
হজ মূলত মহান আল্লাহর সঙ্গে বান্দার এক নিবিড় আধ্যাত্মিক সংযোগের মাধ্যম। হজের প্রতিটি ধাপ—ইহরাম বাঁধা, কাবা শরিফ তাওয়াফ, সাফা-মারওয়া সায়ি ও আরাফাতের ময়দানে অবস্থান—সবকিছুই নির্দিষ্ট দোয়া ও জিকিরের মাধ্যমে পূর্ণতা পায়। হজের সফরকে অর্থবহ ও পুণ্যময় করতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু দোয়া অর্থসহ জেনে নেওয়া প্রয়োজন।
ইহরাম বাঁধার পর থেকে হজের মূল কার্যাবলি শুরু হওয়া পর্যন্ত এই তালবিয়া বেশি বেশি পাঠ করা সুন্নত।
আরবি: لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لَا شَرِيكَ لَكَ
উচ্চারণ: লাব্বাইকাল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারীকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নি‘মাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারীকা লাক।
অর্থ: আমি হাজির হে আল্লাহ, আমি হাজির। তোমার কোনো শরিক নেই, আমি হাজির। নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা, নিয়ামত ও রাজত্ব তোমারই, তোমার কোনো শরিক নেই।
পবিত্র কাবা প্রাঙ্গণে প্রথম কদম রাখার সময় এই দোয়া পাঠ করতে হয়।
আরবি: بِسْمِ اللهِ وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى رَسُولِ اللهِ، اللَّهُمَّ افْتَحْ لِي أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ
উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আলা রাসূলিল্লাহ, আল্লাহুম্মাফতাহ লী আবওয়াবা রাহমাতিক।
অর্থ: আল্লাহর নামে (প্রবেশ করছি), আল্লাহর রাসুলের ওপর দরুদ ও সালাম। হে আল্লাহ, আমার জন্য তোমার রহমতের দরজা খুলে দাও।
তাওয়াফ করার সময় নির্দিষ্ট কোনো দোয়া বাধ্যতামূলক না হলেও রুকনে ইয়ামানি ও হাজরে আসওয়াদের মাঝখানে এই দোয়া পড়া অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।
আরবি: رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
উচ্চারণ: রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানাহ, ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাহ, ওয়া ক্বিনা আযাবান্নার।
অর্থ: হে আমাদের রব, আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দাও, আখিরাতেও কল্যাণ দাও এবং জাহান্নামের আজাব থেকে রক্ষা করো।
তাওয়াফ সম্পন্ন করার পর মাকামে ইবরাহিমের পেছনে দুই রাকাত নামাজ পড়ার আগে এই আয়াত পাঠ করা সুন্নত।
আরবি: وَاتَّخِذُوا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى
উচ্চারণ: ওয়াত্তাখিজু মিম মাক্বামি ইবরাহিমা মুসাল্লা।
অর্থ: তোমরা মাকামে ইবরাহিমকে নামাজের স্থান হিসেবে গ্রহণ করো।
সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝে দৌড়ানো বা সায়ি শুরু করার সময় সাফা পাহাড়ে উঠে কাবার দিকে মুখ করে এটি বলতে হয়।
আরবি: إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ، أَبْدَأُ بِمَا بَدَأَ اللَّهُ بِهِ
উচ্চারণ: ইন্নাস সাফা ওয়াল মারওয়াতা মিন শাআয়িরিল্লাহ, আবদাউ বিমা বাদাআল্লাহু বিহি।
অর্থ: নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত। আমি সেটা দিয়ে শুরু করছি, যা দিয়ে আল্লাহ শুরু করেছেন।
সায়ির সময় পাহাড়ের চূড়ায় উঠে এই জিকির পাঠ করা হয়।
আরবি:
لَا إِلَٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ. لَا إِلَٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ، أَنْجَزَ وَعْدَهُ، وَنَصَرَ عَبْدَهُ، وَهَزَمَ الْأَحْزَابَ وَحْدَهُ.
উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ইউহয়ি ওয়া ইউমিতু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িং কাদির। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু আনজাযা ওয়াদাহু ওয়া নাসারা আবদাহু ওয়া হাযামাল আহযাবা ওয়াহদাহু।
অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। রাজত্ব ও প্রশংসা তাঁরই। তিনি জীবন দেন ও মৃত্যু দেন এবং সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান। তিনি তাঁর ওয়াদা পূর্ণ করেছেন, তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং একাই সব দলকে পরাজিত করেছেন।
৯ জিলহজ আরাফাতের ময়দানে অবস্থানের সময় নবীজি (সা.) এই দোয়া বেশি বেশি পড়তেন।
আরবি: لَا إِلَٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িং কাদির।
অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। রাজত্ব ও প্রশংসা তাঁরই এবং তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান।
৯ জিলহজ ফজর থেকে ১৩ জিলহজ আসর পর্যন্ত প্রতিটি ফরজ নামাজের পর এই তাকবির পড়া ওয়াজিব।
আরবি: اللَّهُ أَكْبَرُ، اللَّهُ أَكْبَرُ، لَا إِلَٰهَ إِلَّا اللَّهُ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ، اللَّهُ أَكْبَرُ، وَلِلَّهِ الْحَمْدُ
উচ্চারণ: আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদ।
অর্থ: আল্লাহ মহান। আল্লাহ মহান। আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আল্লাহ মহান। আল্লাহ মহান। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই।
মিনায় শয়তানের দিকে (জামারায়) প্রতিটি পাথর ছুড়ে দেওয়ার সময় উচ্চস্বরে এটি বলতে হয়।
আরবি: اللَّهُ أَكْبَرُ
উচ্চারণ: আল্লাহু আকবার।
অর্থ: আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ।
হজ বা ওমরাহ শেষে অথবা নিয়মিত নামাজ শেষে মসজিদে হারাম থেকে বের হওয়ার সময় এই দোয়া পড়া সুন্নত।
আরবি: بِسْمِ اللهِ وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى رَسُولِ اللهِ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ
উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আলা রাসূলিল্লাহ, আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা মিন ফাদলিক।
অর্থ: আল্লাহর নামে (বের হচ্ছি), আল্লাহর রাসুলের ওপর দরুদ ও সালাম। হে আল্লাহ, আমি তোমার অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি।

ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের মধ্যে হজ অন্যতম। এটি এমন একটি ইবাদত, যাতে শারীরিক ও আর্থিক উভয় শ্রমের সমন্বয় রয়েছে। সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলিমের ওপর জীবনে একবার হজ পালন করা ফরজ।
৬ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
১০ ঘণ্টা আগে
কোনো কোনো অঞ্চলে এ কথা প্রচলিত আছে—কোরবানির ঈদের দিন হাঁস-মুরগি জবাই করা যায় না। এ বিষয়ে ইসলামের বিধান হলো, হাঁস-মুরগি দিয়ে কোরবানি আদায় হয় না, তা ঠিক। কিন্তু এগুলো কোরবানির ঈদের দিন জবাই করা যাবে না—এমন কথা ঠিক নয়। কোরবানির দিনগুলোয় মাংস খাওয়ার জন্য হাঁস-মুরগি জবাই করা যাবে।
১ দিন আগে
কিশোরগঞ্জ জেলার হাওরবেষ্টিত উপজেলা ইটনা। জল ও স্থলের এই মিতালির মাঝে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে মোগল স্থাপত্যশৈলীর এক বিস্ময়—‘ইটনা শাহি মসজিদ’। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে এটি ‘গায়েবি মসজিদ’ নামেই বেশি পরিচিত। উপজেলার সদর ইউনিয়নের বড়হাটি এলাকায় অবস্থিত মসজিদটি পর্যটক ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের...
১ দিন আগে