Ajker Patrika

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম: সড়কবিহীন ৬৭ লাখের সেতু

মো. ফরিদ রায়হান, অষ্টগ্রাম (কিশোরগঞ্জ)
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম: সড়কবিহীন ৬৭ লাখের সেতু
দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় কোনো কাজে আসছে না সেতু। সম্প্রতি কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামের কাস্তুল ইউনিয়নের ব্রহ্মপুরা খালে। ছবি: আজকের পত্রিকা

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে খালের ওপর নির্মিত ৬৭ লাখ টাকার একটি গার্ডার সেতু পাঁচ বছরেও মানুষের ব্যবহারে আসেনি। সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় এটি এখন কার্যত অকার্যকর। কাজ শেষ না করেই বিল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জামানতের টাকা আটকে রেখেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অধিদপ্তর (পিআইও। দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, উপজেলার কাস্তুল ইউনিয়নের ব্রহ্মপুরা খালে নির্মিত সেতুটির দুই পাশে কোনো সড়ক নেই। স্ল্যাব ও ইট দিয়ে বানানো ঢিবি বেয়ে সেতুতে উঠতে হয়। এতে বয়স্ক ও শিশুরা প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হন। বর্ষায় পথ তলিয়ে যায়। সেতুর দক্ষিণ পাশে সরকারি রেকর্ডভুক্ত কোনো রাস্তা নেই, উত্তর দিকে রয়েছে, তবে সেটি কাঁচা ডুবো রাস্তা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, শুরু থেকেই সেতুটি অব্যবহৃত। সেতুর পশ্চিম-উত্তরে তিন থেকে চার শ ফুট দূরে ব্রহ্মপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে একই খালে আরেকটি সেতু আছে। তারপরও কাগজে খালের দুই পাশে সড়ক দেখিয়ে নতুন এই সেতু নির্মাণ করা হয়।

গ্রামবাসীর অভিযোগ, রাস্তা ছাড়া খালের মাঝে সেতু নির্মাণ সরকারি টাকার অপচয়। ২০২২ সালে নির্মিত সেতু এখনো সংযোগ সড়কের অভাবে ব্যবহারযোগ্য হয়নি। কাজ শেষ না করে ঠিকাদার কীভাবে বিল তুলেছেন, তা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

পিআইও সূত্র জানায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘গ্রামীণ রাস্তায় ১৫ মিটার পর্যন্ত সেতু বা কালভার্ট নির্মাণ’ প্রকল্পের আওতায় ২০২১-২২ অর্থবছরে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। প্রকল্প অনুযায়ী কাস্তুল বাহাদুরপুর গ্রামের রশিদ মেম্বারের বাড়ির সামনে খালের ওপর সেতু নির্মাণের কথা ছিল।

কার্যাদেশ পায় বাজিতপুর উপজেলার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মেরিন এন্টারপ্রাইজ, প্রাক্কলিত ব্যয় ৬৭ লাখ ৩০ হাজার ৬৫৬ টাকা এবং চুক্তিমূল্য প্রায় ৬৩ লাখ ৯৪ হাজার ১২২ টাকা। তবে ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটি নির্মাণ করেন অষ্টগ্রামের প্রিয়াঙ্কা এন্টারপ্রাইজের মালিক বিশ্বর দেবনাথ।

ব্রহ্মপাড়ার বাসিন্দা সেলু মিয়া বলেন, মানুষের সুবিধার জন্য যে সেতু নির্মাণ করা হয়েছে, সেখানে উঠতেই কষ্ট। বর্ষায় নৌকাও ঢুকতে পারে না। আগে অবস্থা ভালো ছিল। দ্রুত সড়ক করা দরকার।

কাস্তুল গ্রামের বাসিন্দা তাইফুর রহমান শুভ বলেন, ‘খালের দক্ষিণ পাশে সরকারি রাস্তা নেই। আমার জমি দিয়ে মানুষ হাঁটে। সেখানে কেন এত টাকার সেতু করা হলো জানি না। সেতুটি কোনো কাজে আসছে না।’

জানতে চাইলে অভিযুক্ত ঠিকাদার বিশ্বর দেবনাথ বলেন, ‘অ্যাপ্রোচ সড়ক করা হয়েছিল, বর্ষার পানিতে মাটি সরে গেছে। দ্রুত বাকি কাজ শেষ করা হবে।’ এ বিষয়ে অষ্টগ্রাম উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মজনু মিয়া বলেন, হাওর এলাকার প্রাকৃতিক দুর্যোগে সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেরামত না করায় তাদের জামানতের টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি। তিন মাস আগে অ্যাপ্রোচ সড়ক মেরামতের জন্য ঠিকাদারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত