Ajker Patrika

ছোট্ট সেই রেশমিকে বাঁচানো গেল না

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
ছোট্ট সেই রেশমিকে বাঁচানো গেল না
ফাইল ছবি

সন্ত্রাসীদের বেপরোয়া গুলিতে আহত সেই রেশমি আক্তারকে (১২) বাঁচানো গেল না। নগরীর বায়েজিদ থানাধীন রৌফাবাদ বিহারি কলোনিতে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গুলিতে সাত দিন আগে মারাত্মকভাবে আহত হয় শিশু রেশমি আক্তার। আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল সাড়ে ৯টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে চমেক হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের প্রধান ডা. কে এম বাকী বিল্লাহ সবুজ বলেন, রেশমির মাথায় থাকা গুলিটি মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল। চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

তথ্যমতে, গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাতে মায়ের জন্য পান কিনতে বাসা থেকে বের হয়েছিল ১২ বছরের শিশু রেশমি আক্তার। কিন্তু সেই বের হওয়াই হয়ে উঠল তার জীবনের কালো অধ্যায়। ঘটনার দিনে রাত পৌনে ১১টার দিকে বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন রৌফাবাদ কলোনির শহীদ মিনার গলি এলাকায় রেশমির চোখে বুলেট বিদ্ধ হয়। ঘটনার সময় অজ্ঞাতনামা চার-পাঁচজন সন্ত্রাসী রাউজানের কদলপুর এলাকার মো. হাসান ওরফে রাজু নামের এক যুবককে তাড়া করে পেছন থেকে গুলি ছুড়তে থাকে। একপর্যায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে রাজুর মৃত্যু হয়। তখন সন্ত্রাসীদের ছোড়া একটি বুলেট বিদ্ধ হয় শিশু রেশমির চোখে।

অচেতন অবস্থায় প্রথমে তাকে চমেক হাসপাতালে ও পরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এক দিন পর সেখান থেকে পুনরায় রেশমিকে অস্ত্রোপচারের জন্য চমেক হাসপাতালে আনার পর আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।

চিকিৎসকেরা জানান, সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলি রেশমির চোখ দিয়ে প্রবেশ করে মাথার গভীরে গিয়ে পেছনের দিকে আটকে যায়। টানা সাত দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শেষ পর্যন্ত হার মানল ছোট্ট রেশমি।

শহীদ মিনার গলির স্থানীয় বাসিন্দা সবজি বিক্রেতা রিয়াজ আহমেদ ও সাবেরা বেগম দম্পতির পাঁচ সন্তানের মধ্যে সবার ছোট রেশমি। সে স্থানীয় একটি স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। রেশমির পরিবার জানিয়েছে, ঘটনার সময় মায়ের জন্য পান কিনে আনতে বাসা থেকে বের হয়েছিল রেশমি।

এ বিষয়ে রেশমির মেজ ভাই ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘আমার ছোট বোনটা শুধু মায়ের জন্য পান কিনতে বের হয়েছিল। কোনো অপরাধ না করেও তাকে এভাবে চলে যেতে হলো। আমরা এই হত্যার বিচার চাই।’

এ বিষয়ে চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিন জানান, ওই শিশু গত শুক্রবার থেকে আইসিইউতে ভর্তি ছিল, সকালে সে মারা গেছে। শিশুটিকে সারিয়ে তুলতে প্রাণান্তকর চেষ্টা ছিল চিকিৎসকদের।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত