Ajker Patrika

কুমিল্লায় গ্যাসের জন্য মহাসড়কে পণ্যবোঝাই গাড়ির দীর্ঘ লাইন, বন্ধ আঞ্চলিক গণপরিবহন

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি 
আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২৬, ১৭: ৩৩
কুমিল্লায় গ্যাসের জন্য মহাসড়কে পণ্যবোঝাই গাড়ির দীর্ঘ লাইন, বন্ধ আঞ্চলিক গণপরিবহন
গ্যাসের জন্য মহাসড়কে পণ্যবোঝাই গাড়ির দীর্ঘ লাইন। কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার একটি সিএনজি স্টেশন থেকে তোলা। ছবি: আজকের পত্রিকা

কুমিল্লায় মহাসড়কসংলগ্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় শত শত পণ্যবোঝাই কাভার্ড ভ্যান, ট্রাক, লরি ও আঞ্চলিক গণপরিবহন দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চৌদ্দগ্রাম থেকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার পর্যন্ত ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। গ্যাস-সংকটে ফেনী ও কুমিল্লার আঞ্চলিক সড়কের অধিকাংশ গণপরিবহনও প্রায় বন্ধ।

গতকাল বুধবার দুপুরে গাজীপুর থেকে গার্মেন্টসের পণ্য বোঝাই করে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে রওনা হন কাভার্ড ভ্যানচালক জয়নাল আবেদীন। রাতের বেলা কুমিল্লার অংশে প্রবেশ করলে তাঁর গাড়ির গ্যাস শেষ হয়ে যায়। গ্যাস নেওয়ার জন্য তিনি কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার অ্যাডভান্স সিএনজি ফিলিং স্টেশনে প্রবেশ করেন। আজ দুপুর গড়িয়ে গেলেও তিনি গ্যাস পাননি।

জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘বুধবার রাত ২টা থেকে গ্যাসের জন্য পাম্পে দাঁড়িয়ে আছি, আজও গ্যাস পাইনি।’ সময়মতো বন্দরে পণ্য পৌঁছাতে না পারলে শিপমেন্ট বাতিল হয়ে যেতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের দুই লেনের পাশে থাকা সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে শত শত পণ্যবোঝাই কাভার্ড ভ্যান, ট্রাক, লরি ও আঞ্চলিক গণপরিবহন গ্যাসের জন্য অপেক্ষা করছে। কোনো স্টেশনেই গ্যাস না পাওয়ায় গাড়ির লাইন আরও দীর্ঘ হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত শুক্রবার থেকে গতকাল দুপুর পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও কোনো আগাম ঘোষণা ছাড়াই গতকাল দুপুর থেকে আবারও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে হঠাৎ করেই গ্যাসচালিত পরিবহন সংকটে পড়ে।

আজ দুপুরে সদর দক্ষিণ উপজেলার তাজ সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে পণ্যবোঝাই গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। সেখানে আবদুল খালেক নামের এক লরিচালক জানান, রাতে চট্টগ্রাম ইপিজেড থেকে পণ্য নিয়ে বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। পথিমধ্যে গ্যাস শেষ হয়ে যাওয়ায় ওই স্টেশনে ঢুকলেও গ্যাস পাননি।

আবদুল খালেক বলেন, ‘কখন গ্যাস পাব, তা-ও জানি না। সঠিক সময়ে মালামাল নিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারব কি না, তা-ও জানি না।’

গ্যাস-সংকটের প্রভাব পড়েছে আঞ্চলিক গণপরিবহনেও। ফেনী ও কুমিল্লার আঞ্চলিক সড়কের অধিকাংশ গণপরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুই জেলার যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়েছে। বিশেষ করে, অফিসগামী কর্মকর্তা, কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী ও চিকিৎসাসেবা নিতে যাওয়া রোগীদের ভোগান্তি বেশি হচ্ছে।

চৌদ্দগ্রাম বাজারে গণপরিবহনের জন্য অপেক্ষারত ইকবাল হোসেন বলেন, ‘আমার নিকটাত্মীয় কুমিল্লার একটি হাসপাতালে ভর্তি। তাকে দেখতে যাওয়া জরুরি। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। কিন্তু যাওয়ার মতো কোনো গণপরিবহন পাচ্ছি না। গ্যাস-সংকটের কারণে অধিকাংশ গাড়ি বন্ধ।’

চৌদ্দগ্রাম ট্রান্সপোর্ট নামে কাভার্ড ভ্যানের মালিক ওবায়েদ পাটোয়ারী জানান, গ্যাস-সংকটের কারণে তাঁদের গাড়ির খরচ বেড়েছে। তিনি বলেন, ‘যে গাড়ি পণ্য নিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে, সে গাড়ি এখন তিন দিনেও গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না। আমার বেশ কয়েকটি গাড়ির অধিকাংশই গ্যাসের জন্য বিভিন্ন স্টেশনে দাঁড়িয়ে আছে।’

ফেনী-কুমিল্লা সড়কে চলাচলকারী আঞ্চলিক পরিবহন যমুনা মালিক সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম বলেন, হঠাৎ গ্যাস-সংকটে অধিকাংশ গণপরিবহন বন্ধ হয়ে পড়েছে। এতে গাড়ির সংকট তৈরি হয়েছে। গণপরিবহন-সংকটে দুই জেলার মানুষের চরম ভোগান্তি হচ্ছে। বিশেষ করে, রোগী ও কলেজশিক্ষার্থীদের।

খোরশেদ আলম সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে বলেন, অন্তত গণপরিবহনগুলো সচল রাখার জন্য গ্যাস সরবরাহ যেন অব্যাহত রাখে।

এ বিষয়ে বাখরাবাদ গ্যাস বিপণন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মুর্তজা রহমান খানের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত