Ajker Patrika

সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছে জাপানিজ ‘ওগাকুজু-বুরো’ বা এনজাইম বাথ, বিষয়টি আসলে কী ?

ফিচার ডেস্ক
আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২৬, ১৭: ৩৮
সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছে জাপানিজ ‘ওগাকুজু-বুরো’ বা এনজাইম বাথ, বিষয়টি আসলে কী ?
ছবি: সংগৃহীত

জাপানিদের মসৃণ ও উজ্জ্বল ত্বক সবার কাছেই ঈর্ষণীয়। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে জাপানের এক ব্যতিক্রমী বিউটি থেরাপি ‘এনজাইম বাথ’ বা জাপানি ভাষায় ‘ওগাকুজু-বুরো’। তবে হ্যাঁ, এই থেরাপির ধরনটা একটু অন্য রকম। মানে বাথটাব ভর্তি মাটি আর তাতে গলা অবধি ডুবে আছেন আপনি, ভাবুন তো একবার!

‘ওগাকুজু-বুরো’ জাপানের বহু পুরোনো একটি স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্যচর্চার পদ্ধতি, যা এখন ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকের সৌজন্যে বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। একে বিউটি থেরাপিস্টরা বলছেন এনজাইম বাথ। কিন্তু কী এই এনজাইম বাথ?

এনজাইম বাথে বড় বাথটাব বা বড় কাঠের চৌবাচ্চায় ভরা থাকে সিডার বা সাইপ্রেস গাছের মিহি কাঠের গুঁড়া, ধানের তুষ এবং ফল ও সবজি থেকে তৈরি প্রাকৃতিক এনজাইমের বিশেষ মিশ্রণ। এই মিশ্রণের ভেতরে একজনকে শুইয়ে গলা পর্যন্ত ঢেকে দেওয়া হয়। বাইরে শুধু মাথাটি খোলা থাকে। এরপর ৩০ থেকে ৫০ মিনিট পর্যন্ত সেই উষ্ণ মিশ্রণের মধ্যে বিশ্রাম নিতে হয়। উষ্ণতার কথা কেন বলা হচ্ছে বলছি–এখানে কোনো বৈদ্যুতিক হিটার ব্যবহার করা হয় না। কাঠের গুঁড়া, ধানের তুষ ও এনজাইমের মধ্যে থাকা উপকারী অণুজীব ফারমেন্টেশন বা গাঁজন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্বাভাবিকভাবেই তাপ উৎপন্ন করে। ফলে পুরো মিশ্রণের তাপমাত্রা প্রায় ৬০ থেকে ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এই প্রাকৃতিক উষ্ণতায় শরীর দ্রুত ঘামতে শুরু করে। আর এর ফলে ত্বক উজ্জ্বল দেখায়।

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

হঠাৎ জনপ্রিয় হয়ে ওঠার কারণ

এ সময়ে এত উপায় থাকতে এই এনজাইম বাথ জনপ্রিয় হয়ে উঠল কেন—তা নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এনজাইম বাথ ত্বকের মৃত কোষ দূর করতে সাহায্য করে। ঘামের মাধ্যমে ত্বকের রোমকূপ পরিষ্কার হয় এবং ত্বক আরও সতেজ ও মসৃণ দেখায়। এনজাইমের প্রভাবে ত্বকের ওপর জমে থাকা ময়লা ও মরা কোষ নরম হয়ে সহজে দূর হয়। ফলে ত্বকে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ফিরে আসে।

শুধুই বিউটি ট্রিটমেন্ট নয়, আরামদায়কও

একে রিল্যাক্সেশন থেরাপিও বলা হয়। উষ্ণতার কারণে শরীরে রক্ত সঞ্চালন বাড়তে পারে, পেশির টান কমতে পারে এবং দীর্ঘদিনের ক্লান্তি কিছুটা লাঘব হতে পারে। অনেকেই কর্মব্যস্ত সপ্তাহ শেষে শরীরকে আরাম দিতে এই থেরাপি বেছে নেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ঘামের মাধ্যমে শরীরের কিছু বর্জ্য উপাদান বেরিয়ে যায়।

কাদের জন্য উপযুক্ত নয়

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এনজাইম বাথের ভিডিও দেখলেই বোঝা যায় এর জনপ্রিয়তার কারণ। মাথা ছাড়া পুরো শরীর কাঠের গুঁড়োর নিচে ঢাকা—এই দৃশ্য অস্বস্তিকর কারও কারও কাছে। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ইনফ্লুয়েন্সাররা যাই করেন তাই তো ভাইরাল হয়। তাঁরা নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতেই লাখ লাখ মানুষ ভিডিওগুলো দেখেন। অনেকেই এটিকে ‘ন্যাচারাল সনা’, আবার কেউ ‘উড স্পা থেরাপি’ বলছেন। কিন্তু এটি সবার জন্য উপযোগী নয় বলে মনে করেন ত্বক বিশেষজ্ঞরা। যাদের হৃদ্‌রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, শ্বাসকষ্ট, গর্ভাবস্থা বা অতিরিক্ত তাপ সহ্য করতে সমস্যা রয়েছে, তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এই ধরনের থেরাপি নেওয়া উচিত নয়। এ ছাড়া যাদের ত্বকে অ্যালার্জি বা সংবেদনশীলতার সমস্যা রয়েছে, তাদেরও আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো। তাই ট্রেন্ডে যা আছে তা দেখেই ঝাঁপিয়ে পড়তে বাড়ন করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র: ডাউন ও অন্যান্য

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত