
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) এলাকায় নতুন ভবন নির্মাণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য শতবর্ষীসহ বহু পুরোনো অন্তত অর্ধশত গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। পরিবেশবিদ ও স্থানীয়রা জানান, কেটে ফেলা এসব গাছের মধ্যে অন্তত পাঁচটি শতবর্ষী। তিন মাস ধরে মেডিকেল স্টাফ কোয়ার্টার ও প্রধান ছাত্রাবাসের পেছনের পাহাড়ি এলাকায় এগুলো কাটা হয়েছে।
উঁচু-নিচু পাহাড়ি ঢালজুড়ে বহু বছর ধরে দাঁড়িয়ে ছিল শিমুল, কড়ই, গর্জন, বটসহ নানা প্রজাতির গাছ। একেকটির বয়স কয়েক দশক থেকে শুরু করে শত বছরের বেশি।
অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের জন্য প্রয়োজন নেই এমন অনেক গাছও উজাড় করা হয়েছে। রাতের অন্ধকারে কাটা গাছগুলো ট্রাকে তুলে বাইরে নিয়ে বিক্রি করা হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনই এগুলো সরিয়ে নিয়েছে।
গত রোববার চমেক এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মেডিকেল স্টাফ কোয়ার্টার ও ছাত্রী হোস্টেলের পেছনের অংশে বড় গাছগুলোর বেশির ভাগই নেই। কয়েক মাস আগেও কয়েক একর এলাকাজুড়ে বড় বড় গাছ ছায়া দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। এখন সেই জায়গা প্রায় পুরোপুরি ফাঁকা। চমেক স্টাফ কোয়ার্টারসংলগ্ন এলাকা এবং প্রধান ছাত্রাবাসের পেছনেও গত এক মাসে অনেক গাছ কাটা হয়েছে। যে দু-একটি গাছ টিকে ছিল, সেগুলোও গত সপ্তাহে কেটে ফেলা হয়।
বর্তমানে ওই পাহাড়ি এলাকার একাংশে ফুলের বাগান তৈরি করা হয়েছে। অন্য অংশে ছাত্র হোস্টেল ভবন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো বসানোর কাজ শুরু করেছেন শ্রমিকেরা। ফুলের বাগান তৈরির কাজ তত্ত্বাবধান করছেন চমেক হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. হাসানুজ্জামান। স্থানীয়দের প্রশ্ন, গাছ কেটে পাহাড়ে ফুলের বাগান তৈরির যৌক্তিকতা কী?
অভিযোগের বিষয়ে কথা হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, প্রধান ছাত্রাবাসের পেছনে ১৭ তলা একটি ছাত্র হোস্টেল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া স্টাফ কোয়ার্টারের পাশে এবং বর্তমান ছাত্রী হোস্টেলের পেছনে আট তলাবিশিষ্ট দুটি নতুন ছাত্রী হোস্টেল নির্মাণ হবে। ভবন নির্মাণের জায়গায় থাকা কিছু গাছ বাধ্য হয়ে কেটে ফেলতে হয়েছে। এ ছাড়া নির্মাণসামগ্রী আনা-নেওয়ার জন্য বড় গাড়ি চলাচলের জায়গা প্রয়োজন। সে কারণে কিছু গাছ কাটতে হয়েছে। তবে শতবর্ষী গাছ কাটা হয়নি।
অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, একটি পরিবেশবাদী সংগঠন এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে স্মারকলিপি দিয়েছে। স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সঙ্গে বৈঠক করে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে। বর্তমানে যেসব গাছ রয়েছে, সেগুলো রক্ষা করে বা পরিবেশগত ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে কীভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যায়, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
চমেক মাঠসংলগ্ন পাহাড়ে গাছ কাটার বিষয়ে মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, সেখানে সৌন্দর্যবর্ধন ও বনায়ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। বিনোদনের জন্য বসার জায়গা ও ফুলের বাগান করা হয়েছে। ওই এলাকায় ইতিমধ্যে সাত হাজার চারা রোপণ করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও গাছ লাগানো হবে।
পরিবেশবিদ মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, নতুন ছাত্রাবাস নির্মাণের জন্য অন্তত ৬৬টি গাছ কাটার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি ছিল শতবর্ষী বা অতি প্রাচীন বৃক্ষ। এগুলো কাটতে কোনো পরিবেশগত অনুমতি নেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই ঠিকাদারেরা কেটে ফেলেছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে এসব গাছ এলাকার পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ এবং পাহাড় সংরক্ষণসংক্রান্ত প্রচলিত আইন অনুযায়ী যথাযথ পরিবেশগত মূল্যায়ন ও অনুমোদন ছাড়া গাছ কাটা এবং পাহাড় কাটা আইনগতভাবেও প্রশ্নবিদ্ধ।
গাছ কাটার প্রতিবাদে গত রোববার পরিবেশকর্মীরা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের সামনে মানববন্ধন করেন। পরে চমেক কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এতে বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে তদন্তের পাশাপাশি প্রকল্পের জন্য অপরিহার্য নয় এমন শতবর্ষী ও পুরোনো গাছ সংরক্ষণের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে চার দফা দাবি তুলে ধরেন পরিবেশকর্মীরা।

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে নিজ বসতঘর থেকে রুবেল হাওলাদার (৩৮) নামে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল রোববার (১০ মে) বিকেলে উপজেলার জৈনসার ইউনিয়নের চম্পকদি গ্রামের মোল্লাবাড়ি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত রুবেল ওই গ্রামের আলিম হাওলাদারের ছেলে।
১৯ মিনিট আগে
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় আবারও একটি বাসায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বাবা ও তিন ছেলে দগ্ধ হয়েছেন। গুরুতর অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
২৯ মিনিট আগে
ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় মো. শুভ মিয়া (১৪) নামের এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রোববার রাত ৯টার দিকে উপজেলার কানুরামপুর-ত্রিশাল সড়কের চরশ্রীরামপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
১ ঘণ্টা আগে
মায়ের জন্য ওষুধ কিনতে বাসা থেকে বের হয় স্কুলছাত্র ইয়াছিন আরাফাত (১৭)। ৯ মাস আগে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের সূত্র উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, নামের সঙ্গে মিল থাকায় ভুলবশত সন্দেহভাজন হিসেবে ইয়াছিনকে হত্যা করা হয়।
১ ঘণ্টা আগে