Ajker Patrika

টাঙ্গাইলে টাকা ধার না দেওয়ায় নারীকে হত্যা, মুয়াজ্জিনসহ গ্রেপ্তার ২

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি 
টাঙ্গাইলে টাকা ধার না দেওয়ায় নারীকে হত্যা, মুয়াজ্জিনসহ গ্রেপ্তার ২
গৃহবধূ হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তাররা। টাঙ্গাইল সদর থানায়। ছবি: আজকের পত্রিকা

টাঙ্গাইলে গৃহবধূ নাজমা আলম হত্যায় মসজিদের মুয়াজ্জিনসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, ঋণে জর্জরিত মুয়াজ্জিন মোশারফ হোসেন (৪২) নাজমার কাছে টাকা ধার চাইতে গিয়েছিলেন। ধার দিতে রাজি না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে নাজমাকে হত্যা করেন। আবার নাজমা আলমের লাশ উদ্ধারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন মোশারফ। আজ মঙ্গলবার দুপুরে সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ এস এম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

গ্রেপ্তার মোশারফ দেলদুয়ার উপজেলার মৃত মোতালেব সরকারের ছেলে। গ্রেপ্তার আরেকজন ব্যক্তি হলেন, স্বর্ণ ব্যবসায়ী সন্তোষ কর্মকার (৪৫)। তাঁদের কাছ থেকে চুরি হওয়া স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা এবং ঘটনার আলামত উদ্ধার করা হয়। আজ মঙ্গলবার দুপুরে আসামিদের টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হয়।

এর আগে গত রোববার সকালে টাঙ্গাইল পৌরসভার বিশ্বাসবেতকা এলাকায় নিজ বাড়িতে গৃহবধূ নাজমা আলমের হাত-পা বাঁধা ও রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী জানান, নাজমা আলমের লাশ উদ্ধারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গ্রেপ্তার মোশারফ হোসেন হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছিলেন। মোশারফের সঙ্গে নাজমা আলমের পরিবারের দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে যোগাযোগ রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে মোশারফ হোসেন ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। বিভিন্ন সময়ে নাজমা আলমের কাছ থেকে ঋণ নিয়েছেন তিনি। পরবর্তী সময়ে বিভিন্নজনের কাছ থেকে ঋণ করেন এবং এনজিওর কাছ থেকে ঋণ করে ওই টাকা পরিশোধ করেছেন। তিনি আবার টাকা চাইলে নাজমা আলম টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ সময় ক্ষুব্ধ হয়ে মোশারফ হোসেন পাশের ঘর থেকে হাতুড়ি এনে তাঁর মাথায় আঘাত করেন। পরে নাজমার হাতে ও গলায় থাকা স্বর্ণালংকার নেওয়ার চেষ্টা করলে নাজমা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় মোশারফ নাজমাকে আবার হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করেন এবং সিসি ক্যামেরা ভেঙে ফেলেন। পরবর্তী সময়ে মোশারফ স্বর্ণসহ হাতুড়ি ও সিসি ক্যামেরার ডিভিডি সঙ্গে করে নিয়ে যান।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও সোর্সের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটনের চেষ্টা করেছি। হত্যাকাণ্ডের সময় মৃতের গলার স্বর্ণের চেইন ও হাতের বালা নিয়ে যাওয়া হয়। প্রথমে স্বর্ণ ব্যবসায়ী সন্তোষ কর্মকারকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার সন্ধ্যায় হত্যাকারী মোশারফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত