Ajker Patrika

‘ভুলে’ ভোট দেওয়া হলো না মাজেদা খাতুনের, পোলিং কর্মকর্তা প্রত্যাহার

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি
‘ভুলে’ ভোট দেওয়া হলো না মাজেদা খাতুনের, পোলিং কর্মকর্তা প্রত্যাহার
আশুলিয়ায় ভোটকেন্দ্রে মাজেদা খাতুন। ছবি: আজকের পত্রিকা

আশুলিয়ায় মাজেদা খাতুন নামের এক বৃদ্ধা ভোটকেন্দ্রে এসে জানতে পারেন যে তাঁর ভোট দেওয়া হয়ে গেছে। শেষমেশ ভোট না দিয়েই ফিরতে হয়েছে তাঁকে। ওই ভোটকেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট প্রিসাইডিং কর্মকর্তা বলছেন, পোলিং কর্মকর্তার ভুলে ভোট দিতে পারেননি ওই বৃদ্ধা। এ ঘটনায় বিপারুল ইসলাম নামের এক পোলিং কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে ঢাকা-১৯ আসনের আশুলিয়ার দোসাইদ অধন্য কুমার স্কুল অ্যান্ড কলেজের (কেন্দ্র-১) মহিলা কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কেন্দ্রটির প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. সিদ্দিকুর রহমান জানান, মূলত ওই কর্মকর্তার (বিপারুল ইসলাম) অসতর্কতার কারণে, উনি হয়তো একজন ভোট দিতে আসছে, তাঁর সিরিয়ালে টিক না দিয়ে, অন্য সিরিয়ালে টিক দিয়ে ফেলেছেন। পরে যখন জাহানারা বেগম নামে একজন বয়স্ক নারী ভোট দিতে আসেন, দেখা গেছে তাঁর সিরিয়ালে টিক দেওয়া হয়ে গেছে, যার কারণে আর ওই ভদ্রমহিলার ভোটটি নেওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, এ ঘটনার পর সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্যরাও ঘটনাস্থলে এসে বিষয়টি তদন্ত করে গেছেন। মূলত এটি একটি মিসটেক। পরে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানোর পর তাঁদের পরামর্শে সংশ্লিষ্ট ওই কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এখানে কোনো অনিয়ম বা অন্য কোনো ঘটনা নেই।

বৃদ্ধার ভোট দেওয়ার আর কোনো সুযোগই কি ছিল না জানতে চাইলে মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘যেহেতু তাঁর সিরিয়ালে টিক চিহ্ন দেওয়া হয়ে গেছে, আমি কীভাবে আরেকটি ভোট নেব? কোনো সুযোগ নাই তো। তাঁর কাছে আমি সরি বলেছি। সরি বলে তাঁকে হাসিমুখে বিদায় করেছি। ভোটটা নিয়ে তো আরেকটা ভেজাল করতে পারি না।’

ভোটকেন্দ্রে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা হয় ভুক্তভোগী মাজেদা খাতুনের। ভোট দিতে না পারলেও তিনি চান তাঁর পছন্দের প্রার্থী যেন জয়লাভ করেন। তিনি বলেন, ‘আমি অনেক আশা কইরা আইছি, সবাই কইছে তুমি হাঁটতে পারো না, যাইয়ো না। আমি যাগোর লাইগা আইছি তারা যেন জিতে। আমি যেন তাগোর দ্বারা সাহায্য পাই।’

এ বিষয়ে ঢাকা-১৯ আসনের সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়া মাত্র অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এটি মূলত একটু ভুল ছিল, তবে এখানে কোনো অনিয়মের তথ্য বা প্রমাণ আমরা পাইনি।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত