Ajker Patrika

মদ্যপান ও বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, যুগলকে ১৪০ বার দোররা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬: ১৯
মদ্যপান ও বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, যুগলকে ১৪০ বার দোররা
ইন্দোনেশিয়ায় এক যুগলকে বিবাহবহির্ভূত যৌন সম্পর্কের অপরাধে ১৪০ বার দোররা দিয়ে প্রহার করা হয়েছে। ছবি: এএফপি

ইন্দোনেশিয়ায় এক যুগলকে বিবাহবহির্ভূত যৌন সম্পর্ক এবং মদ্যপানের অপরাধে ১৪০ বার দোররা মারা তথা বেত্রাঘাত করা হয়েছে। দেশটির শরিয়া বা ইসলামি ধর্মীয় আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তাদের এই শাস্তি দেওয়া হয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২১ বছর বয়সী ওই নারীকে তিন নারী কর্মকর্তা পালাক্রমে দোররা মারেন। বেত্রাঘাতের সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং একপর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তিনি লুটিয়ে পড়লে নারী কর্মকর্তারা তাঁকে তুলে অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে যান।

গতকাল বৃহস্পতিবার ওই যুগলর সঙ্গে আরও চারজনকে প্রকাশ্যে বেত্রাঘাত করা হয়। এদের মধ্যে ইসলামি পুলিশ বাহিনীর একজন কর্মকর্তাও ছিলেন। শরিয়া আইন ভঙ্গের দায়ে সবাইকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

ধর্মীয়ভাবে রক্ষণশীল আচেহ প্রদেশে ইসলামি আইন ভঙ্গের শাস্তি হিসেবে বেত্রাঘাত প্রচলিত ব্যবস্থা। তবে দীর্ঘদিন ধরেই মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই শাস্তির সমালোচনা করে আসছে। তাদের মতে, এই পদ্ধতি নিষ্ঠুর। আচেহের ইসলামি ফৌজদারি আইনে বলা আছে, বিয়ের বাইরে যৌন সম্পর্কের শাস্তি হিসেবে ১০০ বার বেত্রাঘাত করা হয় এবং মদ্যপানের অপরাধে ৪০ বার বেত্রাঘাতের বিধান রয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার মানবাধিকার সংগঠন কনত্রাসের আচেহ সমন্বয়ক আজহারুল হুসনা বলেন, বেত্রাঘাতের প্রক্রিয়া যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রিত নয়। তিনি বলেন, যারা বেত্রাঘাতের শিকার হন, শাস্তির পর তাদের সহায়তার জন্য এই নিয়মগুলো আরও উন্নত করা উচিত।

ইসলামি পুলিশ বাহিনীর ওই কর্মকর্তাকে ২৩ বার বেত্রাঘাত করা হয়। একই শাস্তি দেওয়া হয় তার নারী সঙ্গীকেও। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তারা একটি উন্মুক্ত স্থানে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় ছিলেন। আচেহের ইসলামি পুলিশ বাহিনীর প্রধান মুহাম্মদ রিজাল বিবিসি ইন্দোনেশিয়াকে বলেন, ওই কর্মকর্তাকে নারীটির বাড়িতে তার সঙ্গে একা অবস্থায় ধরা হয়েছিল। তিনি আরও জানান, ওই কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে।

মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ ইন্দোনেশিয়ার একমাত্র প্রদেশ হিসেবে আচেহেই শরিয়া আইন কার্যকর রয়েছে। এই আইনের আওতায় বহু অপরাধের শাস্তি হিসেবে প্রকাশ্যে বেত্রাঘাত করা হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত