Ajker Patrika

ভুয়া ঋণ কেলেঙ্কারি: ইউনিয়ন ব্যাংকের ৬ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ দুদকের

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
ভুয়া ঋণ কেলেঙ্কারি: ইউনিয়ন ব্যাংকের ৬ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ দুদকের

এস আলম গ্রুপের নামে প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকার ভুয়া ঋণ বিতরণের অভিযোগে চলমান অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ইউনিয়ন ব্যাংক লিমিটেডের ছয় সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের একটি দায়িত্বশীল সূত্র আজকের পত্রিকাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে ইউনিয়ন ব্যাংকের ছয় কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন সংস্থাটির অনুসন্ধান কর্মকর্তারা। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁদের ঋণ অনুমোদন, গ্রাহক যাচাই, জামানতের মূল্যায়ন, অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া এবং ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে অনুসরণ করা ব্যাংকিং বিধিবিধান সম্পর্কে বিস্তারিত প্রশ্ন করা হয়।

তথ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হওয়া কর্মকর্তারা হলেন—ইউনিয়ন ব্যাংকের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) কাজী আব্দুল মঞ্জুর, সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট (এভিপি) মো. মনসুর আহমেদ ও মো. ফরহাদ, প্রিন্সিপাল অফিসার দিদারুল ইসলাম, ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট (এফএভিপি) মো. শরিফুল আলম মণ্ডল এবং শংকর কুমার রায়।

ঋণ অনুমোদন, বিতরণ এবং তদারকিতে দায়িত্বে অবহেলা ও অনিয়মে সহযোগিতার অভিযোগে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একই সঙ্গে তলব করা কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশ এখনো দুদকে হাজির হননি। তাঁদের মধ্যে অন্তত ২০ জন ৩ মাস সময় চেয়ে কমিশনের কাছে আবেদন করেছেন।

দুদক সূত্র জানায়, এস আলম গ্রুপের নামে প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকার ভুয়া ঋণ নেওয়ার অভিযোগে ২৮০ জন ঋণগ্রহীতা এবং ইউনিয়ন ব্যাংকের অর্ধশতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলছে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রকৃত ব্যবসায়িক কার্যক্রম বা গ্রহণযোগ্য জামানত ছাড়াই বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে বিপুল অঙ্কের ঋণ অনুমোদন করা হয়। পরে সেই অর্থ বিভিন্ন স্তর পেরিয়ে এস আলম গ্রুপের স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে তথ্য মিলেছে।

এই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে ইতিমধ্যে ব্যাংকের ৩৪ কর্মকর্তা এবং এস আলম গ্রুপ ও সংশ্লিষ্ট ঋণগ্রহীতাদের দুদকে তলব করা হয়েছে। অনুসন্ধান কর্মকর্তারা ঋণ অনুমোদনের নথি, বোর্ডের সিদ্ধান্ত, ক্রেডিট মূল্যায়ন প্রতিবেদন, হিসাব পরিচালনার তথ্য এবং অর্থ স্থানান্তরের নথিপত্র পর্যালোচনা করছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক এবং অন্যান্য সংস্থা থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

দুদকের সূত্র জানিয়েছে, তলব করা ব্যক্তিদের একটি বড় অংশ এখনো কমিশনে হাজির হননি। অনেকে বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণের চেষ্টা করছেন। এর মধ্যে অন্তত ২০ জন কর্মকর্তা তিন মাস সময় চেয়ে আবেদন করেছেন। তাঁদের আবেদনের বিষয়ে কমিশন এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।

সূত্রটির দাবি, যাঁরা হাজির হচ্ছেন না বা তথ্য গোপনের চেষ্টা করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। অনুসন্ধানে অসহযোগিতা বা তথ্য গোপনের প্রমাণ মিললে তা-ও তদন্তে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত