মিনিটের দিকে সাইফুল ইসলামের সঙ্গে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে চান্দনা চৌরাস্তার আনোয়ারা ম্যানশন ভবনের ইভ্যালি আবাসিক হোটেলের ৩০৭ নম্বর কক্ষে ওঠেন।

রাত প্রায় ১০টা ৪৮ মিনিটে হোটেল কর্তৃপক্ষের খবর পেয়ে বাসন থানা-পুলিশ কক্ষে গিয়ে শান্তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে। তাঁর গলা ও বুকে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। তবে কক্ষে তখন সাইফুলকে পাওয়া যায়নি। তদন্তের শুরুতে নিহত নারীর পরিচয় জানা যায়নি। পিবিআইয়ের ক্রাইমসিন টিম আঙুলের ছাপ, সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাঁর পরিচয় শনাক্ত করে। পরে নিহত শান্তার বাবা শহিদুল ইসলাম অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। এরপর পিবিআই তদন্তভার নেয়। তদন্তে উঠে আসে, একই পোশাক কারখানায় কাজ করতে গিয়ে শান্তা ও সাইফুলের পরিচয় হয়। তিন মাসের সম্পর্কের পর তাঁরা বিয়ে করেন। কিন্তু আগের সংসার, সন্তান ও পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে অবিশ্বাস এবং দাম্পত্যকলহ বাড়তে থাকে।

পিবিআই জানায়, ঘটনার দিন শান্তার ডাকে গাজীপুরে আসেন সাইফুল। হোটেলকক্ষে ওঠার পর পুরোনো বিরোধ নিয়ে তাঁদের মধ্যে তর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে সাইফুল জানিয়েছেন, শান্তার সঙ্গে ধস্তাধস্তির পর তিনি ছুরি দিয়ে গলা ও বুকে আঘাত করেন। শান্তা নিস্তেজ হয়ে পড়লে তাঁর মোবাইল ফোন ও পরিচয়পত্র নিয়ে হোটেল থেকে পালিয়ে যান। হত্যার পর থেকেই পিবিআইয়ের একটি দল ছায়া তদন্ত শুরু করে। হোটেলের নিবন্ধন তথ্য, সিসিটিভি ফুটেজ, প্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধান ও বিভিন্ন সূত্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে আজ সকাল সাড়ে ৭টার দিকে দক্ষিণখানের ফায়দাবাদ ট্রান্সমিটার মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাইফুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত