Ajker Patrika

চট্টগ্রামে ১৬ আসনের ১৪ টিতেই ধানের শীষের নিরঙ্কুশ বিজয়

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩: ৪১
চট্টগ্রামে ১৬ আসনের ১৪ টিতেই ধানের শীষের নিরঙ্কুশ বিজয়

চট্টগ্রাম জেলার ১৬ আসনের মধ্যে চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনের চূড়ান্ত বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির নুরুল আমিন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ২৮ হাজার ৭৯৯ ভোট। তার সাথে দাড়িঁপাল্লা প্রতীকে ৮৪ হাজার ৫৩৮ ভোট নিয়ে হেরেছেন জামায়াত নেতা এডভোকেট মোহাম্মদ ছাইফুর রহমান।

চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিপুল ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী সরওয়ার আলমগীর। রাতে ঘোষিত ফলাফলে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৪৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের নুরুল আমিন পেয়েছেন ৬২ হাজার ১৬০ ভোট।

চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে ৮৩টি ভোটকেন্দ্রের প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এরমধ্যে বিএনপির প্রার্থী মোস্তফা কামাল পাশা ধানের শীষ প্রতীকে ৭২ হাজার ৫১৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ আলা উদ্দীন সিকদার দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৩৬ হাজার ৮১৮ ভোট।

চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুন্ড) আসনের মোট ১২৪টি কেন্দ্রের সবগুলোর ফলাফল ঘোষণা করেছে উপজেলা সহকারি রিটার্নিং অফিসার মো. ফখরুল ইসলাম। ভোট গণনা শেষে ধানের শীষ প্রতীকে মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ৪২ হাজার ৬৭৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৮৯ হাজার ২৬৮ ভোট।

চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারি) আসনে বড় ব্যবধানে জয় পেলেন বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। তিনি ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৪৩ হাজার ৯৬৫ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ১১ দলীয় জোটের মাওলানা নাসির উদ্দিন মুনির পেয়েছেন ৪৪ হাজার ভোট।

চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে বড় ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী। এতে গিয়াস কাদের পেয়েছেন ১ লাখ ১১ হাজার ২০১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট মনোনীত মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থী পেয়েছেন ২৬ হাজার ৬৯৬ ভোট। এছাড়া জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকেরএছাড়া জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের শাহজাহান মঞ্জু পেয়েছেন ২১ হাজার ১৩ ভোট।

চট্টগ্রাম-৭ আসন থেকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হুম্মাম কাদের চৌধুরী। বৃহস্পতিবার রাতে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান ভোটগণনার পর এই ফলাফল ঘোষণা করেন। এই আসনে মোট ৯২টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে বিএনপি’র এই প্রার্থী মোট ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৩৬৭। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী এ টি এম রেজাউল করিম পেয়েছেন ৩৮ হাজার ৬৬৫ ভোট।

চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসনে মোট ১৭৯ কেন্দ্রের মধ্যে ১৩৩ কেন্দ্রের ফলাফলেই বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ নিজের বিজয় নিশ্চিত করেছেন। এই আসনে ১৩৩ কেন্দ্রে তার প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ১৭ হাজার ১২২টি। তাঁর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরেছেন জামায়াতের প্রার্থী ডা. এম এ নাছের। তিনিও একই সংখ্যক কেন্দ্রে ৩৬ হাজার ২৪১ ভোট পেয়েছেন। দুইজনের ভোটের ব্যবধান ৮০ হাজার ৮৮১। আর ৪৬ কেন্দ্রের বাকী থাকা ফলাফল এক্ষেত্রে জয় পরাজয়ে কোন প্রভাব ফেলবে না বলে জানা গেছে।

চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) আসনে বিএনপি প্রার্থী বড় ব্যবধানে জিতেছেন। ধানের শীষ নিয়ে মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান পেয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ৩৮৮ ভোট। জামায়াতের প্রার্থী ডা. একেএম ফজলুল হক পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৫০৭ ভোট।

চট্টগ্রাম ১০ (ডবলমুরিং-পাহাড়তলী) আসনে সব কেন্দ্রের ফলাফলে সাঈদ আল নোমান ধানের শীষ প্রতীক পেয়েছে ১ লাখ ২১ হাজার ৩৬৪ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বি জামায়াতের শামসুজ্জামান হেলালি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৭৪ হাজার ৪০৭ ভোট পেয়েছেন। এখানে সাঈদ আল নোমান বড় ব্যবধানে এগিয়ে থেকে জিতলেন।

চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনের সকল ভোট গননা শেষে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিজয়ী হয়েছেন। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ৮১৫ ও দাড়িপাল্লার প্রার্থী মো. শফিউল আলমের ভোট ৭৭ হাজার ৯১৬।

চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের বেসরকারি ফলাফলে ১১৩ কেন্দ্রের সবকটির ফলাফলে বিএনপির মো. এনামুল হক ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এই আসনে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি মোমবাতি মার্কার সৈয়দ এয়ার মোহাম্মদ পেয়ার ২৮ হাজার ৮০৬ ভোট পেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন। জামায়াতের ডা. মোহাম্মদ ফরিদ পেয়েছেন ২০ হাজার ৯৪০ ভোট।

এদিকে চট্টগ্রাম–১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনে সব কেন্দ্রের ফলাফল এসেছে। মোট ১১৮ কেন্দ্র। বিজয়ী ধানের শীষের প্রার্থী সরওয়ার জামাল নিজাম পেয়েছেন ১ লাখ ২৫ হাজার ৪৬০। মোমবাতি মার্কায় ৫৪ হাজার ৬২৭ ভোট পেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন এস এম শাহজাহান। এখানে জামায়াতের প্রার্থী মাহমুদুল হাসান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৩৪ হাজার ৩৫ ভোট। আনোয়ারা উপজেলা সহকারি রিটানিং অফিসার তাহমিনা আক্তার ভোটের ফলাফলের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনে আলোচিত কর্ণেল অলি আহমেদ বীর বিক্রমের পুত্র ওমর ফারুককে (ছাতা মার্কা) হারিয়ে দিয়েছেন বিএনপিতে নবাগত জসিম উদ্দিন আহমেদ। চট্টগ্রাম জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহেদুল ইসলাম মিয়ার দেওয়া তথ্য মতে ওমর ফারুক পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৪৬৭ ভোট। বিজয়ী জসিম উদ্দিন আহমেদ ধানের শীষ নিয়ে পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৪৯৩ ভোট। এখানে বিএনপি প্রার্থী মাত্র ১০২৬ ভোটের জিতেছেন।

চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে ১১ দলীয় জোট থেকে জামায়াতের প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী বিজয়ী হয়েছেন। তার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরেছেন বিএনপির নাজমুল মোস্তফা আমিন। এই আসনে সবগুলো কেন্দ্রের ফলাফলে জামায়াতের প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী বড় ব্যবধানে জিতেছেন। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে তাঁর প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ৮১ হাজার ২৩৮। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপির প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিন পেয়েছেন ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৬১ ভোট।

চট্টগ্রাম-১৬ (বাশঁখালী) আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের কাছে হেরেছেন ধানের শীষের প্রার্থী মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা। এখানে দাড়িঁপাল্লা মার্কার প্রাপ্ত ভোট ৮৯ হাজার ৯৬০। ধানের শীষের প্রার্থীর ভোট ৮২ হাজার ২৩৭। বিএনপির বিদ্রোহী হিসেবে ভোটের থাকা ফুলবল মার্কার প্রার্থী লেয়াকত আলীর প্রাপ্ত ভোট ৫৫ হাজার ৭৯টি। সহকারী রিটানিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জামশেদুল আলম এই ফলাফল ঘোষণা করেছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত