Ajker Patrika

চট্টগ্রাম-৪ আসন: প্রার্থী ৯ জন, লড়াই দুজনের

  • বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থী ছাড়া অন্যদের প্রচার কম
  • দুই প্রার্থী সংবাদ সম্মেলন করে প্রার্থিতার জানান দিয়েছেন
সবুজ শর্মা শাকিল, সীতাকুণ্ড 
চট্টগ্রাম-৪ আসন: প্রার্থী ৯ জন, লড়াই দুজনের

চট্টগ্রাম-৪ আসনটি সীতাকুণ্ড উপজেলা এবং নগরীর কিছু অংশ (আকবর শাহ-পাহাড়তলী আংশিক) নিয়ে গঠিত। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে প্রার্থী হয়েছেন ৯ জন। প্রার্থীরা নানা ধরনের প্রচারণার মাধ্যমে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করছেন। তবে শেষ পর্যন্ত বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীর মধ্যে লড়াই হবে বলে মনে করছে বোদ্ধামহল।

আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী, জামায়াতের আনোয়ার সিদ্দিকী চৌধুরী, ইসলামী আন্দোলনের দিদারুল মাওলা, গণঅধিকার পরিষদের এ টি এম পারভেজ, ইসলামিক ফ্রন্টের মো. সিরাজউদ্দৌলা, সিপিবির মো. মছিউদদৌলা, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির শহিদুল ইসলাম চৌধুরী, গণসংহতি আন্দোলনের জাহিদুল আলম ও নেজামে ইসলাম পার্টির জাকারিয়া খালেদ।

নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর দিন থেকে প্রার্থীরা প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার একটি পৌরসভা ও নয়টি ইউনিয়নের ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন। করছেন উঠান বৈঠক। ভোটারদের আকৃষ্ট করতে দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। তবে এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ না থাকায় অনেকটা নীরব রয়েছে তাদের কর্মী-সমর্থকেরা। এই সমর্থকদের ভোট টানতে নানা রকম কৌশল অবলম্বন করেছেন বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থীরা।

বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে প্রয়োজনমতো সব এলাকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা। সীতাকুণ্ড একটি সম্ভাবনাময় এলাকা। এখানে কৃষির সঙ্গে শিল্পের সমন্বয় ঘটানো গেলে পুরো সীতাকুণ্ডের চেহারাই বদলে যাবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন এলে অনেকেই মিথ্যা আশ্বাসের বুলি ছাড়েন। আমি সেটাতে অভ্যস্ত নই। তা ছাড়া প্রতিপক্ষ প্রার্থীদেরও আমি সম্মান করি। আর তাই এখন পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে আমি কোনো বিরূপ মন্তব্য করিনি। এটিই আমাদের রাজনৈতিক শিষ্টাচার। আমি সবাইকে আহ্বান জানাব, নেতিবাচক প্রচার ছেড়ে ইতিবাচক হোন, নিজের যোগ্যতা ও পরিকল্পনা উপস্থাপন করুন। এতে সবার মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্প্রীতি বজায় থাকবে।’

তবে এই আসনে বিএনপির শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছেন জামায়াতের আনোয়ার সিদ্দিকী চৌধুরী। বর্তমানে উত্তর জেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত তিনি। জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব মোহাম্মদ তাহের বলেন, সীতাকুণ্ডের ভোটাররা বিগত সময়ে অনেককে প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করলেও তাঁরা সীতাকুণ্ডের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নে তেমন ভূমিকা রাখেননি। ফলে অবহেলিত জনগোষ্ঠীর ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি।

এই দুই প্রার্থীর বাইরে অন্য প্রার্থীদের গণসংযোগ কিংবা প্রচার খুব একটা নেই। তবে সম্প্রতি কাস্তে প্রতীকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা কমিউনিস্ট প্রার্থী মো. মছিউদদৌলা ও একতারা প্রতীকে বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির প্রার্থী শহিদুল ইসলাম চৌধুরী সীতাকুণ্ড প্রেসক্লাবে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে নির্বাচনের জানান দেন।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সীতাকুণ্ড উপজেলা ইউএনও মো. ফখরুল ইসলাম জানান, নির্বাচন ঘিরে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার কাজ চলছে। সে সঙ্গে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন পরিচালনায় প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত