Ajker Patrika

দুই যুগ পর ভোট চাইতে মাঠে নামলেন সালাহউদ্দিন, চকরিয়া থেকে প্রচারণা শুরু

কক্সবাজার প্রতিনিধি
দুই যুগ পর ভোট চাইতে মাঠে নামলেন সালাহউদ্দিন, চকরিয়া থেকে প্রচারণা শুরু
চকরিয়ার কোনাখালী ইউনিয়নে নির্বাচনী প্রচারণায় সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: আজকের পত্রিকা

জাতীয় রাজনীতিতে পরিচিত মুখ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ দীর্ঘ দুই যুগ পর নিজের জন্য ভোট চাইতে মাঠে নেমেছেন। আজ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকালে তিনি কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নে গণসংযোগের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করেছেন।

ভোটাররাও দীর্ঘদিন সালাহউদ্দিন আহমদকে কাছে পেয়ে নানা দাবিদাওয়া তুলে ধরছেন। জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদও অতীতের মতো তাঁকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করার আহ্বান জানান।

চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত কক্সবাজার-১ আসন। এ আসনে এখন মোট ভোটার ৫ লাখ ৩৩ হাজার ৮২ জন। এ আসনে সালাহউদ্দিন আহমদ সর্বশেষ ২০০১ সালে চারদলীয় জোটের প্রার্থী হয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমেদ সিআইপিকে প্রায় ৬০ হাজার ভোটে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। জোট সরকারের তিনি যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে সরকারি চাকরি ছেড়ে তিনি প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) থাকাকালে চকরিয়ার উন্নয়নে ভূমিকা রাখেন তিনি। সে সময় থেকে সালাহউদ্দিন আহমদ এলাকায় বেশ জনপ্রিয়। ২০০৭ সালে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তিনি কারাবন্দী হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে সালাহউদ্দিন আহমদ কারাগারে থাকা অবস্থায় তাঁর স্ত্রী হাসিনা আহমদ বিএনপির প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে আসনটি ধরে রাখেন। এরপর ২০১৫ সালের মার্চ মাসে ঢাকার একটি বাসা থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে তাঁকে তুলে নেওয়া হয়। প্রায় ৬১ দিন পর ভারতে মেঘালয় রাজ্যে তাঁর খোঁজ মেলে। দীর্ঘ ১০ বছর নির্বাসিত জীবন শেষে তিনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশে ফেরেন। দেশে ফিরেই সালাহউদ্দিন আহমদ জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় আছেন। গত ১৬ মাসে তিনি সময় পেলেই এলাকায় ছুটে এসেছেন। এর মধ্যে দুই উপজেলা চষে বেড়িয়েছেন।

চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক বলেন, চকরিয়া ও পেকুয়ার মানুষের কাছে সালাহউদ্দিন আহমদ বরাবরই জনপ্রিয়। তাঁর সময়ে পেকুয়া আলাদা উপজেলা গঠনসহ ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। যা এখনো দৃশ্যমান। ফলে ভোটাররা এবারও তাঁকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করবেন বলে মনে করেন তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদও জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। তিনি বলেন, চকরিয়া ও পেকুয়ার মানুষ তাঁকে ভালোবাসেন। বারবার ভোট দিয়ে জয়ী করেছেন, তাঁর অনুপস্থিতিতে স্ত্রীকেও ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছেন। এ ঋণ কোনোভাবে শোধ করার নয়। আল্লাহ মানুষের সেবা করার জন্য তাঁকে বাঁচিয়ে রেখেছেন বলে জানান তিনি।

বিএনপির প্রবীণ এই রাজনীতিকের সঙ্গে লড়াইয়ে আছেন জামায়াতে ইসলামীর তরুণ প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুখ। জামায়াতে ইসলামীর নেতারা বলেন, ১৯৯১ সালে এ আসনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও সাকা চৌধুরীর মতো হেভিওয়েট প্রার্থীকে হারিয়ে জামায়াতের প্রার্থী হয়ে এনামুল হক মঞ্জু সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

আবদুল্লাহ আল ফারুখ বলেন, ১৯৯১ সালের মতো পরিবর্তন, ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় ভোটাররা এবারও দাঁড়িপাল্লা মার্কা বেছে নেবেন। বিএনপি ও জামায়াতের দুই প্রার্থী ছাড়াও নির্বাচনী লড়াইয়ে আছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. ছরওয়ার আলম কুতুবী।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত