Ajker Patrika

বগুড়ায় বৃদ্ধকে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি  
বগুড়ায় বৃদ্ধকে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি গ্রেপ্তার
আনোয়ার মোল্লা। ছবি: সংগৃহীত

বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় করিম প্রামানিক ওরফে হাদু (৬৫) নামের এক বৃদ্ধকে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি আনোয়ার মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ভোরে উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের বরাইদহ খন্দকারপাড়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে দুপুরে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়। শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মইনুদ্দীন এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

এর আগে গতকাল বুধবার রাতে নিহত ব্যক্তির ভাই মো. শাহাদত প্রামানিক শেরপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামি হিসেবে আনোয়ার মোল্লা, হাফিজ মোল্লা, বাবু মোল্লা, মোমিন, সিহাব ও আমিনুর মোল্লার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

নিহত করিম প্রামানিক উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের বরাইদহ খন্দকারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি কৃষিকাজের পাশাপাশি দিনমজুরির কাজ করতেন। অভিযুক্ত ব্যক্তিরাও একই গ্রামের বাসিন্দা এবং নিহত ব্যক্তির দূরসম্পর্কের আত্মীয় বলে জানা গেছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, কাজের সুবাধে কাঠ ব্যবসায়ী আনোয়ার মোল্লার কাছে পাঁচ হাজার টাকা পাওনা ছিল করিম প্রামানিকের বড় ছেলে শফিকুল ইসলামের। ২১ এপ্রিল রাতে টাকা দেওয়ার কথা বলে আনোয়ার মোল্লা শফিকুল ইসলামকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে যান। এ সময় অন্য আসামিরা আগে থেকেই সেখানে অবস্থান করছিলেন। শফিক সেখানে গেলে তাঁকে আসামিরা গাছের ডাল দিতে এলোপাতাড়ি মারধর করতে থাকেন। ছেলের চিৎকার শুনে করিম প্রামানিক তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে যান। আনোয়ার মোল্লা হাতে থাকা লোহার শাবল দিয়ে করিম প্রামানিকের মাথায় আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর জখম হন। এ সময় অন্য আসামিরাও হামলায় অংশ নেন। বাবা ও ছেলের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে তাঁদের উদ্ধার করেন। পরে স্বজনেরা আহত দুজনকে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে করিম প্রামানিকের মাথায় পাঁচটি সেলাই দেওয়া হয়। পরদিন চিকিৎসা শেষে তাঁকে বাড়িতে বিশ্রামের পরামর্শ দিয়ে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। তবে বাড়িতে ফেরার পর ২২ এপ্রিল রাত পৌনে ১০টার দিকে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।

শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মইনুদ্দীন বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাটি হত্যা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরে অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি আনোয়ার মোল্লাকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত